দক্ষিণ পূর্ব

চবিতে নোমানের স্মরণ সভার মাঝে শিক্ষার্থীদের পেটালো ছাত্রদল

sathi
sathi
প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০২৫
পঠিত :
চবিতে নোমানের স্মরণ সভার মাঝে শিক্ষার্থীদের পেটালো ছাত্রদল

নিজস্ব প্রতিবেদক 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) প্রয়াত বিএনপি নেতা আব্দুল্লাহ আল নোমানের স্মরণ সভা ও ইফতার আয়োজন চলাকালে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর। এ ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ও চবি কলেজের মাঠে এ হামলার ঘটনা ঘটে।হামলাকারীরা চবি ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয়ের অনুসারী। 

জানা যায়,এ সময় হামলা চালিয়ে এক শিক্ষার্থীর হাত ভেঙে দেয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর যখন ছাত্রদল নেতাকর্মীরা মারমুখী, ঠিক তখনই ক্যাম্পাসে অবস্থান করছিলেন বিএনপির  তরুণ নেতা  মীর হেলাল ও প্রয়াত আব্দুল্লাহ আল নোমানের ছেলে সাইদ আল নোমান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, কয়েকজন শিক্ষার্থী মিলে ইফতার করলে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ এলাকায় যাচ্ছিলেন। পথে ছাত্রদলের দুই নেতা বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার সময় তাদের সঙ্গে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। ছাত্রদলের নেতারা ওই শিক্ষার্থীদের উত্যক্ত করে চলে যান। পরে ইফতারের আগমুহূর্তে তারা চবি কলেজ মাঠে তিন-চারটি মোটরসাইকেল নিয়ে আসে। সেখানে ছাত্রদল নেতা সাকিবের নেতৃত্বে ওই শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালানো হয়। সাকিব চবি ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয়ের অনুসারী। এ ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হলে সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় সাকিবের পক্ষে ব্যক্তিগত ফেসবুক থেকে পোস্ট দেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, সাকিব ঘটনা মীমাংসা করতে গিয়েছিলেন।

ঘটনার শিকার শিক্ষার্থী নাবিলা বিনতে বোরহান তাঁর ফেসবুক আইডিতে লিখেন, 'ছাত্রদল কর্মী এবং সেই কর্মীর সাথে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের সমন্বয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর (মেয়েদেরও) ৫ আগস্ট পরবর্তী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ওপেনে সব থেকে বড় নেক্কারজনক অতর্কিত হামলা এটি। আমি নাবিলা বিনতে বোরহান। সাধারণ শিক্ষার্থী, ১৯-২০ সেশন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। আজ ১৩ মার্চ আমরা কয়েকজন বন্ধুবান্ধব (আনুমানিক ১০ জন) মিলে ক্যাম্পাসে ইফতার করার সিদ্ধান্ত নেই। আনুমানিক বিকাল সাড়ে ৫ টার সময় আমরা সেন্ট্রাল ফিল্ড হতে পুরাতন আইইআর ভবনের সিঁড়ির সামনে রাস্তায় হাঁটছিলাম। এমন সময় পিছন থেকে একটা বাইক প্রচন্ড গতিতে এবং হর্ণ বাজিয়ে রাস্তার একপাশে ফাঁকা থাকা সত্ত্বেও রাস্তা দিয়ে যায়। তার বাইকের স্পিড ব্রেক করার কারণে সে রেগে যায়। খারাপ কথায় গালিগালাজ করে এবং হাত দিতে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি দেখায়। আমাদের ভিতর একজন তখন বলে, ভাই রাস্তা তো একপাশে ফাঁকাই আছে। তখন সে প্রথম আমাদের একজনকে ধাক্কা দেয়। তখন উপস্থিত রাস্তায় অবস্থানরত লোকজনের কারণে সে বেশি কিছু বলতে পারে নাই। চলে যায়। আমরা ভেবেছি ছোটখাটো ব্যাপার। এই পর্যন্তই শেষ।'

তিনি আরও লিখেন, 'আমরা পুরাতন আইইআর ভবনে ইফতার নিয়ে বসি। ইফতার করবো। এমন সময় ইফতারের আনুমানিক ১০-১৫ মিনিট আগে ৪-৫টা বাইক নিয়ে একদল ছেলেপেলে আমাদের সামনে লাঠিসোঁটা নিয়ে উত্তেজিত হয়ে আসে। ওদের মধ্যে যে লিড করছিলো ওর গলায় ছাত্রদলের সেচ্ছাসেবকের কার্ড ঝুলানো ছিল। যাম নাম মেজবাহ উদ্দিন সাকিব (১৯-২০) সেশন, পাবলিক এডমিনিস্ট্রেশন ডিপার্টমেন্ট। আমরা পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে জেনেছি চবি ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয়ের অনুসারী সেই সাকিব। আরেকজন আইন বিভাগের ২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী কফিল। বাকিদের চিনিনা। ওদের ভিতর সেই সাকিব চিল্লাচিল্লি করে বলা শুরু করে, 'আমার ভাইয়ের সাথে কারা ঝামেলা করছিস সামনে আয়।' আমরা কোনো কথা বলার আগেই একটা বাইক থেকে দুইজন বহিরাগত এবং কফিল লাঠি নিয়ে এসে আমাদের উপর অতর্কিত হামলা শুরু করে। তখন আমাদের ৪-৫ জন তাদের প্রতিরোধ করতে গেলে তারা দুইজন মেয়েদেরও আঘাত করে এবং অশালীন উগ্র আচরণ করে। এর পুরো ভিডিও ফুটেজ আমাদের একজন বান্ধবী করে। '

তিনি লিখেন, এছাড়াও আই ই আর ভবনের ওখানে সিসিটিভি ফুটেজ আছে। ফুটেজ চেক করলেই সম্পূর্ণ ঘটনা যেকেউ দেখতে পারবে। সে সময় সাকিব ফোন বের করে ছবি এবং ভিডিও ধারণ করে এবং প্রকাশ্যে পরবর্তীতে আমাদের দেখে নেয়ার হুমকি দেয়। এরপর আমরা প্রক্টরকে অনেকবার ফোন দেই। কোনো রেসপন্স পাইনি। এরপর আমরা যখন সম্মিলিত ভাবে বহিরাগতদের ঘটনাস্থলে আটকানোর চেষ্টা করি, তখন সেই সাকিব এসে ওদের ছাড়িয়ে নিয়ে পালাতে সাহায্য করে। এ সময় সেখানে আনসার বাহিনীর নিরাপত্তা কর্মীরা উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এরপর আমরা চবির নিরাপত্তা কর্মীর সেই গাড়িতে করে সোশ্যাল সায়েন্স হয়ে প্রক্টরের অফিসে আসি। লিখিত অভিযোগ প্রদান করি। আমরা স্পষ্ট বলতে চাই আমাদের সাথে উক্ত ব্যক্তিদের কোনো দন্দ্ব, পরিচয় ছিলো না।'

এ দিকে এ ঘটনার পরপর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের চট্টগ্রামের সহ সমন্বয়ক খান তালাত মাহমুদ রাফি সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাঁর ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া স্ট্যাটাসে রাফি লিখেছেন, 'আজকে চবি ক্যাম্পাসে আমাদের ভাই-বোনদের উপর যে সকল ছাত্রদল কর্মী হামলা করেছে দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।'

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।