নিজস্ব প্রতিবেদক
আদিবাসী স্বীকৃতি দাবির অন্তরালে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (৯ আগষ্ট) সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে উক্ত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশের আয়োজন করেন প্রধান সমন্বয়ক ও সভাপতি গিয়াস উদ্দিন।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র নেতা মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, সংবিধান স্বীকৃত ‘খণ্ডিত’ জাতি তত্ত্বকে পাশ কাটিয়ে ‘আদিবাসী’ শব্দের আড়ালে বিদেশি শক্তি ও বিচ্ছিন্নতাবাদী মহল দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার বিরুদ্ধে চক্রান্ত চালাচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে এক শ্রেণির এনজিও ও আন্তর্জাতিক সংগঠন পরিকল্পিতভাবে ইতিহাস বিকৃত করে বিভাজনমূলক রাজনীতি ছড়াচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র নেতা কাউছার উল্লাহ বলেন, আদিবাসী আর উপজাতি বা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সমার্থক নয়। একটি বিশেষ গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃতভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতিদের আদিবাসী হিসেবে উপস্থাপন করে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে এবং সাংবিধানিক কাঠামো অমান্য করে স্বায়ত্তশাসনের দাবি তোলার মাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘের ILO কনভেনশন অনুযায়ী আদিবাসী হতে হলে ঐ অঞ্চলে বংশপরম্পরায় ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা থাকতে হবে। অথচ পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতিরা কয়েকশ বছর আগে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে শরণার্থী হিসেবে এখানে বসবাস শুরু করেছে। তাই তারা বাংলাদেশের আদিবাসী নয় বরং উপজাতি বা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র নেতা তারেকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের অবাঙালিরা শিক্ষা ও চাকরিতে কোটা সুবিধা ভোগ করলেও বাঙালিরা একই অঞ্চলে থেকেও সে সুবিধা পাচ্ছে না, ফলে তারা চতুর্থ শ্রেণির নাগরিকে পরিণত হয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা ওমর ফারুক বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী সকল জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের নাগরিক। সংবিধান ও আইন উপেক্ষা করে কোনো বিশেষ মর্যাদা দাবি রাষ্ট্রের জন্য হুমকি।
বক্তারা দেশপ্রেমিক সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
এসএস