যুদ্ধবিরতির পর সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করা বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ হরমুজ প্রণালি পার হতে না পেরে বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মিনা সাকার বন্দরের জলসীমার বাইরে নোঙর করে অবস্থান করছে।
জাহাজটিতে ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক রয়েছেন। তারা বর্তমানে নিরাপদে আছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
জাহাজের ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম জানান, “আমরা আরব আমিরাতের বন্দরের জলসীমার বাইরে অবস্থান করছি। ইরানি কর্তৃপক্ষের অনুমতি না মেলায় হরমুজ প্রণালি পার হতে পারছি না।”
রাষ্ট্রায়ত্ত বিএসসির মালিকানাধীন এই জাহাজটি বুধবার (বাংলাদেশ সময়) ভোরে রাস আল খাইর বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে। এতে ৩৭ হাজার টন সার ছিল এবং পরবর্তী গন্তব্য ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন ও ডারবান।
পথে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে জাহাজটি হরমুজ প্রণালির প্রায় ৬০ নটিক্যাল মাইল দূরে পৌঁছায়। তবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ক্লিয়ারেন্স না মেলায় এটি অগ্রসর হতে পারেনি। পরে নিরাপত্তাজনিত কারণে জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের মিনা সাকার বন্দরের কাছে সরে এসে অবস্থান নেয়।
চিফ ইঞ্জিনিয়ার মো. রাশেদুল হাসান বলেন, “আমরা বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হরমুজ পার হতে চেয়েছিলাম, কিন্তু অনুমতি মেলেনি। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আমরা মিনা সাকার জলসীমার কাছে নোঙর করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “যুদ্ধবিরতি থাকলেও কেন অনুমতি দেওয়া হয়নি তা আমরা জানতে পারিনি। অনুমতি মিললে আমরা আবার যাত্রা শুরু করব।”
জাহাজে থাকা নাবিকদের জন্য পর্যাপ্ত খাবার, পানি ও জ্বালানি মজুদ রয়েছে বলেও তিনি জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, যেকোনো পরিস্থিতির জন্য নাবিকরা প্রস্তুত রয়েছেন।
জানা গেছে, জাহাজটি গত ২৬ জানুয়ারি মধ্যপ্চ্যের জলসীমায় প্রবেশ করে এবং বিভিন্ন বন্দরে পণ্য পরিবহন করে। পরবর্তীতে কাতারের মেসাইদ বন্দর থেকে স্টিল কয়েল নিয়ে দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দরে আসে।
পরে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এর রুট পরিবর্তন ও পণ্য খালাসে বিলম্ব হয়। এক পর্যায়ে নিরাপত্তাজনিত জটিলতা তৈরি হলে জাহাজটি বিভিন্ন সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জলসীমায় অবস্থান করতে বাধ্য হয়।
বর্তমানে অনুমতির অপেক্ষায় হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি অবস্থান করছে ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’, আর নাবিকরা নতুন নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছেন।
আর এইচ