নিজস্ব প্রতিবেদক
ছিলেন ইয়াবা জোন টেকনাফের ওসি। অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে যাকে-তাকে তুলে আনতেন। পরে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দিতেন। বনিবনা না হলে মাদককারবারি দেখিয়ে কথিত বন্দুকযুদ্ধে শেষ করে দিয়েছেন অনেকের জীবন। তিনি ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, যিনি এখন মৃত্যুদণ্ড নিয়ে কারাগারের নির্জন প্রকোষ্ঠে রয়েছেন। সে সময় মাদক নির্মূলের নামে ক্রসফায়ারে হত্যা করেছে দেড় শতাধিক ব্যক্তিকে। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে এসব খুন করে ওসি প্রদীপ। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) মেয়র ও বিএনপি নেতা ডা. শাহাদাত হোসেন গণমাধ্যমে একটি টকশোতে নিজের কারাবাস, তৎকালীন পরিস্থিতি এবং ওসি প্রদীপের সঙ্গে জেলে অবস্থানকালের অভিজ্ঞতা নিয়ে সাক্ষাৎকালে এ কথা উঠে আসে।
ডা. শাহাদাত বলেন, ‘জেলে আমাকে রাজনীতিবিদ হিসেবে নয়, একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে ডিভিশন দেওয়া হয়। আমি ছিলাম তিন কক্ষবিশিষ্ট একটি রুমের একটিতে। অন্য রুমে ছিল খ্যাতিমান কেডিএস গ্রুপের মালিক খলিল সাহেবের ছেলে ইয়াসিন এবং আরেক রুমে ছিল ওসি প্রদীপ।’
তিনি বলেন, প্রদীপের সাথে কেউ কথা বলতো না। একদিন আমাকে ডেকে কাঁদতে কাঁদতে বললো, ‘শাহাদাত ভাই, আমার সাথে কেউ কথা বলে না। একটু কথা বলেন।’ আমি জানতে চাইলাম, কেন? তখন ইয়াসিন বলে উঠল, ‘ভাই, তার সাথে কথা বলবেন না।সে খুনি। সে অনেক খুন করেছে ১০০টার উপরে।’ আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘তুমি কয়টা খুন করেছো?’ সে উত্তর দিল, ‘১০০টার মতো হবে।’ এরপর সে বলল, ‘এই খুনটা তো আমি করতে পারি না। আমাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ইন্সট্রাকশন দেন কিভাবে খুনটা করবো।’
দুর্নীতি ও নানা অপকর্ম করে স্ত্রী-সন্তানের জন্য সম্পদের পাহাড় গড়েছিলেন প্রদীপ কুমার দাশ। ক্ষমতার জোরে সৎবোন রত্না বালা প্রজাপতির বাড়ি পর্যন্তও দখল করে নিয়েছিলেন তিনি। প্রদীপ ও তার স্ত্রী চুমকির নামে একাধিক বাড়ি, ফ্ল্যাট, ব্যবসাসহ সম্পদের পাহাড় গড়ার তথ্য পায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পরে এই মামলায়ও ফেঁসে যান প্রদীপ দম্পতি।
২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর তল্লাশি চৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা রাশেদ। প্রদীপের পরিকল্পনায় সিনহাকে হত্যা করেন বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ লিয়াকত আলী। সেনাবাহিনী থেকে স্বেচ্ছায় অবসরে যাওয়া সিনহা ‘লেটস গো’ নামের একটি ভ্রমণবিষয়ক প্রামাণ্যচিত্র বানানোর জন্য প্রায় এক মাস ধরে কক্সবাজারের হিমছড়ি এলাকার একটি রিসোর্টে অবস্থান করছিলেন। সে সময় স্থানীয়রা সিনহার কাছে প্রদীপের অপকর্ম জানতে পারেন। বিষয়টি বেশিদূর যাতে না গড়ায় এজন্য সিনহাকে হত্যা করা হয়। মামলার তদন্তেও উঠে এসেছে, এটা ঠাণ্ডা মাথার পরিকল্পিত হত্যাকান্ড।