দক্ষিণ পূর্ব

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে নিরসনে প্রকল্প নেয়া হচ্ছে: মেয়র ডা. শাহাদাত

Riayad
Riayad
প্রকাশ : ১০ জুন ২০২৬
পঠিত :
চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে নিরসনে প্রকল্প নেয়া হচ্ছে: মেয়র ডা. শাহাদাত

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) বাস্তবায়নাধীন ৩৬টি খালের পুনঃখনন ও সংস্কার কাজ শেষ হওয়ার পর এসব খাল সংরক্ষণ এবং প্রকল্পের বাইরে থাকা বাকি খালগুলো চিহ্নিত করে পুনঃখনন ও সংস্কারের লক্ষ্যে নতুন উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

 

তিনি বলেন, খালসংলগ্ন এলাকাগুলো সৌন্দর্যবর্ধনের মাধ্যমে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।

 

বুধবার (১০ জুন) চসিক সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভায় কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠান ‘আওয়ার পালস পয়েন্ট’-এর প্রতিনিধিরা জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রণীত পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক উপস্থাপন করেন। তারা ৩৬টি খাল পুনঃখনন ও সংস্কার প্রকল্প শেষ হওয়ার পর খালগুলোর সংরক্ষণ, প্রকল্পের বাইরে থাকা খালগুলোর চিহ্নিতকরণ এবং পুনঃখনন কার্যক্রমের একটি রূপরেখা তুলে ধরেন।

 

এ সময় ‘স্মার্ট ড্রেনেজ’ নামে একটি অনলাইন ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়। এর মাধ্যমে নাগরিকরা সরাসরি ছবি ও তথ্য আপলোড করে জলাবদ্ধতা, ড্রেনেজ সমস্যা কিংবা খাল দখল সংক্রান্ত অভিযোগ ও পরামর্শ দিতে পারবেন।

 

সভায় বক্তব্য দেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর) ফরহাদুল আলম, মোহাম্মদ শাহীন-উল ইসলাম চৌধুরী, জসিম উদ্দিন, আবু সাদাত তৈয়ব, মেয়রের জলাবদ্ধতা বিষয়ক উপদেষ্টা শাহরিয়ার খালেদ, ডা. এস এম সারোয়ার আলম, কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

 

উপস্থাপিত পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা অনুযায়ী, জিআইএস প্রযুক্তির মাধ্যমে নগরীর ৩৬টি খালের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও গভীরতা নিরূপণ করা হবে। এসব খাল থেকে প্রায় ১৬ লাখ ঘনমিটার পলি ও বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। চট্টগ্রামের প্রধান খালগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উন্নয়ন কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে।

 

পরিকল্পনাটি তিন ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে—প্রথম ধাপ (১-৬ মাস):*জরুরি ভিত্তিতে খাল থেকে পলি ও বর্জ্য অপসারণ এবং খালসমূহের ডিজিটাল ইনভেন্টরি প্রস্তুত। দ্বিতীয় ধাপ (৬-২৪ মাস): খালের কাঠামোগত উন্নয়ন, ইউ-ওয়াল নির্মাণ এবং নাগরিক অভিযোগ ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাপনা চালু।তৃতীয় ধাপ (২-৫ বছর):আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর জলাবদ্ধতা ব্যবস্থাপনা, বন্যা পূর্বাভাস এবং ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা চালু।

 

সভায় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরের অন্যতম প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা। দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত নগরায়ণ, খাল-নালা দখল, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং প্রাকৃতিক জলপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

 

তিনি বলেন, “এই পরিস্থিতি থেকে স্থায়ীভাবে উত্তরণের জন্য সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। সিডিএর বাস্তবায়নাধীন ৩৬টি খাল পুনঃখনন ও সংস্কার প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর খালগুলো যাতে পুনরায় ভরাট বা দখলের শিকার না হয়, সে জন্য কার্যকর সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।”

 

মেয়র আরও বলেন, “শুধু খাল খনন করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। খালগুলোকে কার্যকর রাখতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, আধুনিক মনিটরিং ব্যবস্থা এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। স্মার্ট ড্রেনেজ ব্যবস্থার মতো প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

 

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নগরীর খালগুলোকে শুধু পানি নিষ্কাশনের মাধ্যম হিসেবে নয়, পরিবেশ ও নগর সৌন্দর্যের অংশ হিসেবেও গড়ে তোলা হবে। খালপাড়ে হাঁটার পথ, সবুজায়ন, বসার স্থান এবং বিনোদন সুবিধা সৃষ্টি করে সেগুলোকে জনবান্ধব ও পর্যটন উপযোগী স্থানে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।

 

তিনি বলেন, “জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, সিডিএ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। নগরীর প্রতিটি খাল, নালা ও ড্রেনের তথ্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংরক্ষণ করে একটি আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তোলা হবে।”

 

মেয়র আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, পরিকল্পিতভাবে খাল সংরক্ষণ, পুনঃখনন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং নাগরিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব।

 

সভায় প্রকল্প বাস্তবায়নে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, সিডিএ এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মধ্যে সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পাশাপাশি জলাবদ্ধতাপ্রবণ বহদ্দারহাট, চকবাজার, বদুরতলা ও আশপাশের এলাকাগুলোকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়ে কার্যক্রম বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

 

আর এইচ 

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।