দক্ষিণ পূর্ব

চট্টগ্রামে গাউসিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক-পরিচালকের বিরুদ্ধে ৪ ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ

Masud forhan
Masud forhan
প্রকাশ : ২৪ মে ২০২৬
পঠিত :
চট্টগ্রামে গাউসিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক-পরিচালকের বিরুদ্ধে ৪ ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ

গাউসিয়া মাদ্রাসা

পড়া দিতে গিয়ে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ এলাকায় একটি মাদ্রাসার চার শিক্ষার্থীকে বলাৎকার ও যৌন নিপীড়ন করার অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসার পরিচালক ও এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। 

 

গত মঙ্গলবার (১৯ মে) ভোরে পাঁচলাইশ থানার গ্রিন ভিউ আবাসিক এলাকার সালাউদ্দিন ম্যানশনে অবস্থিত তাহফিজুল কোরআন গাউছিয়া তৈয়বিয়া মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থীর ওপর যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটে। 

 

ঘটনাটি রোববার (২৪ মে) জানাজানি হলে ভুক্তভোগী অন্য শিক্ষার্থীরাও মুখ খুলতে শুরু করে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক পলাতক রয়েছেন বলে জানায় শিক্ষার্থীরা। 

 

নির্যাতনের শিকার একাধিক মাদ্রাসাছাত্র জানায়, গত রমজান মাসের শুরু থেকে এ পর্যন্ত অন্তত চারবার সে শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। মুঠোফোনে আপত্তিকর বা নগ্ন ছবি দেখিয়ে হুজুরের বিশ্রামকক্ষে নিয়ে যাওয়া হতো তাকে। সেখানে তার শরীরের বিভিন্ন সংবেদনশীল স্থানে স্পর্শ করার পর পায়ুপথে নির্যাতন করা হয়। এতে সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে।

 

ভুক্তভোগী অন্য ছাত্ররা অভিযোগ করে বলে, শিক্ষকেরা প্রায়ই তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করতেন। পড়া দেওয়ার অজুহাতে বিশ্রামকক্ষে ডেকে নিয়ে শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেওয়া হতো। বিষয়টি কাউকে জানালে পরিণাম ভালো হবে না বলে হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। ফলে ভয়ে দীর্ঘদিন তারা বিষয়টি চেপে রেখেছিল।

 

এক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলে, হুজুরেরা আমাদের মুঠোফোনে নগ্ন ছবি দেখিয়ে বিশ্রামকক্ষে নিয়ে যেতেন। কাউকে কিছু বললে ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হতো। ভয়ে আমরা কিছু বলতে পারিনি।

 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম ঘটনাটি অস্বীকার করেন। মুঠোফোনে তিনি বলেন, আমি ছাত্রদের পড়ালেখার জন্য একটু চাপের মধ্যে রাখতাম। এ কারণে ছাত্ররা একজোট হয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ তুলছে। আমি বর্তমানে মাদ্রাসার বাইরে আছি। তবে ছাত্ররা অভিযোগ তোলার পর মাদ্রাসার পরিচালক আমাকে চাকরিচ্যুত করেছেন।

 

এদিকে, ঘটনারসঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসাটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হাফেজ মাওলানা মো. আশিকুর রহমান নঈমীর বিরুদ্ধেও। তবে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, ঘটনাগুলো আগেই ভুক্তভোগী ছাত্রদের অভিভাবকেরা সমাধান করে ফেলেছেন। আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের কোনো অভিযোগ নেই। অভিযুক্ত শিক্ষক সাইফুল ইসলামকে মাদ্রাসা থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান পরিচালক আশিকুর রহমান এবং সংবাদটি চেপে যাওয়ার বিনিময়ে হাদিয়া দেওয়ার প্রস্তাব করেন।

 

এ বিষয়ে পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহেদুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে কেউ অভিযোগ দেয়নি। মাত্রই অবগত হয়েছি, ঘটনার বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।’  

 

ইই

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।