দক্ষিণ পূর্ব

চট্টগ্রাম হবে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাণিজ্য কেন্দ্র: আমীর খসরু

RAFIQ HYDER
RAFIQ HYDER
প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
পঠিত :
চট্টগ্রাম হবে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাণিজ্য কেন্দ্র: আমীর খসরু
নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম-১১ আসনে ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রাম নগরের ৩৬ নম্বর গোসাইলডাঙ্গা ওয়ার্ডের বন্দর নিমতলা খালপাড় থেকে তার নির্বাচনী গণসংযোগ শুরু হয়। 

সকাল থেকে শুরু হওয়া এ গণসংযোগে নিমতলা খালপাড়, পূর্ব ও পশ্চিম নিমতলা, সিডিএ ৯ নম্বর ব্রিজ, রোহিঙ্গা পাড়া, হিন্দু পাড়া, ৩ নম্বর ফকিরহাট, পশ্চিম গোসাইলডাঙ্গাসহ বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন তিনি।

গণসংযোগে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী, যুবক, নারী, বৃদ্ধ ও সাধারণ ভোটারের ঢল নামে। ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন এবং আমীর খসরু সাধারণ মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় তিনি বিএনপির রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ভাবনার কথা তুলে ধরেন।
প্রচারণাকালে তিনি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে নেওয়া বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির বিস্তারিত ভোটারদের সামনে তুলে ধরেন।

গণসংযোগে বক্তব্যে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর ও সমুদ্র অঞ্চল আন্তর্জাতিক ট্রেডিং পোর্টে পরিণত হবে। এটি শুধু বাংলাদেশের নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। আমাদের আশপাশের সব দেশের সঙ্গে এখান থেকেই ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালিত হবে।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবসা-বাণিজ্যের হাবে রূপ নেবে। এই বিমানবন্দর শুধু বাংলাদেশের জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর ব্যবসায়িক কার্যক্রমের অন্যতম কেন্দ্র হবে বলেন তিনি।

আমীর খসরু জানান, চট্টগ্রাম বন্দরকে ঘিরে আধুনিক ওয়্যারহাউজ, কনটেইনার ডিপো, শিপিং সার্ভিস ও আন্তর্জাতিক মানের লজিস্টিক সুবিধা গড়ে তোলা হবে। বন্দর ও বিমানবন্দর সংলগ্ন পুরো বেল্ট এলাকা একটি আন্তর্জাতিক লজিস্টিক্যাল হাবে পরিণত হবে, যেখান থেকে দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগ পরিচালিত হবে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামই হবে দেশের ট্রেডিং পোস্ট ও ম্যানুফ্যাকচারিং সেন্টার। শিল্প-কারখানা, রপ্তানি-আমদানি, উৎপাদন ও বিতরণের কেন্দ্রবিন্দু হবে এই অঞ্চল। তাই আলাদা করে বাণিজ্যিক রাজধানী ঘোষণার প্রয়োজন নেই স্বাভাবিকভাবেই চট্টগ্রাম বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানীতে পরিণত হবে।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন শুধু একটি আসনের লড়াই নয়; এটি গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। সবাইকে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে মানুষের কাছে যেতে হবে। এখন আর চিৎকার বা শোডাউন করে রাজনীতি করার সময় নেই। মানুষের দোরগোড়ায় গিয়ে তাদের কথা শুনতে হবে এবং সমাধানের পথ দেখাতে হবে বলেন তিনি।

আমীর খসরু জোর দিয়ে বলেন, বিএনপি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের রাজনীতি করে। আমরা জনগণের কাছ থেকে ক্ষমতা নিয়ে জনগণের সেবাই করতে চাই। বিএনপি কখনো মিথ্যা প্রতিশ্রুতি বা ভুয়া প্রোপাগান্ডার রাজনীতি করে না বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি গণতন্ত্রে বিশ্বাসী এবং জনগণের ভোটাধিকারের পাহারাদার। স্বাধীনতার পর প্রতিবার গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পেছনে বিএনপির ভূমিকা রয়েছে। সঠিক সময়ে জনগণই তাদের রায় দেবে, আর বিএনপি সেই রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে যোগ করেন তিনি।

গণসংযোগে আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী বেলাল, বিএনপি নেতা মো. মুছা, মো. সবুর, জাহিদ হাসান, নুরুল আমিন, মো. হারুন, হুমায়ুন কবির সোহেল, আবু সাঈদ হারুন, মো. শাহজাহান, মো. নেজাম উদ্দিনসহ দলীয় নেতাকর্মীরা।

রহা

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।