দক্ষিণ পূর্ব

চট্টগ্রাম চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচন আগামীকাল, কর্তৃত্ব ধরে রাখতে মরিয়া আ.লীগ

sathi
sathi
প্রকাশ : ২৫ এপ্রিল ২০২৫
পঠিত :
চট্টগ্রাম চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচন আগামীকাল, কর্তৃত্ব ধরে রাখতে মরিয়া আ.লীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক 
আগামীকাল শনিবার চট্টগ্রামের কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীদের প্রভাবশালী সংগঠন ‘বৃহত্তর চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নগরীর আতুরার ডিপো এলাকায় অবস্থিত সংগঠনটির এটি ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচন ।আর এই নির্বাচনকে সামনে রেখে দীর্ঘসময় ধরে সংগঠনটিকে কুক্ষিগত করে রাখা ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামীলীগের দোসররা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আওয়ামী লীগের লোকজন যেকোনো মূল্যে সংগঠনটিকে আবারও তাদের কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণে নেয়ার জন্য মহড়া দিয়ে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে—এমন অভিযোগ করেছেন সমিতির সদস্য মো. মোরশেদুল আলম। এ নিয়ে তিনি নগরীর বায়েজিদ বোস্তামি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, এ ব্যাপারে তারা সতর্ক অবস্থানে আছে। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হওয়ার জন্য কাজ করছে পুলিশ। 

জানা গেছে, আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে পরিচিত প্রার্থীদের বিপরীতে এবার নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন অপেক্ষাকৃত স্বচ্ছ ভাবমূর্তির কয়েকজন ব্যবসায়ী। এদের মধ্যে সভাপতি পদে চেয়ার প্রতীকে আলহাজ্ব বশির আহমেদ কোম্পানি আর সাধারণ সম্পাদক সাইকেল প্রতীকে মোহাম্মদ ইউনুছ ইনু। 

নির্বাচনে তাদের পক্ষে কাজ করা মোরশেদুল আলম অভিযোগ করেছেন, ছাতা প্রতীকের সভাপতি প্রার্থী আব্দুল কাদের সর্দার বহিরাগত আওয়ামী সন্ত্রাসীদের জড়ো করে প্রতিনিয়ত তাকে হুমকিধমকি দিচ্ছেন, এমনকি শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হবে বলেও শাসাচ্ছেন। আব্দুল কাদেরের সমর্থকরা প্রকাশ্যে বলছেন, সন্ত্রাসীদের দিয়ে ভোটকেন্দ্র দখল করবেন। গত রোববার ১৫-২০টি মোটর সাইকেল নিয়ে শোডাউন দিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাদের সর্দার পাঁচলাইশ ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের নেতা হিসেবে বৃহত্তর শহীদ নগর ও অক্সিজেন এলাকায় তার বিশাল একটা সন্ত্রাসী বাহিনী রয়েছে। এই কাদের সর্দারের নির্দেশে তার বাহিনীর সন্ত্রাসীরা বিগত জুলাই আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলনে মুরাদপুর এলাকায় নিরীহ শিক্ষার্থীদের উপর গুলি চালিয়েছিল। এর ছবিসহ বিভিন্ন খবর পত্রপত্রিকায় এসেছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। কিন্তু এই সন্ত্রাসীগুলো এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। কাদের সর্দার নিজেও কয়েকটি মামলার আসামি।

সমিতির সূত্রে জানা গেছে, গত দেড় দশক ধরে কাদের সর্দারসহ আওয়ামী লীগের দোসররা চট্টগ্রামে কাঁচা চামড়ার ব্যবসায় একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিল। সিন্ডিকেটবাজি করে তারা এ খাত থেকে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। বিশেষ করে ঈদুল আযহার সময় সংগ্রহ করা কাঁচা চামড়ার বেচাকেনা সম্পূর্ণ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে লুটপাট করতো। অসচ্ছল, মৌসুমী সংগ্রহকারীদের ঠকিয়ে এ সিন্ডিকেট নিজেদের পকেট ভারি করতো। এবারও ঈদুল আযহার আগে নির্বাচনের তারিখ ঘোষিত হওয়ায় তারা লুটপাটের সাম্রাজ্য হারানোর আশঙ্কায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে সমিতির কয়েকজন সদস্য অভিযোগ করেছেন।

এ অবস্থায় সমিতির নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি না তা নিয়ে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সমিতির সদস্যদের দাবি, নির্বাচনকে বানচাল করতে তৎপর আওয়ামী দোসর ও তাদের অনুগত সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করা হোক। না হলে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ ব্যাহত হবে।

তবে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ নিয়ে পুলিশ প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে আছে। ইতোমধ্যে এ বিষয়টি পুলিশের সিটি স্পেশাল ব্রাঞ্চ দেখভাল করছে। তারা নজরদারি করছে এতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর বা সহিংস কিছু ঘটছে কিনা। এছাড়া নির্বাচন যাতে সঠিকভাবে সুষ্ঠুভাবে সেটির সম্ভাব্যতা যাচাই করছে স্পেশাল ব্রাঞ্চ। 

নগরের বায়েজিদ বোস্তামি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান বলেন, চামড়া ব্যবসায়ীদের এ নির্বাচনে কোনো সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ অংশ নিতে পারবে না। সুশীল সমাজ এতে অংশগ্রহণ করবে। আমরা সবকিছু পর্যবেক্ষণ করছি কোনো ধরনের কিছু ঘটছে কিনা। আর এ বিষয় ভালোভাবে দেখছে পুলিশের সিটি স্পেশাল ব্রাঞ্চ। তাদের থেকে আমরা আপডেট পেয়ে যাবতীয় পদক্ষেপ নেবো।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।