দক্ষিণ পূর্ব

আনোয়ারা থেকে সীতাকুণ্ড-এক পরিকল্পনায় বৃহত্তর চট্টগ্রাম, জনমতের পরই চূড়ান্ত মহাপরিকল্পনা

Riayad
Riayad
প্রকাশ : ১ আগস্ট ২০২৬
পঠিত :
আনোয়ারা থেকে সীতাকুণ্ড-এক পরিকল্পনায় বৃহত্তর চট্টগ্রাম, জনমতের পরই চূড়ান্ত মহাপরিকল্পনা

ছবি সংগৃহীত

পরিকল্পিত, নান্দনিক ও বাসযোগ্য মহানগর গড়ে তুলতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকার জন্য নতুন মাস্টারপ্ল্যানের খসড়া প্রণয়ন করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। এ খসড়া পরিকল্পনার ওপর আগামী ২ আগস্ট থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬০ দিন নাগরিকদের মতামত, আপত্তি, সুপারিশ ও সংশোধনী প্রস্তাব আহ্বান করা হয়েছে।

 

শনিবার (১ আগস্ট) সিডিএ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

 

সংবাদ সম্মেলনে প্রকল্প পরিচালক মো. আবু মুছা আনছারী নতুন মাস্টারপ্ল্যানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। এতে সভাপতিত্ব করেন সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন। এ সময় সিডিএর বোর্ড সদস্য এস এম জাহিদুল করিম, স্থপতি ফারুক আহমেদ, প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন, মো. নজরুল ইসলাম, সার্বক্ষণিক সদস্য মো. জামিলুর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল, সচিব মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম এবং তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ এম হাবিবুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পূর্ববর্তী পরিকল্পনাগুলোর বাস্তবায়নের সীমাবদ্ধতা, নগরায়নের চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় রেখে ২৫ বছর মেয়াদি এ মাস্টারপ্ল্যানের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে ভূমি ব্যবহার, যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থা, জলাবদ্ধতা নিরসন, আবাসন, পরিবেশ সংরক্ষণ, পাহাড়, নদী, খাল, পুকুর ও জলাশয় রক্ষা এবং শিল্প ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বিত উন্নয়নের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

 

নতুন পরিকল্পনায় চট্টগ্রাম নগরের সীমানা সম্প্রসারণ করে আনোয়ারা, পটিয়া, রাউজান, হাটহাজারী ও সীতাকুণ্ডসহ পার্শ্ববর্তী বিস্তীর্ণ এলাকাকে পরিকল্পনার আওতায় আনা হয়েছে। এসব এলাকায় যে কোনো সংস্থা ভবন নির্মাণ বা উন্নয়ন পরিকল্পনা অনুমোদনের ক্ষেত্রে মাস্টারপ্ল্যানের প্রস্তাবনা ও নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে হবে।

 

মহানগরীর ওপর জনসংখ্যা ও অবকাঠামোগত চাপ কমাতে পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলোতে পরিকল্পিত **মিনি সিটি ও স্যাটেলাইট টাউন গড়ে তোলার প্রস্তাবও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

 

সিডিএ জানিয়েছে, নাগরিকরা সিডিএ ভবনের চতুর্থ তলার হলরুমে গিয়ে খসড়া মাস্টারপ্ল্যান, সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন ও মানচিত্র সরাসরি পরিদর্শন করতে পারবেন। এছাড়া সিডিএ এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনেও মতামত, আপত্তি ও সুপারিশ জমা দেওয়া যাবে।

 

সংবাদ সম্মেলনে সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, "এটি সিডিএর চতুর্থ এবং ২৫ বছর মেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান। চট্টগ্রামের মানুষ কেমন নগর চান, কোথায় কী সমস্যা রয়েছে এবং ভবিষ্যতের চট্টগ্রাম কেমন হওয়া উচিত—সেসব বিষয়ে নাগরিকদের মতামতের ভিত্তিতেই খসড়া পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত করা হবে।"

 

তিনি আরও বলেন, "নিয়ম ও পরিকল্পনার ব্যত্যয়ের কারণে আমরা একটি পরিকল্পিত ও কাঙ্ক্ষিত চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে পারিনি। শুধু পরিকল্পনা করলেই হবে না, নাগরিকদের সচেতন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।"

 

আরএইচ 

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।