দক্ষিণ পূর্ব

চট্টগ্রামে ঐতিহাসিক জব্বারের বলীখেলা শুরু, লালদীঘি ঘিরে জনসমুদ্র

Riayad
Riayad
প্রকাশ : ৭ জুলাই ২০২৬
পঠিত :
চট্টগ্রামে ঐতিহাসিক জব্বারের বলীখেলা শুরু, লালদীঘি ঘিরে জনসমুদ্র

ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী লালদীঘি ময়দানে শুরু হয়েছে ঐতিহাসিক আব্দুল জব্বারের বলীখেলা। শনিবার (২৫ এপ্রিল) বেলা ৩টা ২৫ মিনিটে প্রতিযোগিতা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।

 

জব্বারের বলীখেলা আয়োজক কমিটির সদস্য ও আব্দুল জব্বারের নাতি আকতার আনোয়ার চঞ্চল জানান, এবার ১৩০ জন বলী প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে নাম নিবন্ধন করেছেন। প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার হিসেবে ক্রেস্ট ও ৩৫ হাজার টাকা, দ্বিতীয় পুরস্কার ক্রেস্ট ও ৩০ হাজার টাকা এবং তৃতীয় পুরস্কার ক্রেস্ট ও ২৫ হাজার টাকা প্রদান করা হবে।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, লালদীঘি ময়দান ও আশপাশের এলাকায় জমে উঠেছে বৈশাখী মেলা। সিনেমা প্যালেস, আন্দরকিল্লা, জেল রোড, হাজারী গলির মুখ, মহল মার্কেটসহ পুরো এলাকা মানুষের ভিড়ে মুখর হয়ে ওঠে। শুক্রবার শুরু হওয়া এই মেলা শনিবার বিকেলেই শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

 

ইতোমধ্যে কয়েক হাজার অস্থায়ী দোকানি নানা ধরনের পণ্য নিয়ে বিক্রি শুরু করেছেন। বিশেষ করে বাংলার ঐতিহ্যবাহী খাবার, হস্তশিল্প ও মৃৎশিল্পের পণ্যে সাজানো হয়েছে মেলা। সিলেট, গাজীপুর, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও যশোরসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা মেলায় অংশ নিতে চট্টগ্রামে এসেছেন।

 

মেলায় সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ছে পোড়ামাটির তৈরি তৈজসপত্র। মাটির ব্যাংক, ফুলদানি, কলস, হাঁড়ি, পানির পাত্র, পিঠার ছাঁচ, গ্লাস, মগসহ নানা ধরনের গৃহস্থালি সামগ্রী বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি বেতের মোড়া, চেয়ার, টেবিল, শীতলপাটি, হাতপাখা, দোলনা, ব্যাগ ও পাটজাত পণ্যও পাওয়া যাচ্ছে।

 

সিলেটের বালাগঞ্জ থেকে আসা শীতলপাটির ব্যবসায়ী কালাচাঁন বলেন, ‘২২ বছর ধরে এই মেলায় পাটি বিক্রি করছি। এবার ১২০টি পাটি এনেছি। ২ হাজার থেকে ১১ হাজার টাকা দামের পাটি রয়েছে। এখন প্লাস্টিকের ব্যবহার বাড়ায় শীতলপাটির কদর কমেছে, তবুও ঐতিহ্য ধরে রাখতে কাজ করে যাচ্ছি।’

 

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ থেকে তালপাতার পাখা নিয়ে আসা বাবলু সরকার বলেন, প্রতি জোড়া হাতপাখা ৫০০ টাকায় বিক্রি করছি। তালপাতার পাখার বাতাসে আলাদা প্রশান্তি রয়েছে।

 

এদিকে বলীখেলাকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। ড্রোন নজরদারি, সিসিটিভি ক্যামেরা, ওয়াচ টাওয়ার, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও সোয়াট টিম মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক পুলিশ, র‌্যাব ও আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।

 

সিএমপির জনসংযোগ কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ কমিশনার আমিনুর রশিদ জানান, মেলা ও বলীখেলায় চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, কিশোর গ্যাংসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে।

আরএইচ

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।