যুদ্ধ শেষ করতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে ইরানের আইআরআইবি টিভি। পাকিস্তানের রাজধানীর একটি হোটেলে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লবের পর দুই দেশের মধ্যে এটাই সর্বোচ্চ পর্যায়ের আলোচনা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচনায় প্রবেশের জন্য ইরান দুটি প্রধান শর্ত দিয়েছে। প্রথমটি হলো বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদ মুক্ত করা, যেটি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে মেনে নেওয়া হয়েছে বলে আইআরআইবি জানিয়েছে। দ্বিতীয়টি লেবাননের পরিস্থিতি নিয়ে, যেখানে পূর্ণ যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে—ইরান এমন দাবি মেনে নিচ্ছে না।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরা বলছে, একই কক্ষে পাকিস্তান, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা বসে আলোচনা করছেন। তবে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, পরোক্ষ আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন বলছে, সরাসরি নাকি পরোক্ষ আলোচনা শুরু হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হতে পারেনি তারা।
উল্লেখ্য-গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে সমন্বিত হামলা চালায়। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশটির সামরিক ও বেসামরিক বহু স্থাপনা। পাঁচ সপ্তাহে ইরানে ৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরানও হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দেয়।
গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এ যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হবে আগামী ২২ এপ্রিল।
আরএইচ