দক্ষিণ পূর্ব

এবার রূপকথার কেপ ভার্দের সামনে মেসিদের নতুন পরীক্ষা

Masud forhan
Masud forhan
প্রকাশ : ৩ জুলাই ২০২৬
পঠিত :
এবার রূপকথার কেপ ভার্দের সামনে মেসিদের নতুন পরীক্ষা

ফাইল ছবি

ক্যামেরুনের কাছে সেই হার আজও আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটন। ১৯৯০ বিশ্বকাপে শিরোপাধারী দল হিসেবে অভিযান শুরু করেও প্রথম ম্যাচে হোঁচট খেয়েছিল তারা। এরপর কেটে গেছে তিন দশকেরও বেশি সময়। এই সময়ে আফ্রিকার দলগুলোর বিপক্ষে বিশ্বকাপে বারবার মাঠে নেমেছে আর্জেন্টিনা, আর বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই শেষ হাসি হেসেছে আলবিসেলেস্তেরাই। এবার সেই ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ করতে যাচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

 

শুক্রবার দিনগত রাত ভোর ৪টায় ২০২৬ বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এ আফ্রিকার চমক কেপ ভার্দের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে মুখোমুখি হতে যাওয়া দুই দলের এই লড়াই নির্ধারণ করবে শেষ ষোলোয় ওঠার আরেকটি টিকিট।

 

আফ্রিকান দলগুলোর বিপক্ষে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ইতিহাসের শুরুটা ছিল হতাশার। ১৯৯০ ইতালি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ক্যামেরুনের কাছে ১-০ গোলে হেরে যায় দিয়েগো ম্যারাডোনার দল। ফ্রাঁসোয়া ওমান-বিয়িকের হেডে আসা সেই গোল বিশ্বকাপের অন্যতম বড় অঘটনের জন্ম দিয়েছিল। যদিও সেই ধাক্কা সামলে কার্লোস বিলার্দোর দল শেষ পর্যন্ত ফাইনালে পৌঁছেছিল।

 

এরপর অবশ্য আফ্রিকার প্রতিনিধিদের বিপক্ষে ভিন্ন এক আর্জেন্টিনাকে দেখা গেছে। ক্যামেরুন ম্যাচের পর বিশ্বকাপে আফ্রিকান দলগুলোর বিপক্ষে আটবার মাঠে নেমে সাতবার জয় পেয়েছে তারা।

 

এই অধ্যায়ে সবচেয়ে পরিচিত প্রতিপক্ষ নাইজেরিয়া। বিশ্বকাপে পাঁচবার মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। ১৯৯৪ যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে স্যামসন সিয়াসিয়ার গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ক্লদিও ক্যানিজিয়ার জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল আর্জেন্টিনা। তবে সেই ম্যাচটি ইতিহাসে বেশি স্মরণীয় হয়ে আছে দিয়েগো ম্যারাডোনার শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ হিসেবে। ডোপিং পরীক্ষার জন্য মাঠ ছাড়ার সময় এক নার্সের সঙ্গে ম্যারাডোনার সেই ছবিটি আজও বিশ্বকাপের প্রতীকী মুহূর্তগুলোর একটি।

 

২০০২ কোরিয়া-জাপান বিশ্বকাপে আবারও নাইজেরিয়াকে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা। গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতার একমাত্র গোলে জয় এলেও সেটি তাদের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় ঠেকাতে পারেনি। ইংল্যান্ডের কাছে হার এবং সুইডেনের সঙ্গে ড্রয়ের কারণে মার্সেলো বিয়েলসার দলকে অকালেই বিদায় নিতে হয়েছিল।

 

২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি বিশেষ ছিল লিওনেল মেসির জন্যও। দিয়েগো ম্যারাডোনার কোচিংয়ে বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো কোনো আফ্রিকান দলের বিপক্ষে শুরুর একাদশে খেলেন তিনি। গ্যাব্রিয়েল হেইঞ্জের গোলে সেদিন ১-০ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা।

 

চার বছর পর ব্রাজিল বিশ্বকাপে আবারও মুখোমুখি হয় দুই দল। মেসির জোড়া গোলের ম্যাচে ৩-২ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপেও নাটকীয় লড়াইয়ে নাইজেরিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে তারা। সেই ম্যাচে গোল করেছিলেন মেসি ও মার্কোস রোহো।

 

নাইজেরিয়ার বাইরে বিশ্বকাপে আফ্রিকার আরেক দল আইভরি কোস্টের বিপক্ষেও জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা। ২০০৬ জার্মানি বিশ্বকাপে হার্নান ক্রেসপো ও হাভিয়ের সাভিওলার গোলে ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল হোসে প্যাকারমানের দল।

 

এবার সেই তালিকায় যোগ হচ্ছে নতুন নাম—কেপ ভার্দে। বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নিয়েই সবাইকে চমকে দিয়েছে আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্রটি। স্পেন, উরুগুয়ে ও সৌদি আরবকে নিয়ে গঠিত কঠিন গ্রুপে তিন ম্যাচেই ড্র করে অপরাজিত থেকে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে তারা। বিশ্বকাপের এবারের আসরে এটিকে অন্যতম বড় চমক হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

 

কাগজে-কলমে আর্জেন্টিনাই স্পষ্ট ফেভারিট। তবে কেপ ভার্দে ইতোমধ্যে প্রমাণ করেছে, বড় দলকে চাপে ফেলতে তারা জানে। তাই ইতিহাস, পরিসংখ্যান আর অভিজ্ঞতা আর্জেন্টিনার পক্ষে থাকলেও বিশ্বকাপের মঞ্চে কোনো কিছুই আগে থেকে নিশ্চিত নয়।

 

আর সেই কারণেই কেপ ভার্দের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার এই লড়াই শুধু একটি নকআউট ম্যাচ নয়; এটি আফ্রিকার বিপক্ষে আলবিসেলেস্তেদের দীর্ঘ বিশ্বকাপ ইতিহাসের নতুন এক পরীক্ষাও।

 

ইই

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।