দক্ষিণ পূর্ব

অপহরণের শিকার সেই শিবির নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা

Riayad
Riayad
প্রকাশ : ১৩ জুন ২০২৬
পঠিত :
অপহরণের শিকার সেই শিবির নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা

ছবি সংগৃহীত

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানকে ঘিরে আলোচিত ‘অপহরণ’ ঘটনার ভিন্ন তথ্য দিয়েছে পুলিশ। জিসানকে কেউ অপহরণ করেনি, বরং তিনি স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে কুমিল্লা জেলা পুলিশ। এদিকে তাকে প্রধান আসামি করে ধর্ষণ, ধর্ষণে সহায়তা ও ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এক নারী।

 

শুক্রবার (১২ জুন) রাত ১০টার দিকে জেলার লাকসাম থেকে জিসানকে উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারের পর তিনি দাবি করেছিলেন, অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তাকে গাড়িযোগে অপহরণ করেছিল।

 

তবে শনিবার কুমিল্লা জেলা পুলিশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তদন্তে অপহরণের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। জিসান নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন।

 

পুলিশ জানায়, গত ২০ মে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দাউদকান্দির একটি ভাড়া বাসায় ওই নারীকে ধর্ষণ করেন জিসান। পরে নারীটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে ওষুধের মাধ্যমে তার ভ্রূণ নষ্ট করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর নারীটি বিয়ের জন্য চাপ দিলে শুক্রবার বিয়ে করার আশ্বাস দেন জিসান। কিন্তু বিয়ে এড়াতে বৃহস্পতিবার তিনি আত্মগোপনে যান এবং পরে তার চাচাতো ভাই রাসেল আহাম্মদের মাধ্যমে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করান।

 

পুলিশের ভাষ্য, জিসানের নাটকীয় ‘উদ্ধার’ হওয়ার খবর জানার পর শুক্রবার রাতে ওই নারী বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় জিসানকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।

 

কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, “নিখোঁজ শিবির নেতাকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে কেউ অপহরণ করেনি। এক নারীর সঙ্গে প্রতারণামূলক ঘটনার জেরে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। ওই নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। মামলায় ভ্রূণ নষ্টসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে।”

 

এর আগে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে জিসানকে উদ্ধার করে লাকসাম ক্রসিং থানা পুলিশ।

 

জিসান মিয়া প্রধান বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক এবং সংগঠনটির কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি।

 

আর এইচ 

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।