দক্ষিণ পূর্ব

চমেকের ১৫০ শয্যার বার্ন ইউনিট পরিদর্শনে মেয়র শাহাদাত ও রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন

Riayad
Riayad
প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২৬
পঠিত :
চমেকের ১৫০ শয্যার বার্ন ইউনিট পরিদর্শনে মেয়র শাহাদাত ও রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন

ছবি সংগৃহীত

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নির্মাণাধীন ১৫০ শয্যার বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট চালু হলে চট্টগ্রামসহ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অগ্নিদগ্ধ ও গুরুতর দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের চিকিৎসায় নতুন দিগন্তের সূচনা হবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও চমেক হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন।

 

সোমবার (২৭ জুলাই) চীনের অর্থায়নে নির্মাণাধীন বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট পরিদর্শনে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন চমেক হাসপাতালে এলে মেয়র এসব কথা বলেন।

 

পরিদর্শনকালে তারা নির্মাণাধীন ইউনিটের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং প্রকল্পের অগ্রগতি, অবকাঠামো, চিকিৎসা সুবিধা ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নেন।

 

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, এই বিশেষায়িত ইউনিট চালু হলে চট্টগ্রাম মহানগরীসহ পুরো অঞ্চলের অগ্নিদগ্ধ ও গুরুতর দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের দ্রুত, আধুনিক ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এতে দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা কমানোর পাশাপাশি রোগীদের ঢাকামুখী হওয়ার প্রয়োজনও অনেকাংশে কমে যাবে।

 

তিনি জানান, প্রায় ১৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে চীনা সরকারের অর্থায়নে ছয়তলা ফাউন্ডেশনের ওপর ছয়তলা আধুনিক হাসপাতাল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে ১৫০ শয্যার বার্ন ইউনিট, চারটি অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার, আইসিইউ, পুরুষ ও মহিলা এইচডিইউ, শিশু এইচডিইউসহ আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা সুবিধা সংযোজিত হবে। আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের মাধ্যমে রোগীদের উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে।

 

মেয়র আরও বলেন, বর্তমানে অগ্নিদগ্ধ ও জটিল প্লাস্টিক সার্জারির রোগীদের চিকিৎসার জন্য অনেক ক্ষেত্রেই ঢাকায় যেতে হয়। নতুন ইউনিট চালু হলে চট্টগ্রামের পাশাপাশি কক্সবাজার, কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালী, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানসহ পার্শ্ববর্তী জেলার মানুষ নিজ এলাকাতেই উন্নতমানের চিকিৎসাসেবা পাবেন। এতে চিকিৎসার সময়, ব্যয় ও ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

 

তিনি বলেন, "এই হাসপাতাল কেবল একটি অবকাঠামো নয়; এটি দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মানুষের জন্য একটি জীবনরক্ষাকারী বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে এ প্রকল্পে প্রায় ৪৭১ জন চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী ও অন্যান্য জনবলের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা দেশের স্বাস্থ্যখাতকে আরও শক্তিশালী করবে।"

 

পরিদর্শন শেষে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, চীনের অর্থায়নে নির্মাণাধীন এই প্রকল্পের অগ্রগতি দেখে তারা অত্যন্ত সন্তুষ্ট। ইতোমধ্যে অবকাঠামোগত কাজের প্রায় অর্ধেক সম্পন্ন হয়েছে এবং ২০২৭ সালের মধ্যেই পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। চট্টগ্রামের মানুষের উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এ প্রকল্পে অংশীদার হতে পেরে চীন সরকার আনন্দিত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

 

চমেক হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সহ-সভাপতি ও সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চট্টগ্রামসহ আশপাশের জেলার লাখো মানুষের প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্র। এতদিন বিশেষায়িত বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট না থাকায় রোগীদের নানা দুর্ভোগ পোহাতে হতো। নতুন ইউনিট চালু হলে এ অঞ্চলের মানুষ আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসাসেবা স্বল্প ব্যয়ে নিজ এলাকাতেই গ্রহণ করতে পারবেন।

 

এ সময় চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন নির্মাণাধীন বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সার্বিক পরিকল্পনা, অবকাঠামো, চিকিৎসা সুবিধা ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত উপস্থাপন করেন।

 

পরিদর্শনকালে চীনের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা, চমেক হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, অধ্যাপক ডা. তমিজ উদ্দিন আহমেদ মানিক, ডা. বেলায়েত হোসেন ঢালীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

আরএইচ 

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।