নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রামের মুরাদপুর এলাকায় পুলিশের উপর হামলা, বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙ্গচুর এবং সড়ক অবরোধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টির ঘটনায় ১২ সুন্নিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোমবার (০৫ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঘটনাস্থল ও বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত ও ছাত্রসেনার নেতাকর্মী বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে মামলা।
পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টার মধ্যকার সময়ে ইসলামী ছাত্রসেনা, ইসলামী ফ্রন্ট, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত এর সদস্যরা মাওলানা রঈস উদ্দিন হত্যার বিচারের দাবিতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ব্যতিত "অবরোধ কর্মসূচি ও বিক্ষোভ সমাবেশ”এর নামে হাতে কাঠ ও বাঁশের লাঠি, ইট-পাথর নিয়ে একটি মিছিল পাঁচলাইশ মডেল থানাধীন মুরাদপুর মোড়ে জড়ো হয়ে নাশকতা ও অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থাপনা ও গণপরিবহনে ভাঙ্গচুর করে।
পুলিশ জানায়, উপ-পুলিশ কমিশনার(উত্তর) এর নেতৃত্বে অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা ও সরকারি-বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ভাঙ্গচুর রোধে আন্দোলনকারীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করলে দুষ্কৃতিকারীরা পুলিশের উপর চড়াও হয়। দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সরকারি দায়িত্ব পালনে বাঁধা প্রদান করে পুলিশের উপর আক্রমণ করে বিক্ষুব্ধ জনতা। এলোপাতাড়ি ইট-পাথর ছুঁড়তে থাকে তারা। দুষ্কৃতিকারীদের ছোড়া ইট-পাথরের আঘাতের ফলে পাঁচলাইশ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ, মোহাম্মদ সোলাইমান, এএসআই (নি.) মুসলিম উদ্দিন, কনস্টেবল/১৬৩৬ মো. আশরাফ উদ্দিন, কনস্টেবল/৩৭৩৮ মো. রফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল/২২৩৮ মো. আবু শাকিল আঘাতপ্রাপ্ত হন।
এসময় সরকারি-বেসরকারি জানমাল রক্ষা ও দুষ্কৃতিকারীদের ছত্রভঙ্গ করার উদ্দেশ্যে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে টিয়ারসেল, সাউন্ড গ্রেনেড এবং গ্যাস সেল ব্যবহার করে দুষ্কৃতিকারীদের ছত্রভঙ্গ করা হয়। এছাড়া তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল এর আশপাশ এলাকা ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন, আরিফুল ইসলাম প্রকাশ ইয়াছিন (২৩), মো আব্দুল মালেক, মো. খালেদ বিন হোসেন, মো. ওসমান গনি, ৫। মো. রাকিব হাসান, ৬। ইমাম হোসেন, ৭। আ. কাদের মোহাম্মদ নকিব, আবু সুফিয়ান, মোঃ জাহিদুল ইসলাম প্রঃ রাশেদ, মোস্তফা হোসাইন সোয়াইব, বোরহান উদ্দিন ও এনামুল হক হাসান।
পাঁচলাইশ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, বেআইনী জনতায় দলবদ্ধ হয়ে পুলিশের সরকারি কর্তব্য কাজে বাঁধা প্রদান, আক্রমন ও আঘাতদান করে সাধারণ জখম, নাশকতা ও অন্তর্ঘাতমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা ভাঙ্গচুর ও ক্ষতিসাধন করায় বর্ণিত গ্রেপ্তারকৃত আসামী, পলাতক ও অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।
ইই