এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) থেকে শুরু হয়েছে। ফলাফলে প্রত্যাশিত নম্বর না পাওয়া শিক্ষার্থীরা আগামী ১৭ আগস্ট পর্যন্ত আবেদন করতে পারবে। তবে পুনর্নিরীক্ষণের জন্য শিক্ষা বোর্ডে সরাসরি গিয়ে কিংবা লিখিত আবেদন করার সুযোগ নেই। নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমেই পুরো আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
পুনর্নিরীক্ষণের জন্য প্রতিটি পত্রে ১৫০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলা ও ইংরেজির মতো যেসব বিষয়ে দুটি পত্র রয়েছে, সেসব বিষয়ের দুই পত্রের জন্য একসঙ্গে আবেদন করতে হবে। আবেদন ফি বিকাশ, নগদ ও সোনালী সেবার মাধ্যমে অনলাইনে পরিশোধ করা যাবে। একজন শিক্ষার্থী একবার আবেদন করার পর চাইলে অন্য কোনো বিষয়ের জন্যও নতুন করে আবেদন করতে পারবে।
আবেদন করতে প্রথমে নির্ধারিত পুনর্নিরীক্ষণ পোর্টালে প্রবেশ করে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড নির্বাচন করে একটি সচল মোবাইল নম্বর দিতে হবে। পুনর্নিরীক্ষণের পর ফলাফলে কোনো পরিবর্তন হলে তা ওই মোবাইল নম্বরে খুদে বার্তার মাধ্যমে জানানো হবে। এরপর পরীক্ষার্থীর বিষয়ভিত্তিক ফলাফল থেকে কাঙ্ক্ষিত বিষয় নির্বাচন করে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হবে।
ফি পরিশোধের আগে নির্বাচিত বিষয়ে কোনো ভুল থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। প্রয়োজন হলে কোনো বিষয় বাদ দিয়ে নতুন বিষয়ও নির্বাচন করা যাবে। তবে একবার ফি পরিশোধ হয়ে গেলে নির্বাচিত বিষয় পরিবর্তন, বাতিল কিংবা নতুন করে সংশোধনের সুযোগ থাকবে না। একই সঙ্গে পরিশোধ করা ফিও ফেরত দেওয়া হবে না। ফি পরিশোধের পর আবেদন পোর্টালে ফিরে গিয়ে ‘জমা দিন’ অপশনে ক্লিক করলেই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
এদিকে, গত সোমবার সকাল ১০টায় সারা দেশে একযোগে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট, নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং মুঠোফোনে খুদে বার্তার মাধ্যমে ফলাফল জানতে পারছেন। এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানতে ১৬১৪০ অথবা ১৬২২২ নম্বরে বার্তা পাঠানো যাবে। ১৬১৪০ নম্বরে ফল পেতে ‘SSC’ লিখে বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর, রোল নম্বর ও ২০২৬ লিখে পাঠাতে হবে।
চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। গত ১৯ বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে কম শিক্ষার্থী পাস করেছেন। ফল প্রকাশের পর কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য পুনর্নিরীক্ষণের এই সুযোগকে ফলাফলে পরিবর্তন আনার শেষ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জেএফআই/ দক্ষিণপূর্ব