দক্ষিণ পূর্ব

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর চাকসুর ভোটগ্রহণ শুরু

মনির ফয়সাল
মনির ফয়সাল
প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০২৫
পঠিত :
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর চাকসুর ভোটগ্রহণ শুরু
নিজস্ব প্রতিবেদক 

দীর্ঘ ৩৫ বছর প্রতীক্ষার পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (চাকসু) হল সংসদ ও এবার নতুন যুক্ত হওয়া হোস্টেল সংসদের নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। 

বুধবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় এ ভোটগ্রহণ। যা চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ, সমাজবিজ্ঞান অনুষদ, বিজ্ঞান অনুষদ এবং কলা ও মানববিদ্যা অনুষদ, আইটি ভবন মোট পাঁচটি ভবনে ১৫টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে।

ভোটগ্রহণকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল টিমের পাশাপাশি মাঠে আছে বিপুল সংখ্যক পুলিশ, এপিবিএন ও আনসার সদস্যসহ সেনাবাহিনীর রিজার্ভ ফোর্স। সব কেন্দ্রেই স্থাপন করা হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক নিরাপত্তায় ১হাজার ৫০ জন পুলিশ এপিবিএন ও সাইকেল আকারে ৪০ জন র‍্যাব মেতায়ন আছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পরিচয় পত্র ছাড়া কাউকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছেনা। এছাড়াও যেকোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় থাকবে রিজার্ভ ফোর্স।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ২৭ হাজার ৫১৬ জন শিক্ষার্থী ভোটদানের জন্য যোগ্য, এর মধ্যে ৯টি ছাত্র হলে ১৬ হাজার ১৮৪ জন এবং ছয়টি ছাত্রী হলে ১১ হাজার ৩৩২ জন ভোটার রয়েছেন। চাকসু ও হল সংসদ মিলিয়ে মোট ৯০৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে চাকসুতে ২৬ পদের বিপরীতে ৪১৫ জন এবং হল সংসদে বিভিন্ন পদের জন্য ৪৯৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় ২৪ জন প্রার্থী ইতিমধ্যে জয়লাভ করেছেন।

এবার নির্বাচনে ১২টি প্যানেল লড়ছে। সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ২৪ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ২২ জন এবং সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে ২১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। হল কাউন্সিল নির্বাচনে ভিপি পদে ২৬ জন, জিএস পদে ২৮ জন এবং এজিএস পদে ৩০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ছয়টি ছাত্রী হলে ভিপি এবং এজিএস পদে ১২ জন করে প্রার্থী এবং জিএস পদে ১৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফল পাওয়ার পর এবার চাকসু নির্বাচনেও জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে চায় ইসলামী ছাত্রশিবির। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংগঠনটির মনোনীত ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেল ৩৩ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছে। এ ইশতেহার ১২ মাসে পূরণ করার অঙ্গীকারও করেছে প্যানেলটি। তবে ছাত্রশিবিরের মতো নির্বাচনে জয়ী হতে মরিয়া ছাত্রদলসহ অন্য প্যানেলও। তারাও নানা কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে জোর প্রচারণা চালিয়েছেন।

ছাত্রশিবিরের নেতারা বলছেন, তাদের প্যানেলে প্রার্থী নির্বাচনে বৈচিত্র্য আনা হয়েছে। দলীয় ছাড়াও এমন শিক্ষার্থীদের আনা হয়েছে, যারা নিজ নিজ অবস্থানে সেরা। তাই শিক্ষার্থীরা সেরা প্রার্থীদেরই ভোট দিবে বলে আশাবাদী তারা। প্যানেলের প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে নিজেদের ইশতেহার তুলে ধরে প্রচারণা চালিয়েছেন। এর পাশাপাশি অনলাইন প্রচারণায়ও তারা সমানভাবে অংশ নিয়েছেন।

ছাত্রশিবিরের প্যানেলটির ভিপি পদপ্রার্থী মো. ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, শিক্ষার্থীরা যোগ্য প্রার্থীকেই ভোট দেবে। এখানে প্যানেল মুখ্য বিষয় না, মূখ্য বিষয় যোগ্য প্রার্থী। আমাদের প্যানেলে বৈচিত্র্য আছে। এখানে যেমন ছাত্রশিবিরের ভাইয়েরা আছেন, তেমনি অন্যান্য প্লাটফর্মের সেরা শিক্ষার্থীরাও আছেন। প্যানেলের সবাই যার যার জায়গায় দক্ষ। আমরা মনে করি শিক্ষার্থীরা এ বিষয়টি বিবেচনা করবে।

অন্যদিকে জয়ের ব্যাপারে একইভাবে আশাবাদী ছাত্রদলের প্যানেলসহ অন্যান্য ১২ প্যানেলের প্রার্থীরাও। জয়ী হতে তারাও সকাল থেকে রাত অবধি ক্যাম্পাসজুড়ে চষে বেড়িয়েছেন। শিক্ষার্থীদের আশার বাণী শুনিয়েছেন। তুলে ধরেছেন নিজেদের ইশতেহারও।

উল্লেখ্য, গেল ২৮ অগাস্ট চাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এরপর ১ সেপ্টেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর যাচাই-বাছাই শেষে ১১ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়। একই মাসের ১৪ তারিখ শুরু হয় মনোনয়ন পত্র বিতরণ। যা শেষ হয় ১৭ সেপ্টেম্বর। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে ২১ সেপ্টেম্বর প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেপ্টেম্বরের ২৫ তারিখ প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়। এরপর নির্বাচনের জন্য ১২ অক্টোবর দিন ঠিক করা হলেও পরে শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে সেটি পিছিয়ে ১৫ অক্টোবর করা হয়।

এমএইচএফ

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।