চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় একক অবদান রাখা পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের সাবেক স্পিকার ও ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট এ.কে.এম ফজলুল কাদের চৌধুরীর নামে ক্যাম্পাসে একটি হলের নামকরণের দাবি জানানো হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় চবির জিরো পয়েন্টে ‘ছাত্র-অভিভাবক’-এর ব্যানারে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এই দাবি পেশ করা হয়।
চট্টগ্রাম জেলা শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি আবু জাফর চৌধুরীর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিতিতে এবং বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক মোহাম্মদ আলী সুমনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
বক্তব্য প্রদান করেন রাজনীতিবিদ সাবের সুলতান কাজল, সমাজসেবক মোজাম্মেল হক, রাজনীতিবিদ সৈয়দ মো. তৌহিদুল আলম, সোহেল চৌধুরী, জাকির হোসেন চৌধুরী, মোঃ হোসেন, জীবন খোন্দকার, নিজাম উদ্দিন চৌধুরী, তানভীর পারভেজ চয়ন, ইয়াকুব উদ্দিন আরিফ, রিপন, সায়মন ও আয়মন। এছাড়া ছাত্র নেতা নাইম উদ্দিন মিনহাজ, ইয়াছিন উদ্দিন মাসুদ, মোহাম্মদ ফরহাদ খোন্দকার, জাহেদুল আলম, তৌসিফ চৌধুরী, সাকিব চৌধুরী, রাসেল আল সামির, আরমান, আরমান খোন্দকার সিমন, আবু সাজিদ রিয়ান ও সাইফুলসহ শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকার সচেতন নাগরিকেরা এতে অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় এ.কে.এম ফজলুল কাদের চৌধুরীর ঐতিহাসিক অবদানের কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, ১৯৬২ সালে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে তিনি চট্টগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ১৯৬৩ সালের ১২ ডিসেম্বর ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়টি কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রামে স্থানান্তরের চূড়ান্ত নির্দেশ দেন। ১৯৬৪ সালের ৯ মার্চ তাঁর সভাপতিত্বেই অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিলের (NEC) বৈঠকে এর প্রাথমিক অর্থ মঞ্জুর করা হয়েছিল।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, তাঁর সরাসরি প্রচেষ্টায় ১৯৬৪ সালের ২৯ আগস্ট তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান চবির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং ১৯৬৬ সালের ১৮ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে তার যাত্রা শুরু করে। বিশ্ববিদ্যালয়টির সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের কাছে তুলে ধরা এবং প্রতিষ্ঠাতার অবদানকে স্মরণীয় করে রাখতে আগামী ১৮ নভেম্বর 'বিশ্ববিদ্যালয় দিবস'-এর আগেই এ.কে.এম ফজলুল কাদের চৌধুরীর নামে একটি আবাসিক হলের নামকরণের জোরালো দাবি জানান তারা।
মানববন্ধন কর্মসূচি শেষে চবি উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আল ফোরকানের কাছে এ বিষয়ে একখানা আনুষ্ঠানিক স্মারকলিপি তুলে দেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।
ইই