চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি ব্যবস্থাপনা বিদেশি কোম্পানিকে দেওয়ার প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিলের (আপিলের অনুমতি) আদেশ হবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার।
বুধবার (১১ মার্চ) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বিভাগ শুনানি শেষে এই দিন ধার্য করেন। এর আগে হাইকোর্টের একক বেঞ্চ এই সংক্রান্ত রুল খারিজ করে রায় দিয়েছিলেন, যার বিরুদ্ধে এই আপিল আবেদন করা হয়েছে।
হাইকোর্টের দ্বিধাবিভক্ত রায় ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি
বিষয়টি নিয়ে এর আগে হাইকোর্ট বেঞ্চে ভিন্নমত দেখা দিয়েছিল। বেঞ্চের একজন বিচারক বিদেশি কোম্পানিকে কাজ দেওয়ার প্রক্রিয়া অবৈধ ঘোষণা করলেও অন্যজন রুল খারিজ করে দেন। নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি প্রধান বিচারপতির কাছে গেলে তিনি এটি নিষ্পত্তির জন্য বিচারপতি জাফর আহমেদের একক বেঞ্চে পাঠান। গত ২৯ জানুয়ারি সেই একক বেঞ্চ রুলটি খারিজ করে দেন, যার ফলে বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির প্রক্রিয়াটি বৈধতা পায়।
যুব অর্থনীতি ফোরামের সভাপতি মির্জা ওয়ালিদ হাসান এই রিট আবেদনটি করেন। তার অভিযোগ ছিল, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) আইন লঙ্ঘন করে এবং দেশীয় অভিজ্ঞ অপারেটরদের সুযোগ না দিয়ে সরাসরি বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করা হচ্ছে। রিটে দাবি করা হয়, কোনো অপারেটরকে দায়িত্ব দেওয়ার আগে আইন অনুযায়ী উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র আহ্বান করা উচিত ছিল।
গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দুবাইভিত্তিক একটি কোম্পানির সঙ্গে এই টার্মিনাল ব্যবস্থাপনার চুক্তি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছে, সেই একই বিতর্কিত প্রক্রিয়া বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও পুনরায় গতি পেয়েছে। এই খবর জানাজানি হওয়ার পর বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনা ও প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক। এখন সবার নজর আগামীকাল বৃহস্পতিবারের আপিল বিভাগের আদেশের দিকে।
ইই