আ জ ম ওবায়েদুল্লাহ'র জীবন ও কর্ম পরিশীলিত এবং দেশপ্রেমিক প্রজন্ম তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ
ড. আ জ ম ওবায়েদুল্লার জীবন ও কর্ম ছিলো বৈচিত্রে ভরা। তাঁর প্রতিটি কর্ম ও জীবনাচার অনুসরণ করার মতো। তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপে দেশপ্রেম, মানবিকতার জয়গান ছিলো। তাঁর জীবনকে পড়া যাবে একটি পরিপূর্ণ উপন্যাস হিসেবে।
শনিবার (৩০ মে) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের জুলাই বিপ্লব হলে আয়োজিত "আমাদের ওবায়েদ ভাই" শীর্ষক স্মরণ সভায় এসব কথা বলেন প্রধান অতিথি মহানগর জামায়াতের আমীর মাওলানা শাহজাহান চৌধুরী। চট্টগ্রাম সংস্কৃতি কেন্দ্র ওই স্মরণ সভার আয়োজন করে।
"আমার শিশু আন্দোলনের সারথী ওবায়েদুল্লাহ' শীর্ষক অধ্যায়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধান অতিথি, বিশিষ্ট রাজনীতিক শাহজাহান চৌধুরী বলেন, দেশপ্রেমিক নাগরিকসমাজ গঠনে অনুজ ওবায়েদ আশির দশকে সাংস্কৃতিক ও শিশু আন্দোলনের যে রূপরেখা উপস্থাপন করেছেন রাজনীতিবিদ, সমাজকর্মীসহ আমরা তা এখনও ঠিকঠাক হৃদয়ঙ্গম করতে পারছি না। তাঁর এই দূরদর্শিতা তাঁকে তারুণ্যের আইডল এবং আংসাঙ সিপাহসালার হিসেবে ইতিহাসের পাতায় স্থান করে দেবে।
স্মরণসভা, গান, আবৃত্তি, নাট্যাংশ ও তথ্যচিত্র প্রদর্শনীতে সমৃদ্ধ এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম সংস্কৃতি কেন্দ্রের যুগ্ম আহবায়ক কবি মাঈন উদ্দিন জাহেদ। এতে বিশেষ বক্তা ছিলেন নাট্যজন আবু হেনা আবিদ জাফর, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও প্রাবন্ধিক আমীরুল ইসলাম ও মরহুমের কনিষ্ঠ পুত্র হাফেজ মুয়াজ আবরার।
কেন্দ্রের যুগ্ম মহাসচিব সাইফুল্লাহ মোহাম্মদ সায়েম ও সুরের আলোর সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহর যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত স্মরণানুষ্ঠানে কেন্দ্রের মহাসচিব চলচ্চিত্র নির্মাতা ইসমাইল চৌধুরীর স্বাগত বক্তব্য রাখেন। এতে আ জ ম ওবায়েদুল্লাহর জীবনের নানান দিক নিয়ে কথা বলেন, পাঞ্জেরী শিল্পী গোষ্ঠীর পরিচালক মুহাম্মদ আশফাক খালেদ, মুক্তকণ্ঠ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সভাপতি আনাস আবদুল্লাহ্ এবং পারাবার শিল্পী গোষ্ঠীর সহকারী পরিচালক ইরফান মাহমুদ।
ড. আ জ ম ওবায়েদুল্লাহর জীবনের নানামাত্রিক দিক নিয়ে ইসমাইল চৌধুরীর নির্দেশনায় এবং পরিচালনায় নির্মিত তথ্যচিত্র ‘আমাদের ওবায়েদ ভাই’ প্রদর্শিত হয়। ভিডিও বক্তব্যে আবু জাফর মুহাম্মদ ওবায়েদুল্লাহর জীবনের বর্ণিল অবয়ব ফুটিয়ে তোলেন, ঝিঙেফুলের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ কামারুজ্জামান, প্রবীন সম্পাদক মাহবুবুল হক, টিভি ব্যক্তিত্ব জয়নুল আবেদীন আজাদ, নিরাপত্তা বিশ্লেষক আশরাফ আল দীন ও রাশিদুল হাসান তপন, গীতিকার সুরকার শিল্পী চৌধুরী, আবদুল হালিম, গীতিকার তাফাজ্জল হোসাইন খান, সিনিয়র সাংবাদিক মাসুম খলিলী, চিত্রশিল্পী মোমিন উদ্দিন খালেদ, শিল্পী আজিজুল হক, সঙ্গীতজ্ঞ আকবর খান, ওবায়েদপত্নী রাবেয়া বেগম, সহকর্মী অধ্যাপক মোহাম্মদ এমদাদ হোসেন ও মাহফুজুর রহমান এবং চট্টগ্রাম সংস্কৃতি কেন্দ্রের আহ্বায়ক নাট্যজন আহমদ নাসিমুল হুদা নওশাদ প্রমুখ।
আ জ ম ওবায়েদুল্লাহ রচিত গান, কবিতা, নাট্যাংশ থেকে মরহুমের সহকর্মী, সহযোদ্ধা ও উত্তরসূরীদের মধ্যে পারফর্ম করেন প্রখ্যাত আবৃত্তি শিক্ষক মোসতাক খন্দকার, বাচিক শিল্পী ইকবাল সাকি, গীতিকার সুরকার শিল্পী শোয়াইব বিন হাবিব, শিল্পী ইমদাদুল হক এবং চট্টগ্রাম সংস্কৃতি কেন্দ্র, সুরের আলো, পাঞ্জেরী শিল্পী গোষ্ঠী, পারাবার শিল্পী গোষ্ঠী, মুক্তকানন শিশু কিশোর সংস্কৃতি কেন্দ্রসহ বিভিন্ন শিশু সংগঠন এবং শিল্পীগোষ্ঠীগুলো।
এম