দক্ষিণ পূর্ব

চট্টগ্রাম বিএনপিতে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য,বেড়েছে কোন্দল

sathi
sathi
প্রকাশ : ৮ জুন ২০২৫
পঠিত :
চট্টগ্রাম বিএনপিতে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য,বেড়েছে কোন্দল
ইমরান হোসাইন

গত ৫ আগস্টে পট পরিবর্তনের পর চট্টগ্রামের বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা এখন মাঠে দারুণভাবে  সক্রিয়। আওয়ামী লীগ শূন্য মাঠে অনেকটা পিকনিক মুডে  কাজ করছেন তারা।থানা ওয়ার্ডের কর্মসূচিতেও  ভীড় বাড়ছে তাদের।আর দীর্ঘ সোয়া যুগ ধরে প্রতিকূল পরিবেশে ছন্নছাড়া হয়ে পড়া নেতাকর্মীদের নিজস্ব বলয়ে আনার চেষ্টাও করে যাচ্ছেন নেতারা।ফলে তৈরি হয়েছে প্রায় ডজনখানেক গ্রুপ। বাড়ছে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব। কখনও তা রূপ নিচ্ছে সংঘাত-হানাহানিতে।এরমধ্যে  দুঃসময়ের নেতাদের বাদ দিয়ে  দিয়ে নিজস্ব লোকদের দিয়ে সংগঠন চালানোরও অভিযোগ উঠেছে জেলার আওতাধীন ৩ সাংগঠনিক ইউনিটের দায়িত্বশীল নেতাদের বিরুদ্ধে।

জানা যায়,চট্টগ্রাম মহানগর বর্তমান আহবায়ক কমিটি দেরিতে হলেও নগরজুড়ে 'নেটওয়ার্ক' গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।এখন দ্রুত সময়ের মধ্যে নগর বিএনপির সাংগঠনিক ৪৩টি ওয়ার্ডে আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করতে চায় তারা।যদিও দায়িত্ব নেওয়ার বছর খানেক সময় পার হলেও  আশানুরূপ সাড়া পায়নি এরশাদ উল্লাহ- নাজিমুর কমিটি। বিদায়ী কমিটির আহবায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন ও সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্করসহ তাদের অনুসারীদের কমিটিতে না রাখার কারণে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। 

অভিযোগ উঠে, এই কমিটিতে যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি বিদায়ী কমিটির দুই নেতার অনুসারীদের। এছাড়াও বাদ দেওয়া হয়েছে  আন্দোলন, সংগ্রামের ত্যাগী নেতাদের। ফলে অনেকটা জৌলুস হারাতে বসে নগর বিএনপির রাজনীতি। তবে আহবায়ক কমিটিতে  স্থান পাওয়া সাবেক ছাত্রনেতাদের সমন্বয়ে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায় এরশাদ উল্লাহ, নাজিমুর রহমান। 

নগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক শওকত আজম খাজা বলেন, নগর বিএনপিকে তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী করার জন্য নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঈদু আজহার পরপরই নগরীর সবগুলো ওয়ার্ডে নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি করার লক্ষ্যে ওয়ার্ড আহবায়ক কমিটি গঠন করা হবে। এরপর থানা কমিটি গঠন করে সম্মেলনের প্রস্তুতি নেওয়া হবে। পাশাপাশি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরেও আমাদের তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নানা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জিইয়ে আছে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির কোন্দল।আর ৫ আগস্টের  পর সেই কোন্দল বেড়েছে দ্বিগুণ।এরমধ্যে আহবায়ক গোলাম আকবর খোন্দকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে 'মাই ম্যান' দিয়ে  দল চালাচ্ছেন তিনি।এছাড়া ৫ আগস্ট পূর্ববর্তী সময়ে খোন্দকার নিজেই মাঠে ছিলেন না  বলে অভিযোগ রয়েছে।ঢাকা থেকে মাঝেমধ্যে চট্টগ্রাম নগরের বাসায় এসে নেতাকর্মীদেরকে চা নাস্তা খাইয়ে আবার তিনি ফিরে যেতেন বলে কথিত আছে।

এদিকে সম্প্রতি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি গঠিত হয়েছে। আর  সেই কমিটি নিয়েও তৈরি হয়েছে বিতর্ক। কমিটিতে দুঃসময়ের ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে সুবিধাবাদীদের জায়গা দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করছেন বঞ্চিতরা।এমনকি  আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত কয়েকজনকেও আহবায়ক কমিটিতে রাখা হয়েছে বলে গুঞ্জন আছে।

জানা যায়,  ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনেও তৎপরতা শুরু করেছে সম্ভাব্য প্রার্থীরা। নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দলীয় নেতাকর্মীর পাশাপাশি এলাকার সাধারণ ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন তারা। এমন অনেক  নেতা আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকায় যাতায়াত শুরু করেছেন, যারা আওয়ামী লীগ আমলের ১৭ বছরে এলাকায় দলীয় কোনো কর্মসূচিতে দেখা যায়নি। তাদের অনেকেই সেসময়  আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে মিলেমিশে নিজের ব্যবসা-বাণিজ্য সামলেছেন। খোঁজ নেননি দলীয় কর্মকাণ্ডের। 

জানা যায়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬ টি আসনে বিএনপির সম্ভাব্য  প্রার্থীদের মধ্যে মধ্যে অনেকটা চিন্তামুক্ত আছেন  দুইজন নেতা তারা হলেন চট্টগ্রামের বন্দর - পতেঙ্গা আসনে  আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সীতাকুণ্ড আসনে লায়ন আসলাম চৌধুরী।তাদের আসনে দলের অন্য কোন  প্রার্থীর নাম শোনা যায়নি এখনও । তবে চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে প্রার্থী বাছাইয়ে এবার বিএনপিকে বেশ বেগ পেতে হবে। এ আসনের শক্তিশালী প্রার্থী দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও প্রতিমন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর ইন্তেকালের পর একাধিক প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। জাফরুল ইসলামের সুই সন্তানও সম্ভাব্য  প্রার্থীর তালিকায় রয়েছেন। 

এদিকে  সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র হুম্মাম কাদের চৌধুরী ও আবদুল্লাহ আল নোমানের মৃত্যুর পর তার পুত্র সাঈদ আল নোমানও মাঠে রয়েছেন। সম্ভাব্য প্রার্থীর মধ্যে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনের নাম শোনা যাচ্ছে দুটি করে আসনে। সব মিলে এবার প্রার্থী বাছাইয়ে বিএনপিকে সংসদ নির্বাচনের আগেই উত্তীর্ণ হতে হবে বড় পরীক্ষায়।

বিএনপি কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন,আমাদের চট্টগ্রামের নেতাকর্মীরা দুঃসময়েও মাঠে ছিলো।আর এখন তো আছেই।আমরা সংগঠন গুছানো ও আগামী নির্বাচন - দুটোকেই সামনে রেখে কাজ করছি।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।