মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন, আনোয়ারা
শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা -কর্ণফুলি) আসনে সরগরম হয়ে উঠেছে রাজনীতি। পূজামণ্ডপে নেতাদের আনাগোনা, শুভেচ্ছা বিতরণ এবং নানা প্রতিশ্রুতিতে স্পষ্ট হয়ে উঠছে আসন্ন নির্বাচনের ইঙ্গিত। নির্বাচনের আগে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মন জয় করতে রাজনৈতিক দলগুলো সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে প্রতিদিন ভিড় করছেন বিএনপি, জামায়াত, এনসিপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।তাদের সাথে থাকেন স্থানীয় নেতারা। পূজার আয়োজকদের সঙ্গে কুশল বিনিময়, পূজার্থীদের উপহার বিতরণ, এমনকি ভবিষ্যৎ উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছেন কেউ কেউ।
গত তিনদিন ধরে বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করতে দেখা গেছে, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য এবং তিনবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম , বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একক প্রার্থী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান চৌধুরী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব লায়ন মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন , বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র সদস্য খোরশেদুল আলম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবদলের সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহান, এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য জুবাইরুল আলম মানিক।
আনোয়ারা কচিকাঁচা গোষ্ঠী সার্বজনীন দূর্গা পূজামণ্ডপের সভাপতি তাপস চৌধুরী বলেন, “আমরা চাই উৎসব ধর্মীয় আনন্দে সীমাবদ্ধ থাকুক। কিন্তু নির্বাচনের আগে এখানে রাজনৈতিক নেতাদের ভিড় বেড়ে গেছে। শুভেচ্ছা জানানো ভালো, তবে এর সঙ্গে ভোটের রংও লেগে যাচ্ছে।”
অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় রাজনৈতিক নেতার দাবি, “জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা আমাদের দায়িত্ব। পূজার সময় পাশে দাঁড়ানো কোনো রাজনৈতিক প্রদর্শনী নয়, বরং জনসেবার অংশ।”
স্থানীয় সচেতন নাগরিক মহলের সদস্য এ্যাডভোকেট বিজয় দাশ বলছেন, আনোয়ারায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভোট সংখ্যা উপেক্ষা করার মতো নয়। তাই প্রতিটি রাজনৈতিক দলই তাদের কাছে পৌঁছাতে চাইছে। পূজা উৎসব সেই সুযোগ করে দিয়েছে। ফলে মণ্ডপ ঘিরে রাজনৈতিক কর্মসূচির সংখ্যাও বেড়ে গেছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টহল দিচ্ছে। তবে উৎসবের ভিড়ের মধ্যে রাজনৈতিক নেতাদের কার্যক্রমে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
আরতি দাশ নামে এক পূজার্থী বলেন, “আমরা চাই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা হোক। রাজনীতি হোক নির্বাচনের মাঠে, মণ্ডপে নয়।”
অন্যদিকে স্থানীয় পিকু দত্ত নামে পূজার্থী বলেন, “নেতারা আসুক, শুভেচ্ছা জানাক—এতে খারাপ কিছু নেই। তবে আমাদের মনে হয় এটার সঙ্গে নির্বাচনের হিসাবও জড়িয়ে আছে।”
আনোয়ারা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মনির হোসেন বলেন, উপজেলার শারদীয় দুর্গাপূজায় ১১৪টি পূজামন্ডপে সার্বজনীন এবং ১৮৫টি ঘটপূজার আয়োজন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসব পূজামন্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারির ব্যবস্থা থাকছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।আগামীকাল ২ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে দেবী বিসর্জনের মধ্যদিয়ে শেষ হবে দুর্গোৎসব।