দক্ষিণ পূর্ব

চমেকে জুলাই নিয়ে ছাত্রলীগ কর্মীর ব্যঙ্গ পোস্ট,শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

sathi
sathi
প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০২৫
পঠিত :
চমেকে জুলাই নিয়ে ছাত্রলীগ কর্মীর ব্যঙ্গ পোস্ট,শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
নিজস্ব প্রতিবেদক 

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী জুলাই আন্দোলনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা। 

বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এ নিয়ে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। 

বিবৃতিতে শিক্ষার্থীরা জানান, রক্তস্নাত জুলাই বিপ্লবের পর আজকে আমাদের এমন একটা বিষয় নিয়ে কথা বলতে হচ্ছে যেটা অনভিপ্রেত। আমরা মনে করেছিলাম দেশের প্রতি ইঞ্চি জায়গা থেকে গণহত্যাকারী ও তার দোসররা পালিয়েছে। কিন্তু ইতিহাসের নির্মম পরিহাস-ক্ষমতার পালাবদলের পর, স্বৈরাচারী ও জালিম গোষ্ঠীর তল্পিবাহকরা কীভাবে ক্ষমতাধরদের পাচাটা অনুচরে রূপান্তরিত হয়, তা আমরা দেশের বিভিন্ন জায়গায় অবলোকন করেছি। যারা একদা ছিল পূর্বতন স্বৈরশক্তির ছায়ায়, তারা অচিরেই নতুন পতাকা নেয়ে উঠে পরতে চাচ্ছে ক্ষমতার পাঠাতনে- হয়ে উঠতেছে নতুন নেতার উচ্ছিষ্টভোগী। কিন্তু আমরা এই কদর্য সংস্কৃতিকে চিরতরে বিদায় জানানোর জন্য ২০২৪-এর জুলাই বিপ্লব করেছি। আমরা এই শিক্ষাজনকে এদের পুনর্বাসন কেন্দ্র বানাতে দেইনি, দিবোও না।

শিক্ষার্থীরা জানান, আমরা স্পষ্ট করে জানাতে চাই-ছাত্রলীগ কিংবা আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে এ ক্যাম্পাসে আর এক বিন্দুও ঠাঁই দেওয়া হবে না। যারা তাদের ঠাঁই দেয়ার চেষ্টা করবে তাদেরকে স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দিচ্ছি-আপনারা যদি এই ক্যাম্পাসে আবারও হাসিনার দালাল, দিল্লীর দাস, লীগারদের পুনর্বাসিত করতে চান, তবে মনে রাখবেন-আপনার শেষ ঠিকানা সেই স্বৈরাচারের মতোই হবে।

ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ:

জুলাই বিপ্লবের সময়, ১৬ ই জুলাই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে আন্দোলন শুরু হয়। এই তথ্য তৎকালীন ছাত্রলীগের প্রাইভেট গ্রুপে শেয়ার করে আসিফ হাসান নিয়ন (৬৪ তম ব্যাচ)। আন্দোলনের মিছিল বের হলে ঐটাতে তাদের ওপর হামলা করার জন্য বলে। ভার্সিটির মতো আন্দোলনকারীদের মারবে কিনা তাও বলে। পরে, দেখা যায় ব্যক্তিগতভাবে সে মারার পক্ষে না বলে। ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের মুরাদপুরে ছাত্র জনতার হাতে ছাত্রলীগের শোচনীয় পরাজয়ের পর ভয়ে অনেক ছাত্রলীগ রাজনীতি ছেড়ে দেয় বলে ঘোষণা দেয়। কিন্তু নিয়ন ঘোষণা দেয় ১৭ জুলাই রাতে। এর আগ পর্যন্ত মেডিকেলে ৩ বছর সে ছিলো নওফেলপন্থী কট্টর ছাত্রলীগ। এসময়ে ছাত্রলীগের দ্বারা সংঘটিত সকল অপরাধের অংশীদারও সে।

৫ আগস্ট এর পর নতুন দেশে চমেক ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের বিচার কার্যক্রমের জন্য দাবি উত্থাপন হয় ও কয়েকজন শিক্ষার্থী এ কাজে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ ও সংরক্ষণে নেমে পরে।

চমেকে প্রায় ১৫০০ জন ছাত্রলীগ ছিলো। তারমধ্যে ৮৬ জনের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দেয়া হয়। কারণ, বাকিরা আগেভাগেই স্ব স্ব ব্যাচ ও জুনিয়র ব্যাচের কাছে ক্ষমা চায় এবং অনেকের বিরুদ্ধে গায়ে হাত তোলার পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া না যাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়া হয়নি। নিয়ন তাদের একজন। তার বিরুদ্ধে জুলাই বিপ্লবের সময়ের উপরিউক্ত অভিযোগ থাকায় ৫ আগস্টের পর মুচলেকা নিয়ে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হয়।

গত ৭ জুলাইয়ের ঘটনা:

ফেসবুক কমেন্টে নাজমুল আলম (৬৪ ব্যাচ) ও মুরাদের (৬৩ ব্যাচ) মধ্যে তর্ক হয় এর প্রেক্ষিতে মুরাদ নাজমুলের রুমে যায় ও তাদের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়। এর প্রেক্ষিতে আসিফ হাসান নিয়ন ফেসবুকে পোস্ট দেয় যে নাজমুলকে হুমকি দেয়া হয়েছে। যেখানে নাজমুল নিজেই বলতেছে তাকে কোন হুমকি দেয়া হয়নি। ঘটনা পরিক্রমায় মুরাদের রুমে গিয়ে তার ২ জন ব্যাচমেট সাইফুল ইসলাম ইমন (৬৩ তম ব্যাচ) ও মুশফিকুর রহমান (৬৩ তম ব্যাচ) মুরাদকে পলিটিক্যালি ডীল করার হুমকি দেয়। এই ঘটনায় ক্যাম্পাসের অন্য কেউ জড়িত হয়নি। পরবর্তীতে এই ঘটনায় তাদের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে বলেও জানা যায়। এতটুকুতে ঘটনা শেষ হতে পারতো।

কিন্তু, পরবর্তীতে নিয়ন জুনিয়র ৬৫ তম ব্যাচকে থ্রেট দিয়ে পোস্ট দেয়। এখানেও কেউ প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। কিন্তু, সে যখন জুলাইয়ের পর ছাত্রলীগারদের জন্য ঘোষণা করা সাধারণ ক্ষমা নিয়ে কটাক্ষ করে আবার পোস্ট দেয়। সাধারণ ক্ষমা পেয়ে ছাত্রলীগাররা ঐসময় আবার ক্লাসে ফিরে আসার অনুমতি পেয়েছিলো। এখন, কেউ যদি সাধারণ ক্ষমা না মানে তখন এক্স ছাত্রলীগের কেউই মানবেনা। কলেজের অবস্থা তখন কেমন হবে? তাই, সে যখন ঔদ্ধত্যপূর্ণ ভাষায় এই ক্ষমাকে অস্বীকার করছে তখন সিনিয়র ৬২ তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা হলগ্রুপে স্যারদেরকে জানায় ও সব ব্যাচের শিক্ষার্থীদের নিয়ে নিয়নের রুমে গিয়ে তাকে ডেকে নিয়ে আসে ডাইনিং এ যেখানে প্রিন্সিপাল, হোস্টেল কমিটি ও অন্যান্যরা স্যারেরাও আসেন।

শিক্ষার্থীরা জানান, নিয়নের রুমে তখন নিয়ন ছিলো না, তার রুম ভাঙচুর করাও হয়নি। সে পাশের রুমে ছিলো, এবং ঐ রুমের দরজা খোলা ছিলো। তাকে কোনপ্রকার গায়ে হাত দেয়াও হয়নি। সকল শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা এটার স্বাক্ষী আছেন। ঐ সময় মেডিকেল হোস্টেলে মব হচ্ছে বলে চমেকের কয়েকজন শিক্ষকের ইন্ধনে কিছু বহিরাগত লোক জড়ো হতে দেখা যায়। মেডিকেল কলেজ ও হোস্টেলের বিষয়ে কেন বহিরাগত নিয়ে আসা হলো? এর জবাব আমরা এখনো পাইনি।

তারপর অভিযোগ শুনে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ ও এর নোংরা সংস্কৃতির পুনর্বাসন রোধে কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়নের নিরাপত্তার জন্য তাকে সাময়িক হলে না আসতে বলা হয়। এবং পরবর্তী দিন গত ৮ জুলাই একাডেমিক কাউন্সিলের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করে এর প্রতিবেদন পেশ ও পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিয়নকে সকল প্রকার একাডেমিক কার্য্যক্রমসহ প্রধান ছাত্রাবাসের অবস্থান থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকার জন্য নির্দেশ দেয়।

কর্তৃপক্ষের কাছে শিক্ষার্থীদের দাবি:

১. কেউ কোন ভাবে চমেক ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগকে পূনর্বাসন বা জুলাই বিপ্লবকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার নূন্যতম সাহস দেখালে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।

২. বহিরাগত লোক এনে কেউ আবার ছাত্রলীগের সংস্কৃতি চালু করতে চাচ্ছেন? মেডিকেল কলেজ ও হোস্টেলের বিষয়ে পরবর্তীতে কোন বহিরাগত হস্তক্ষেপ মেনে নেয়া হবে না এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় এ সংক্রান্ত আদেশ জারী করতে হবে।

এছাড়া যথাযথ তথ্য না জেনে, ম্যানিপুলেটেড হয়ে ও একক সিদ্ধান্তে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন, চট্টগ্রাম মহানগরের আহ্বায়ক আরিফ মঈনুদ্দিনের মিথ্যা ও বানোয়াট বিবৃতিকে আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করার ঘোষণা দেয় শিক্ষার্থীরা। কিছু অনলাইন এক্টিভিস্ট ও ফটোকার্ড বানানো মিডিয়ার মিথ্যা প্রোপাগান্ডার কারণে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও এর শিক্ষার্থীদের যে সম্মানহানি ও ইমেজ সংকট তৈরি হয়েছে তার তীব্র নিন্দা জানান শিক্ষার্থীরা।

ইই

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।