সারা দেশে খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নে বড় অঙ্কের বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সোমবার (১৬ মার্চ) সকালে মীরসরাইয়ে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হলেও সব ধরনের হিসাব-নিকাশ করেই সরকার এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রতিটি প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ ও বাজেট বরাদ্দের মাধ্যমে পরিকল্পনা করা হয়েছে এবং ধাপে ধাপে সেগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি আরও জানান, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সারা দেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার খাল খননের কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, এত বড় কর্মসূচি স্বল্প সময়ে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। পর্যায়ক্রমে এ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। তিনি বলেন, “আমরা যদি ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন সম্পন্ন করতে পারি, তবে দেশের পানি ব্যবস্থাপনা ও কৃষি খাতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে।”
খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে কৃষি, পরিবেশ এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মন্ত্রীর ভাষ্য, একটি খালের কাজ সম্পন্ন হলে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমি নতুন করে চাষাবাদের আওতায় আসবে এবং এতে প্রায় ৫ হাজার মেট্রিক টন অতিরিক্ত খাদ্য উৎপাদন সম্ভব হবে।
খাল দখলমুক্ত করার বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে বহু খাল দখলের শিকার হয়েছে। ইতোমধ্যে এসব খালের সীমানা নির্ধারণ বা ডিমারকেশন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সরকারের মালিকানাধীন খাল কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী দখল করে রাখতে পারবে না। সীমানা নির্ধারণের পর সেই অনুযায়ী খনন কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ স্বচ্ছতার সঙ্গে বাস্তবায়ন এবং দুর্নীতির সুযোগ কমিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। কৃষি কার্ড, ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মতো খাল খনন প্রকল্পও মানুষের জীবনমান উন্নয়নের অংশ হিসেবে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
এসময় ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা উপস্থিত ছিলেন।
আরএইচ