দক্ষিণ পূর্ব

আবেদনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ২০০ প্রতিবন্ধীর হাতে ত্রাণ পৌঁছে দিলেন জেলা প্রশাসক

Riayad
Riayad
প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০২৬
পঠিত :
আবেদনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ২০০ প্রতিবন্ধীর হাতে ত্রাণ  পৌঁছে  দিলেন জেলা প্রশাসক

ছবি সংগৃহীত

একটি লিখিত আবেদন পাওয়ার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে বন্যাদুর্গত ২০০ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের জন্য জরুরি ত্রাণের ব্যবস্থা করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। শুধু ত্রাণ বরাদ্দ অনুমোদনেই সীমাবদ্ধ থাকেননি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা; ব্যস্ত কর্মসূচির মধ্যেও নিজে উপস্থিত থেকে উপকারভোগীদের হাতে ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন।

 

সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে নগরীর লালখানবাজারের শহীদ নগর সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় বন্যাদুর্গত ২০০ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের মধ্যে জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

 

এর আগে রোববার (১৯ জুলাই) সামাজিক সেবামূলক সংস্থা ডিজএ্যাবল্ড ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার (ডিডিআরসি)-এর নির্বাহী পরিচালক শহীদুল ইসলাম সাজ্জাদ জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতিক বন্যায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, শিশু ও যুবকদের অনেকেই সাধারণ ত্রাণকেন্দ্রে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে খাদ্য সহায়তা নিতে পারছেন না। তাই তাঁদের জন্য জরুরি খাদ্যসহায়তা প্রয়োজন।

 

আবেদন পাওয়ার পরপরই জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি তিনি নিজেও ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার সিদ্ধান্ত নেন।

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন শিশু, নারী, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা। তাই তাঁদের বিষয়ে আবেদন পাওয়ার পর দেরি না করে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়াকেই প্রশাসনের দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

 

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বন্যা মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী, র‍্যাব, বিজিবি, পুলিশ, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করেছে। সম্মিলিত এই উদ্যোগের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

 

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, “আমরা একটি মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। প্রতিবন্ধী বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের বাদ দিয়ে সেই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। রাষ্ট্রের প্রতিটি সেবায় তাঁদের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।”

ডিডিআরসির নির্বাহী পরিচালক শহীদুল ইসলাম সাজ্জাদ জেলা প্রশাসকের তাৎক্ষণিক সাড়ার প্রশংসা করে বলেন, আবেদন পাওয়ার পরপরই জেলা প্রশাসক সহায়তার আশ্বাস দেন এবং ব্যস্ততার মধ্যেও নিজে উপস্থিত হয়ে ত্রাণ বিতরণ করেন। মানুষের কল্যাণে তাঁর আন্তরিকতা ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ সত্যিই প্রশংসনীয়। 

 

জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের সহায়তায় বিতরণ করা ২০০টি ত্রাণ প্যাকেটের প্রতিটিতে ছিল ৫ কেজি চাল, ১ কেজি ডাল, ১ লিটার ভোজ্যতেল, ২ কেজি চিড়া, ১ কেজি চিনি, ফ্যামিলি সাইজের বিস্কুট, ৫ লিটার বিশুদ্ধ পানি, মোমবাতি, লাইটার, ওরস্যালাইন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ।

 

ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিনসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ডিডিআরসি ও জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

সাম্প্রতিক বন্যায় উদ্ধার, আশ্রয়, চিকিৎসা, খাদ্য সহায়তা ও পুনর্বাসনের পাশাপাশি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের জন্য পৃথক সহায়তার এই উদ্যোগকে জেলা প্রশাসনের মানবিক কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

আরএইচ 

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।