চট্টগ্রামের আনোয়ারায় গড়ে ওঠা চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলকে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই শিল্পনগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ‘চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চলের জন্য সহায়ক অবকাঠামো প্রকল্প’ অনুমোদনের সময় তিনি এ নির্দেশনা দেন। পরিবেশগত সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার এবং প্রকল্পে টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার শর্তে প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
সভা শেষে রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, শিল্পায়নের গতি বাড়ানো এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে প্রায় ৪ হাজার ১৮৯ কোটি ৪৫ লাখ ৯৭ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি অনুমোদন পেয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন থাকবে ১ হাজার ৭২২ কোটি ১৯ লাখ ৮৫ হাজার টাকা এবং বাকি ২ হাজার ৪৬৭ কোটি ২৬ লাখ ১২ হাজার টাকা আসবে ঋণ ও অনুদান থেকে।
প্রকল্প প্রস্তাব পর্যালোচনার সময় প্রধানমন্ত্রী পরিবেশ সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি আধুনিক পরিবেশগত মানদণ্ড অনুসরণ করে শিল্পবর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলেন।
এছাড়া একটি আধুনিক বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) স্থাপনের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, শোধিত পানি যেন পুনরায় ব্যবহারযোগ্য করা হয় এবং শিল্পাঞ্চলের পানি ব্যবস্থাপনায় পুনর্ব্যবহার পদ্ধতি নিশ্চিত করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পের মূল নকশা ও পরিকল্পনায় বিদ্যমান পরিবেশগত ঘাটতি দূর করার ওপরও জোর দেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে পরিবেশ সুরক্ষার সব বিষয় নিশ্চিত করতে হবে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে পুরো শিল্পাঞ্চলে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের বিষয়টি বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন স্থাপনায় সৌর প্যানেল স্থাপন করে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণের তাগিদ দেন তিনি।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, উন্নত পানি শোধন ও পুনর্ব্যবহার সুবিধা এবং সৌরভিত্তিক জ্বালানি ব্যবস্থার মতো পরিবেশবান্ধব উপাদানগুলো বাস্তবায়নের শর্তেই প্রকল্পটি অনুমোদন পেয়েছে।
তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের চূড়ান্ত নকশা ও কর্মপরিকল্পনায় এসব নির্দেশনার পূর্ণ প্রতিফলন থাকতে হবে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে পরিবেশগত মান বজায় রেখে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
আরএইচ