দক্ষিণ পূর্ব

চেরাগী পাহাড়ে বিটিসিএলের খোঁড়াখুঁড়িতে ওয়াসার হাজারো লিটার পানির অপচয়

Riayad
Riayad
প্রকাশ : ১৯ জুন ২০২৬
পঠিত :
চেরাগী পাহাড়ে বিটিসিএলের খোঁড়াখুঁড়িতে ওয়াসার হাজারো লিটার পানির অপচয়

ছবি সংগৃহীত

চট্টগ্রাম নগরের চেরাগী পাহাড় এলাকায় অপটিক্যাল ফাইবার স্থাপনের কাজ করতে গিয়ে ওয়াসার একটি প্রধান পানি সরবরাহ পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)। এতে কয়েক ঘণ্টা ধরে প্রচণ্ড চাপে পানি বের হয়ে আশপাশের সড়ক প্লাবিত হয় এবং হাজার হাজার লিটার সুপেয় পানির অপচয় ঘটে।

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোরে এ ঘটনা ঘটে। পরে ওয়াসা ও বিটিসিএলের কর্মীরা যৌথভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ শনাক্ত করে সংস্কারকাজ শুরু করেন। পাইপলাইন মেরামতের কারণে আন্দরকিল্লা থেকে জামালখান এলাকার পানি সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে চেরাগী মোড়ের হাইওয়ে সুইটসের সামনে বিটিসিএলের কর্মীরা অপটিক্যাল ফাইবার স্থাপনের জন্য খোঁড়াখুঁড়ি করছিলেন। এ সময় অসাবধানতাবশত ওয়াসার কালুরঘাট বুস্টার পাম্প স্টেশনের ২৪ ইঞ্চি ব্যাসের একটি পাইপলাইন ফুটো হয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে উচ্চচাপে পানি বের হতে শুরু করে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই আশপাশের সড়কে ছড়িয়ে পড়ে।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পানির প্রবল স্রোতে এলাকাটি অনেকটা বন্যা পরিস্থিতির মতো মনে হচ্ছিল। পানি ছড়িয়ে পড়ায় যানবাহন চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।

 

কদম মোবারক গলির বাসিন্দা আইয়ুব আলী বলেন , গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পানি পাইনা তার উপর পানি অপচয়। “বিটিসিএলের দায়সারা কাজের কারণে ওয়াসার পাইপলাইন ফেটে গেছে। রাস্তাজুড়ে পানি ছড়িয়ে পড়ছে, অপচয় হচ্ছে মূল্যবান সুপেয় পানি।”

 

বিকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওয়াসার সুপারভাইজার মোহাম্মদ হারুনের নেতৃত্বে মেরামতকাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত পাইপলাইনের অংশে বড় গর্ত খুঁড়ে দুই পাশ বন্ধ করে সংস্কারের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কয়েকজন শ্রমিক কাদা ও মাটি সরানোর কাজ করছিলেন।

 

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম ওয়াসার মড-৪ জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী সৌমিত পাল বলেন, “ভোরে বিটিসিএলের কর্মীরা কাজ করার সময় পাইপলাইনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের প্রকৌশলীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মেরামতকাজ শুরু করেন। এ ঘটনায় বিটিসিএলকে চিঠি দেওয়া হবে এবং সংস্কার ব্যয়ের বিষয়ে তাদের সহযোগিতা নেওয়া হবে।”

 

তিনি আরও বলেন, “সংস্কারকাজের সুবিধার্থে একটি নির্দিষ্ট সেকশনে পানি সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। আন্দরকিল্লা থেকে জামালখান এলাকার গ্রাহকেরা সাময়িকভাবে ভোগান্তিতে পড়লেও শুক্রবার সকালের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে আশা করছি।”

আর এইচ 

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।