নিজস্ব প্রতিবেদক
দশম গ্রেডসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলনরত সহকারী শিক্ষকদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে সারাদেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মবিরতি চলছে।
রবিবার (৯ নভেম্বর) সকাল থেকে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি পালন করছেন তারা। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় অবস্থান নিয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সহকারী শিক্ষকরা।
শিক্ষকরা জানান, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথেই অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।
শাহবাগে শিক্ষকদের ওপর পুলিশি হামলার ঘটনায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দারের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন তারা।
প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের পক্ষে শিক্ষক নেতা মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ওই দুই উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবি জানানো হয়।
অন্য দুই দাবি হলো- চাকরির ১০ ও ১৬ বছরে উচ্চতর গ্রেড পাওয়া নিয়ে জটিলতা নিরসন এবং শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির নিশ্চয়তা। এসব দাবিতে আন্দোলনরত সহকারী শিক্ষকরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। গতকাল বিকালে শাহবাগে প্রাথমিক শিক্ষকদের মিছিলে চড়াও হয় পুলিশ। পুলিশের লাঠিপেটা, কাঁদানে গ্যাস, জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেডে শতাধিক শিক্ষক আহত হন।
গত ২৪ এপ্রিল এক আদেশে ১১তম গ্রেডে বেতন পাওয়া প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১০ম গ্রেডে এবং ১৩তম গ্রেডে বেতন পাওয়া শিক্ষকদের বেতন ১২তম গ্রেডে উন্নীত করার কথা জানায় গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে সহকারী শিক্ষকেরা সেটি প্রত্যাখ্যান করেন।
এর আগে শনিবার সকালে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা তাদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটাতে সরাসরি দশম গ্রেডের দাবিতে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শিক্ষকরা পদযাত্রা শুরু করলে শাহবাগ থানার সামনে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন এবং সেখানে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে শতাধিক শিক্ষক আহত হন বলে দাবি করেছেন শিক্ষক নেতারা।
তখন শিক্ষকরা জানান, পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষকরা ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’ নামে চারটি সংগঠনের ব্যানারে সকাল থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। বিকেলে ‘কলম বিসর্জন কর্মসূচি’ পালনের জন্য তারা শাহবাগের দিকে পদযাত্রা শুরু করেন।
শিক্ষকরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে সামনে যেতে চাইলে সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে পুলিশ জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে শিক্ষকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ ঘটনায় শতাধিক শিক্ষক আহত হন। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া বেশ কয়েকজন শিক্ষক নেতাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। সাউন্ড গ্রেনেডের আঘাতে শিক্ষকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অবস্থান নেন, যেখানে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের প্রধান দাবি- বর্তমান ১৩তম গ্রেড থেকে বেতন স্কেল উন্নীত করে ১০ম গ্রেডে উন্নয়ন।
এমএইচএফ