আবু রুহামা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রামের মোট ২৩ আসনের এমপি প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে বিএনপি। এরমধ্যে ২০ জন প্রার্থীর নাম দক্ষিণপূর্বকে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করেছে দলটির কয়েকটি সূত্র।আসনগুলোর মধ্যে একটি কর্নেল অলি আহমেদের এলডিপিকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
জানা যায়, গুলশান দলীয় কার্যালয়ে রোববার (২৬ অক্টোবর) মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ভাইভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।সেখানে চট্টগ্রাম মহানগরের দুইটি আসন ছাড়া বাকি আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।যদিও গত সপ্তাহের শুরুতেই মনোনয়ন অনেকটা চূড়ান্ত করেছিলেন তারেক রহমান।
প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত প্রার্থীদের কয়েকজনকে গ্রীণ সিগনাল দেয়া হয়।
বিএনপির কেন্দ্রের কয়েকটি বিশ্বস্ত সূত্র চট্টগ্রাম জেলার ১৬টি আসনের মধ্যে ১৪ টি আসনের চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম নিশ্চিত করেছেন। এদের মধ্যে চট্টগ্রাম ২ ( ফটিকছড়ি), চট্টগ্রাম ৪ ( সীতাকুণ্ড) আসনের চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম জানা যায়নি। ফটিকছড়িতে কর্নেল আজিমুল্লাহ বাহার চৌধুরী ও সরওয়ার আলমগীরের যেকোন একজন চূড়ান্ত মনোনয়ন পাবেন।আর সীতাকুণ্ডে আসলাম চৌধুরীর নাম প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত হলেও ভাইবাতে অংশগ্রহণ না করায় তাকে নিয়ে ধূম্রজাল তৈরি হয়েছে।দীর্ঘদিন কারাগারে থাকা প্রভাবশালী এই নেতা নির্বাচন না করলে সেই আসনে মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনকে প্রার্থী করা হবে।সালাহউদ্দিনও বিএনপির সাবেক এই যুগ্ন মহাসচিবের অনুসারী বলে পরিচিত।
জানা যায়, উত্তর চট্টগ্রাম ও মহানগরের আসনগুলোর মধ্যে চূড়ান্ত প্রার্থীরা হলেন মিরসরাইয়ে নুরুল আমিন চেয়ারম্যান,সন্দ্বীপে মোস্তফা কামাল পাশা,হাটহাজারীতে ব্যারিস্টার মীর হেলাল,রাউজানে গিয়াস কাদের চৌধুরী, রাঙ্গুনিয়ায় হুম্মাম কাদের চৌধুরী, বোয়ালখালী চান্দগাঁও আসনে এরশাদ উল্লাহ,হালিশহর - পাঁচলাইশ আসনে আমীর খসরু মাহমুদ, বন্দর -পতেঙ্গা আসনে ইসরাফিল খসরু,বাকলিয়া কোতোয়ালি আসনে আবু সুফিয়ান,চান্দগাঁও - বোয়ালখালী আসনে এরশাদ উল্লাহ।
দক্ষিণ চট্টগ্রামের আনোয়ারা- কর্ণফুলী আসন সাবেক এমপি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের মনোনয়ন প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত হয়েছে।তবে দক্ষিণ জেলা যুবদলের সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহানও এই মনোনয়ন দৌড়ে আছেন বলে জানিয়েছেন আরেকটি সূত্র।এছাড়া পটিয়া আসনে এনামুল হক এনাম,সাতকানিয়া লোহাগাড়া আসনে নাজমুল মোস্তফা,বাঁশখালী আসনে মিশকাতুল ইসলাম পাপ্পার মনোনয়ন প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত হয়েছে।এরমধ্যে চন্দনাইশ- সাতকানিয়া আংশিক ( চট্টগ্রাম -১৪) আসনটি কর্নেল অলির এলডিপির জন্য খালি রাখা হয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়িতে মনোনয়ন পাচ্ছেন ওয়াদুদ ভুঁইয়া,রাঙামাটি আসনে দিপেন দেওয়ান।বান্দরবানে সাচিং প্রু জেরি বা জাবেদ রেজার যেকোন একজন মনোনয়ন পাবেন।কক্সবাজার জেলার মধ্যে চকরিয়ায় প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত হয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমেদের স্ত্রী হাছিনা আহমেদ,সদর আসনে লুৎফুর রহমান কাজল, উখিয়া টেকনাফে শাহজাহান চৌধুরী। এরমধ্যে কতুবদিয়া মহেশখালী আসনের মনোনয়ন এখনও চূড়ান্ত হয়নি।সেখানে সালাহউদ্দিন আহমেদ বা আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ ফরিদের যে কেউ চূড়ান্ত হচ্ছেন।এরমধ্যে এই দ্বীপ জনপদে আলমগীর ফরিদ মনোনয়ন পেলে সালাহউদ্দিন আহমেদ চকরিয়া আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
তবে প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকার বিষয়টি জানতে চাইলে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন,প্রার্থী অনেকটা চূড়ান্ত হয়েছে।তবে কারা চূড়ান্ত প্রার্থী হয়েছেন সেটা এই মুহুর্তে বলা যাচ্ছে না।আশা করছি কয়েক দিনের মধ্যেই কেন্দ্রীয়ভাবে প্রেস রিলিজ দিয়ে জানিয়ে দেয়া হবে।