রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ধুম ইউনিয়নের মহাজনহাট ফজলুর রহমান স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে তাঁর তৃতীয় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
এরআগে সকাল ১১ টায় নগরের জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে এই আওয়ামী লীগ নেতার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অংশ নেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনসহ চট্টগ্রামের বেশ কয়েকজন রাজনীতিবিদ।
ডা. শাহাদাত বলেন, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ছিলেন দেশের রাজনীতির এক অভিজ্ঞ ও সজ্জন ব্যক্তিত্ব। দেশ ও বৃহত্তর চট্টগ্রামের উন্নয়নে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। তার মৃত্যুতে চট্টগ্রামবাসী ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে শোক জানাতে এসেছি। মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অবদান এবং চট্টগ্রামের উন্নয়নে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের ভূমিকা মানুষ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
জানাজায় ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন তার বড় সন্তান সাবেদুর রহমান সুমু। তিনি সার্বিক সহযোগিতার জন্য সিটি মেয়রসহ প্রশাসন এবং পুলিশকে ধন্যবাদ জানান।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন চট্টগ্রামের মীরসরাই আসন থেকে সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ এবং ২০১৪ মেয়াদে তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
পেশাগত জীবনে মাইনিং ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন লাহোরে অধ্যয়নরত অবস্থায় ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে ১ নম্বর সেক্টরের সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ অপারেশন পরিচালনা করেন। ১৯৭০ সালে তিনি প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
গত বছর চব্বিশের গণ-আন্দোলনের পর ২৭ অক্টোবর রাজধানীর ভাটারা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের আগস্টে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান তিনি। গত বুধবার (১৩ মে) সকাল ১০টা ২০ মিনিটের দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তিনি তিন ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।
এমএইচএফ