দক্ষিণ পূর্ব

চট্টগ্রামে সাংবাদিক পরিচয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

sathi
sathi
প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
পঠিত :
চট্টগ্রামে সাংবাদিক পরিচয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি
নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রামে সাংবাদিক পরিচয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজির অভিযোগে ইফতেখারুল করিম চৌধুরী (৪৯) ও মাজেদুল ইসলাম (৪৫) নামে দুইজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু বকর সিদ্দিক এ আদেশ দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম জেলা আদালতের সহকারি পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট আব্দুল্লাহ আল গালিব। তিনি বলেন, পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালত দুইজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। তাদের বিরুদ্ধে আরও অনেক অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া খুলশী থানায় ইফতেখারুল করিমের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে।

আসামিরা হলেন- ইফতেখারুল করিম চৌধুরী, তার বাড়ি চট্টগ্রামের আনোয়ার উপজেলার বারখাইন এর সরকার বাড়ী। তিনি "channel 24.tv" নামের একটি অনলাইন নিউজ চ্যানেল এর সাংবাদিক পরিচয় দেন। অপরজন মাজেদুল ইসলাম, তার বাড়ি লক্ষীপুরের চন্দ্রগঞ্জ থানার বশিকপুরের মোল্লাবাড়ী। তিনি এশিয়ান টিভি বার্তা প্রেরক হিসেবে পরিচয় দেয়।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর নাম মোহাম্মদ মোসলেম উদ্দিন (৬৩)। তিনি মেসার্স নরুল ইসলাম এন্ড ব্রাদার্স এর স্বত্তাধিকারী।

জানা যায়, ইফতেখারুল করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে খুলশী থানায় মামলা আছে। যার মামলা নং-১৬(২)২০২১ এবং ১৭(০২) ২০২১। এছাড়া তিনি নিজেকে 'দৈনিক মুক্ত খবর" পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয়ে বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। তার বিরুদ্ধে সাংবাদিক পরিচয়ের আড়ালে মাদক, অস্ত্র চোরাচালান ব্যবসা এবং চাঁদাবাজী চক্রের সাথেও জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। খাতুনগঞ্জের অনেক ব্যবসায়ী তাদের সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ, চক্রের ফাঁদে পাড়ে হেনস্থার শিকার হয়ে নিরবে গুমরে মরছেন।

মামলার এজাহরে জানা যায়, সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে মোহাম্মদ মোসলেম উদ্দিনকে ও তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার ও কর্মচারীদের একেক সময় একেক কথা ও ভিন্ন রকমের হুমকি ধমকি দিয়ে আসছে ইফতেখারুল করিম চৌধুরী ও মাজেদুল ইসলাম। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ইফতেখারুল করিম চৌধুরী ও তার ক্যামেরাম্যান নিয়ে মোসলেম উদ্দিনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে তার সুনাম ক্ষুন্ন, মামলা ও রাজনৈতিক হয়রানির হুমকি দিয়ে আসে। একইসাথে এক কোটি বিশ লাখ টাকার চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে গত ৩ মার্চে মাজেদুল ইসলাম বাদীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যায় এবং নিজেকে এশিয়ান টিভির সাংবাদিক পরিচয় দেন। মাজেদুল বাদীকে নিউজ করার হুমকি দেন এবং নিউজ না করার জন্য ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। পরবর্তীতে বাদী ও সাক্ষী আবু ছালেহ, হুমায়ুন কবির ভূইয়াদের শোর চিৎকারে আশে পাশের লোকজন আসলে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। 

এমএইচএফ

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।