দক্ষিণ পূর্ব

চট্টগ্রামে বর্ণাঢ্য আয়োজনে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন

Riayad
Riayad
প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০২৬
পঠিত :
চট্টগ্রামে বর্ণাঢ্য আয়োজনে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন

ছবি:

স্বাধীনতা ঘোষণার ঐতিহাসিক স্মৃতি বিজড়িত চট্টগ্রামে যথাযোগ্য মর্যাদায় ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নগরীর পাহাড়তলীস্থ উত্তর কাট্টলীস্থ ডিসি পার্কের দক্ষিণ পাশে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ ও এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে বর্ণাঢ্য কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়। 

ভোরের আলো ফুটার আগেউত্তর কাট্টলী অস্থায়ী স্মৃতিসৌধে মানুষের ঢল নামে। ভোর ৬টা ২৫ মিনিটে ৩১বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিনের কর্মসূচির সূচনা হয়। পরে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন ভূমি ও পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ এবং এবং রেঞ্জ ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ। 

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত ও দেশের শান্তি-সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে সকালে চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ। লাল-সবুজের আবহ, দেশাত্মবোধক গান এবং শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। কুচকাওয়াজে অংশ নেয় বাংলাদেশ পুলিশ, আনসার-ভিডিপি, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং বিএনসিসির সুসজ্জিত কন্টিনজেন্ট। তাদের সমন্বিত পদচারণা দর্শকদের মুগ্ধ করে। কুচকাওয়াজের পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্কাউটস ও গার্ল গাইডস সদস্যরা নৈপুণ্য প্রদর্শন করে। পরবর্তী ডিসপ্লেতে শিক্ষার্থীরা শারীরিক কসরতের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, চেতনা ও ঐতিহ্য তুলে ধরে দর্শকদের আবেগাপ্লুত করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণাকে ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন, শোষণমুক্ত, সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ দেশ রেখে যাওয়াই সরকারের লক্ষ্য।

বিভাগীয় কমিশনার বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী সকল শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ।একই সঙ্গে দেশ রক্ষার সংগ্রামে সম্ভ্রম হারানো নারীদের প্রতি বিশেষ সম্মান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। ১৯৭১ সালে বীর মুক্তিযোদ্ধারা জীবন বাজি রেখে যে অসাধারণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা আজও আমাদের অনুপ্রেরণার উৎস।

সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের অসীম ত্যাগ ও আত্মদানের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতাই বাঙালির শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি। সেই মহান উপহারকে কেন্দ্র করেই আজকের এই আয়োজন। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আমরা যে সংবর্ধনাই দেই না কেন, তা কখনোই তাদের আত্মত্যাগের তুলনায় যথেষ্ট নয়। বরং তাদের উপস্থিতিই আমাদের জন্য গৌরব ও প্রেরণার উৎস। এছাড়াও মুক্তিযোদ্ধাদের সংস্পর্শে এলে দেশপ্রেম আরও দৃঢ় হয় এবং সেই প্রেরণাতেই একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় জাগ্রত হয়।

জেলা প্রশাসক বলেন, বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা এক নদী রক্ত প্রবাহিত করেছেন, আমরা সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে সকল নাগরিক সমান সুযোগ পাবে এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হবে। 

এদিন দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন আয়োজনে বীর মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্টিত হয় । অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ফয়সাল আহম্মেদ, চট্টগ্রাম অতিরিক্ত রেঞ্জ ডিআইজি নাজমুল হক, চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন ও চট্টগ্রাম অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাখাওয়াত জামিল সৈকত উপস্থিত ছিলেন। 

চট্টগ্রাম নগর বিএনপি

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির উদ্যোগে সকাল ১১টায় বিপ্লব উদ্যান স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় । 

 সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন নগর বিএনপির আহবায়ক ও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ এবং নগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন ভূমি ও পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান।

ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, আজ আমরা মহান স্বাধীনতা ও ৫৬তম জাতীয় দিবস উদযাপন করছি। মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের নেতৃত্বে বাঙালি জাতি মুক্তির জন্য লড়াই শুরু করেছিল। তাঁর ঐতিহাসিক ঘোষণায় জাতি পেয়েছিল সাহস ও প্রেরণা, যা দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথ দেখিয়েছে। 

মীর হেলাল তার বক্তব্যে মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদদের পাশাপাশি মা-বোন ও দেশপ্রেমিকদের আত্মত্যাগকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে দেশে ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী শক্তির উত্থান গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাভাবিক বিকাশকে বারবার বাধাগ্রস্ত করেছে। এটি আইনের শাসন ও জবাবদিহির চর্চাকে দুর্বল করেছে, যার ফলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ভিত্তিতে একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা বারবার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

এতে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক কাজী বেলাল উদ্দিন, হারুন জামান, নিয়াজ মোহাম্মদ খান, শাহ আলম, আর ইউ চৌধুরী শাহীন, শওকত আজম খাজা, ইয়াসিন চৌধুরী লিটন, শিহাব উদ্দিন মুবিন ও মঞ্জুরুল আলম। এছাড়া মহানগর বিএনপি সদস্য ইকবাল চৌধুরী, এস এম আবুল ফয়েজ, আবুল হাশেম, ইসকান্দর মির্জা, কামরুল ইসলাম, মামুনুল ইসলাম হুমায়ুন, মো. জাফর আহমেদ, গাজী আইয়ুব, মাহাবুব রানা, নুর উদ্দিন হোসেন নুরু, মোহাম্মদ আজম, আশরাফুল ইসলাম, মোহাম্মদ ইউসুফ।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন যুবদলের সাবেক সভাপতি মোশারফ হোসেন দিপ্তী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক বেলায়েত হোসেন বুলু, সদস্য সচিব জমির উদ্দিন নাহিদ, মহিলা দলের সভাপতি মনোয়ারা বেগম মনি, সাধারণ সম্পাদক জেলী চৌধুরী, ছাত্রদলের আহবায়ক সাইফুল আলম ও সদস্য সচিব শরিফুল ইসলাম তুহিনসহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব 

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সহ নানা আয়োজন করেছে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ।

দুপুরে ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আমার দেশ এর আবাসিক সম্পাদক  ও প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচির সভাপতিত্বে বৈশাখী টিভির ব্যুরো প্রধান ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদের সঞ্চালনায় আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আল ফোরকান। 

উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আল ফোরকান বলেন, সাংবাদিকরা হচ্ছেন একটি সমাজের দর্পণ। তারাই সমাজের সমস্ত বন্ধুরতা ও মসৃণতার বিষয়গুলো এবং সমাজের সমস্ত বৈষম্যগুলো মানুষের সামনে তুলে ধরেন। সমাজকে পরিবর্তনের জন্য এবং এই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সাংবাদিকদের যে বলিষ্ঠ ভূমিকা, যা মানুষকে এই আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য অনেক বেশি অনুপ্রাণিত করেছে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক যিনি বলেছিলেন, "I Major Ziaur Rahman hereby declare the Independence of Bangladesh"—সেই মহান নেতাকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি। যার অকুতভয় নেতৃত্বে, যখন এই দেশের মুক্তিকামী মানুষ অনেকটুকু ঝিমিয়ে পড়েছিল, তার এই ঘোষণার সাথে সাথে তারা আবার উজ্জীবিত হয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনার জন্য তারা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের (সিএমইউজে) সভাপতি ও ক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা মো. শাহনওয়াজ, কালের কণ্ঠের ব্যুরো প্রধান ও সিনিয়র সহ-সভাপতি মুস্তফা নঈম, টাইমস অব বাংলাদেশের ব্যুরো প্রধান ও সিএমইউজের সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমান, এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার ও অর্থ সম্পাদক আবুল হাসনাত, একাত্তার টিভির ব্যুরো প্রধান ও কার্যকরী সদস্য সাইফুল ইসলাম শিল্পী, এনটিভির সিনিয়র রিপোর্টার ও কার্যকরী সদস্য আরিচ আহমেদ শাহ, গ্রীন টিভির সিইও ও কার্যকরী সদস্য ওয়াহিদ জামান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক রূপম চক্রবর্তী, বিএফইউজের সাবেক নির্বাহী সম্পাদক ও ক্রীড়া সম্পাদক মো. রুবেল খান, গ্রন্থাগার সম্পাদক মো. শহীদুল ইসলাম, দৈনিক পূর্বদেশের বার্তা সম্পাদক আবু মোশাররফ রাসেল, দৈনিক দিনকালের ব্যুরো প্রধান ও সমাজসেবা ও অ্যাপায়ন সম্পাদক হাসান মুকুল, দৈনিক পূর্বদেশের সিনিয়র রিপোর্টার ও প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ফারুক আবদুল্লাহ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন দৈনিক আমাদের চট্টগ্রামের সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরী, সিনিয়র সাংবাদিক আবু তাহের মো. তোহা, জাসাস চট্টগ্রাম মহানগরের সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ শিপন, এটিএন নিউজের চট্টগ্রাম প্রতিনিধি মনিরুল ইসলাম পারভেজ, জনকণ্ঠের সিনিয়র ফটো সাংবাদিক সাইদুল আজাদ, কালের কণ্ঠের সিনিয়র রিপোর্টার ফারুক মুনির, দৈনিক সকালবেলার ব্যুরো প্রধান মোহাম্মদ আলী, সাংস্কৃতিক উপ-কমিটির সদস্য সরোজ আহমেদ, মো. নজরুল ইসলাম ও মো. গিয়াস উদ্দিন, সিনিয়র সাংবাদিক কামাল পারভেজ, দৈনিক সংবাদ সারাবেলার ব্যুরো প্রধান তৌহিদুল ইসলাম, রূপালী বাংলাদেশের সিনিয়র রিপোর্টার মো. শাহাবুদ্দীন, দৈনিক বিজয় পত্রিকার ব্যুরো প্রধান ইমতিয়াজ ফারুকী, দৈনিক আজকের বাংলার ব্যুরো প্রধান ইসমাঈল ইমন, পূর্বদেশের সিনিয়র ফটো সাংবাদিক জাহেদ তালুকদার, ফোকাস বাংলার সিনিয়র ফটো সাংবাদিক নুরুল আলম চৌধুরী, খবরের কাগজের ফটো সাংবাদিক মো. হানিফ, ক্লাবের সদস্য বাকি বিল্লাহ চৌধুরী, জাহাঙ্গীর আলম, মো. মাসুদ পারভেজ প্রমুখ। 

এছাড়া দিবসটি উপলক্ষ্যে ক্লাবের সদস্য সন্তানদের নিয়ে আয়োজিত চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় প্রধান অতিথি অধ্যাপক মোহাম্মদ আল ফোরকান চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ করেন। আলোচনা শেষে চট্টগ্রামের বিশিষ্ট শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।  এর আগে সকালে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রেস ক্লাব নেতৃবৃন্দ।

জামায়াত ইসলামী

নগরের বায়েজিদ, পাঁচলাইশ, চকবাজার, কোতোয়ালী, হালিশহর, আকবরশাহ, ডবলমুরিং, ইপিজেড, চান্দগাঁও ও পতেঙ্গাসহ বিভিন্ন থানা এলাকায় পৃথক পৃথক র‍্যালি বের করা হয়। এসব র‍্যালিতে দলটির নেতাকর্মীরা জাতীয় পতাকা ও দলীয় ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে অংশ নেন। স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা।

দলীয় সূত্র জানায়, দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন এবং স্বাধীনতার চেতনা সমুন্নত রাখার আহ্বান জানিয়ে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। র‍্যালিগুলো সংশ্লিষ্ট থানা এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

চকবাজার থানা

চকবাজার থানা আমীর আহমদ খালেদুল আনোয়ারের সভাপতিত্বে র‍্যালিতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুস।

এতে উপস্থিত ছিলেন চকবাজার থানা নায়েবে আমীর আব্দুল হান্নান, থানা সেক্রেটারি সাদুর রশিদ চৌধুরী, থানা এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ, থানা কর্মপরিষদ সদস্য মোহাম্মদ ইলিয়াছ, এরশাদুল ইসলাম জামায়াত নেতা নুর হোসেন, শাহাদাত হোসেন, তাউসিফ সুলতান রাফি, নুরুল আমিন চৌধুরী প্রমুখ।

র‍্যালিটি অলি খাঁ মোড় থেকে শুরু হয়ে চন্দনপুরা এক্সেস রোড়ে মুখে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

হালিশহর থানা

চট্টগ্রাম মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য ও হালিশহর থানা জামায়াতের আমীর ফখরে জাহান সিরাজীর সভাপতিত্বে র‍্যালিতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী।

এতে উপস্থিত ছিলেন থানা নায়েবে আমীর ডা. শাহাদাত হোসেন, থানা সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ, থানা এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ইন্জিনিয়ার মনজুরুল হক প্রমুখ।র‍্যালিটি নয়া বাজার বিশ্বরোড থেকে শুরু হয়ে ওয়াপদা মোড় গিয়ে শেষ হয়।

আকবরশাহ থানা

আকবরশাহ থানা আমীর অধ্যক্ষ আব্দুল হান্নান চৌধুরীর সভাপতিত্বে র‍্যালিতে উপস্থিত ছিলেন থানা জামায়াতের এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি আফসার উদ্দিন শাহীন, ৯নং উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি ও থানা বিএম সম্পাদক আবদুল মোমেন, ১০ নং উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামরুল হাসান, জামায়াত নেতা মোহাম্মদ ইউসুফ চৌধুরী, উত্তর জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি সাজিদ হাসান ও শিবিরের সাবেক থানা সভাপতি রিফাত শরীফ প্রমুখ।

র‍্যালিটি ফিরোজশাহ মিনার চত্বর থেকে শুরু হয়ে বিশ্ব কলোনি ও সিডিএ রোড় হয়ে কর্নেল হাট বাজারে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

চান্দগাঁও থানা

চট্টগ্রাম মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য ও চান্দগাঁও থানা আমীর মুহাম্মদ ইসমাঈলের সভাপতিত্বে র‍্যালিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয়  মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ উল্লাহ। এসময় তিনি বলেন, স্বাধীনতার প্রকৃত সুফল দেশের সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হলে গণভোটের প্রতিফলন নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। স্বাধীনতার চেতনা শুধু উদযাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; বরং তা বাস্তব জীবনে প্রতিফলিত করতে হবে। জনগণের মতামতের প্রতি সম্মান জানিয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করা এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়াই হবে স্বাধীনতার প্রকৃত মূল্যায়ন।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বোয়ালখালী উপজেলা নায়েবে আমীর ডা. আবু নাছের, চান্দগাঁও থানার সেক্রেটারি জসিম উদ্দিন সরকার, থানা এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি আজাদ চৌধুরী প্রমুখ।  র‍্যালিটি জাতীয় পতাকা ও ব্যানারসহ চান্দগাঁও থানার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন।

আরএইচ/এমএইচএফ

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।