আনোয়ারা উপজেলার চেনামতি এলাকায় সংঘটিত আলোচিত মা-মেয়ে হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করে একমাত্র আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। ২৪ জুন মামলা দায়েরের মাত্র ১০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে চার্জশিট জমা দেয়।
মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১৩ জুন রাতে উপজেলার ৯ নম্বর পরৈকড়া ইউনিয়নের চেনামতি গ্রামে নিজ বাড়িতে এনি বড়ুয়া ও তাঁর মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়াকে নৃশংসভাবে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। এ সময় অর্ক বড়ুয়া নামে এক শিশু গুরুতর আহত হয়।
ঘটনার খবর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে পেয়ে আনোয়ারা থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। পরে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সহযোগিতায় একাধিক টিম মাঠে নামে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং নিবিড় অনুসন্ধানের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত রিমন বড়ুয়া ওরফে তেজপ্রিয় বড়ুয়াকে শনাক্ত করা হয়। পরদিন ১৪ জুন পটিয়া রেলস্টেশন এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন পটিয়া রেলস্টেশনের পাশের একটি ডোবা থেকে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি ঘটনাস্থলসংলগ্ন চানখালী খাল থেকে উদ্ধার করে। তদন্তে নিহত এনি বড়ুয়ার মৃত্যুকালীন জবানবন্দি সংবলিত একটি ভিডিওও গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে যুক্ত করা হয়।
তদন্ত চলাকালে চারজন পুলিশ সদস্যসহ মোট ২২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পোস্টমর্টেম প্রতিবেদনে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে এনি বড়ুয়া ও প্রিয়ন্তী বড়ুয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। অন্যদিকে আহত অর্ক বড়ুয়ার চিকিৎসা প্রতিবেদনে তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাতের তথ্য উঠে এসেছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ জুয়েল মিয়া সাক্ষ্য-প্রমাণ, আলামত, মেডিকেল ও পোস্টমর্টেম রিপোর্ট এবং আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিসহ সব তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে তদন্ত সম্পন্ন করেন। পরে রিমন বড়ুয়া ওরফে তেজপ্রিয় বড়ুয়ার বিরুদ্ধে আদালতে দাখিল করা হয়।
এসআই (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ জুয়েল মিয়া জানান , পেশাদার ও প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, আসামি গ্রেপ্তার এবং গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার সম্ভব হয়েছে। ফলে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার পথ সুগম হয়েছে।
আর এইচ