দক্ষিণ পূর্ব

চট্টগ্রামে খুচরা দোকানে সিলিন্ডার আছে, নেই গ্যাস

RAFIQ HYDER
RAFIQ HYDER
প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
পঠিত :
চট্টগ্রামে খুচরা দোকানে সিলিন্ডার আছে, নেই গ্যাস

নিজস্ব প্রতিবেদক 

চট্টগ্রাম নগরের খুচরা বাজারে গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। নগরের বিভিন্ন এলাকায় এলপিজি সিলিন্ডার না পাওয়ার অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে। নগরীর মানুষ দ্বিগুণ দামে সিলিন্ডার কিনতে গিয়েও কোথাও মিলছে না গ্যাস। ফলে জনমনে তীব্র ভোগান্তি ও ক্রোধের জন্ম নিচ্ছে।

সরকার কর ও ভ্যাট কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর এবং এলপিজি ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট প্রত্যাহার হলেও কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না সিলিন্ডার। আবার কোনো কোনো এলাকায় অল্পসংখ্যক সিলিন্ডার এলেও তা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে।

সোমবার বিকেলে নগরের বেশির ভাগ খুচরা দোকানে এলপিজির সিলিন্ডার পাওয়া যায়নি। দোকানিরা জানান, কোম্পানি পর্যায় থেকে সরবরাহ কম থাকায় তারা পণ্য তুলতে পারছেন না।

এলপিজির এই সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। বিশেষ করে হোটেল-রেস্টুরেন্ট, চা দোকানসহ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পড়েছেন চরম চাপে। রান্না ও ব্যবসা পরিচালনায় খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করছেন।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বাকলিয়া, চকবাজার, কল্পলোক আবাসিক এলাকা, নিউ মার্কেট আশপাশের এলাকায় অধিকাংশ খুচরা দোকানেই এলপিজি সিলিন্ডারের কোনো মজুত নেই।

খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, ডিলাররা পর্যাপ্ত সরবরাহ দিচ্ছেন না অথবা বাড়তি দামে সিলিন্ডার ছাড়ছেন। এতে খুচরা পর্যায়ে সংকট আরও তীব্র হচ্ছে।

চকবাজারের বিসমিল্লাহ ট্রেডিং এর মালিক শাহ আলম জানান, ডিলার সিলিন্ডার দিচ্ছে না। ফোন দিলে কল ও রিসিভ করেনা। আবার মাঝেমধ্যে দিনের কোন একসময় আসলেও ৩০০-৪০০ টাকা বাড়তি দামে কিনতে হয়। ফলে ক্রেতাদের কাছে ২০০-৪০০ টাকা বাড়তি দামে বিক্রি করতে হয়।

তবে ডিলারদের বক্তব্য ভিন্ন। তারা বলছেন, সরকার নির্ধারিত নতুন দাম কার্যকর হতে সময় লাগে। নতুন দামে সিলিন্ডার সরবরাহ শুরু হলে সংকট কেটে যাবে এবং খুচরা বাজারে দাম স্বাভাবিক হবে।

বাকলিয়া এলাকার বেক্সিমকোর ডিলার সো. রাসেল জানান, কোম্পানি থেকে আমাদের কোন সরবরাহ নাই। যার ফলে আমরা বিক্রি করতে পারছি না। যখন আমাদের হাতে ছিল তখন ১৩৭০ থেকে ১৪০০ টাকায় বিক্রি করেছি। এখন সরবরাহ নাই তাই বিক্রি করতে পারছি না।

নিউমার্কেট এলাকার বিএম এলপি গ্যাসের ডিলার সাজ্জাদ জানান, গ্রাহকেরা আমাদের কাছে প্রতিনিয়ত বিরক্ত করলেও আমাদের কিছু করার নাই। কোম্পানি থেকে সরবরাহ না থাকার ফলে আমরা সাধারণ মানুষদের চাহিদা মেটাতে পারছি না।

বাকলিয়া এলাকার বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম মুন্না জানান, আজকে একসপ্তাহ ধরে গ্যাস সংকটে ভুগছি। প্রথম দুদিন পার্শ্ববর্তী ফ্লাটের গ্যাস থেকে রান্না করেছি। এখন রাইচ কুকারে রান্না করে খেতে হচ্ছে। আজকে একসপ্তাহ হয়ে গেল কিন্তু গ্যাসের দেখা মিলছে না। আমাদের এ দুর্ভোগের অবসান ঘটবে কবে?

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ(ক্যাব) কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন  জানান, এলপিজি ব্যবসায়ীদের বক্তব্যকে গতানুগতিক বলে মন্তব্য করে বলেন, এখন ব্যবসায়ীর অপর নাম মানুষকে জিম্মি করে পকেট কাটা। আমদানি কম হলে সেটা ১ মাস আগে জানানোর কথা। কারন এলপিজি দেশে আসতে সময় লাগে কমপক্ষে ১ মাস। হঠাৎ শীত প্রকট হলে লাইনের গ্যাসে সংকট দেখা দিলে এলপিজির চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাজার থেকে সিলিন্ডার উধাও, বিষয়টিতে পরিষ্কার এখানে আমদানিকারক, তাদের ডিস্ট্রিবিউটর ও পাইকারী-খুচরা  বিক্রেতাদের কারসাজি আছে। আবার ভোক্তা অধিদপ্তর, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা যখন এনার্জি রেগুলেটরী কমিশনের নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দাম আদায়কারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছেন, তখন তারা পালিয়ে যাচ্ছেন, দোকান বন্ধ করে দিচ্ছেন এবং সর্বশেষ ধর্মঘট করে এলপিজি বিক্রি বন্ধ রাখছেন।  এটা সরকারের আইনের প্রতি পুরোপুরি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনের সামিল। ভোক্তা অধিদপ্তর অভিযান পরিচালনা কালে সর্বত্রই বিস্পোরক অধিদপ্তরের লাইন্সেবিহীন দোকান, বেশি দামে বিক্রিসহ নানা অনিয়মের প্রমান পাওয়ার পরও তারা বলেন হয়রানি করা হচ্ছে। বিষয়টি সরকারকে বেকায়দায় ফেলানোর চক্রান্ত ছাড়া কিছুই নয়। জনগনকে জিম্মি করে মানুষের পকেট কাটা ও মুনাফা লাভের অপচেষ্টা ছাড়া কিছুই নয়।

চট্টগ্রাম বিএম এলপি গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান বলেন, আমরা এলসি করেছি একমাস আগে। এলপি গ্যাসের চাহিদা থাকা সত্বেও বন্দরে না আসাতে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। ডিলাররা অভিযোগ করছে মালিকদের সিন্ডিকেটের কারণে গ্যাসের সরবরাহ দিচ্ছে না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের কোন সিন্ডিকেট নাই। এমন তথ্য মিথ্যা। আমরা সরবরাহ পেলে গ্রাহক পর্যায়ে সরবরাহ দিবো।

রহা

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।