দক্ষিণ পূর্ব

চা বোর্ডের জমিতে আরএসআরএমের কারখানা, অবশেষে উচ্ছেদ

মনির ফয়সাল
মনির ফয়সাল
প্রকাশ : ৯ জানুয়ারী ২০২৬
পঠিত :
চা বোর্ডের জমিতে আরএসআরএমের কারখানা, অবশেষে উচ্ছেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক 


দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া পরিশোধ না করা, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও জমি দখলে রাখা এবং উচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে ইস্পাত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আরএসআরএম গ্রুপের একটি কারখানা উচ্ছেদ করেছে বাংলাদেশ চা বোর্ড। এই উচ্ছেদের মাধ্যমে চা বোর্ডের শতাধিক কোটি টাকার ৬৫ শতক জায়গা উদ্ধার হয়।


বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকালে নগরের বায়েজিদ শিল্প এলাকায় অবস্থিত মডার্ন স্টিল মিলস লিমিটেড নামের কারখানাটি জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হুসাইন মোহাম্মদ এর নেতৃত্বে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় উচ্ছেদ করা হয়। সরকারি জমি দখল ছাড়াও বিভিন্ন ব্যাংকের প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে মডার্ন ষ্টীল মিলস লিমিটেড ও রতনপুর স্টীল মিলস লিমিটেড এর বিরুদ্ধে।


বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চা বোর্ডের উপপরিচালক (বাণিজ্য) মুহাম্মদ মদহুল কবীর চৌধুরী। তিনি জানান, ২০০৮ সালে মডার্ন স্টিল মিলস লিমিটেড চা বোর্ডের কাছ থেকে ৬৫ শতক খালি জমি ভাড়ায় নেয়। সে সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ভাড়ানামা চুক্তি হয়। পরে ২০১৮ সালে আরও চার বছরের জন্য চুক্তি নবায়ন করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে জমিটি খালি করে দেওয়ার কথা ছিল। সেখানে চা বোর্ডের প্রধান কার্যালয় ও আবাসন প্রকল্প নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ জায়গা ছাড়েনি।


চা বোর্ডের হিসাবে, ভাড়া বাবদ প্রতিষ্ঠানটি থেকে চা বোর্ড প্রায় ২ কোটি ২৪ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। গত প্রায় চার বছরে একাধিকবার লিখিত নোটিশ দেওয়া হলেও বকেয়া পরিশোধ বা জায়গা ছাড়ার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। উল্টো চা বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হুমকি দেওয়া এবং মিথ্যা মামলায় জড়ানোর ভয় দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। গেলো বছরের ১ জুন উচ্চ আদালত এক মাসের মধ্যে সব বকেয়া পরিশোধের নির্দেশ দেন। তবে আদালতের আদেশের সাত মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো অর্থ পরিশোধ করা হয়নি।


উল্লেখ্য, মর্ডান স্টীল মিলস লিমিটেড ও রতনপুর স্টীল মিলস লিমিটেড বাংলাদেশ চা বোর্ড ছাড়াও সরকারি ব্যাংক ও সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।  তারমধ্যে সোনালী ব্যাংকের পাওনা প্রায় ১ হাজার ৩৫৮ কোটি টাকা। অর্থঋণ আদালতে এ নিয়ে ২টি মামলা চলমান আছে। জনতা ব্যাংকের পাওনা প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। জনতা ব্যাংকও অর্থঋণ আদালতে মামলা করেছে। পাশাপাশি সোনালী ব্যাংক পাওনা রয়েছে ৬৬৩ কোটি টাকা। এছাড়া পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ এর পাওনা রয়েছে ১.২১ কোটি টাকা। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের পাওনা ২৬.০৮ কোটি টাকা। জনতা ব্যাংকের অর্থ ঋণ  মামলায় এ প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার জনাব মিজানুর রহমান ২০২২ সালে গ্রেফতার হয়েছিলেন। কিন্তু তিনি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জামিনে বের হয়ে আসেন। তার বিরুদ্ধে টাকা পাচারের অভিযোগে দুদকেও মামলা চলমান রয়েছে। এছাড়া গ্রুপটির রতনপুর শিপ রিসাইক্লিংয়ের কাছে মার্কেন্টাইল ব্যাংক পাবে ১৫০ কোটি, একই প্রতিষ্ঠানের কাছে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ৫৬ কোটি, মেসার্স মডার্ন স্টিল রি-রোলিংয়ের কাছে ট্রাস্ট ব্যাংক ৬০ কোটি, এসএম স্টিল রি-রোলিংয়ের কাছে লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্স ৫৫ কোটি ও একই প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রাইম ফাইন্যান্স ২৪ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে।


এমএইচএফ

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।