কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর উদ্ধার হওয়া ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক জিসান প্রধানকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন এস এম ফরহাদ।
শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান।
ফেসবুক পোস্টে এস এম ফরহাদ দাবি করেন, গত বৃহস্পতিবার (১২ জুন) রাতে পুলিশ জিসানকে উদ্ধারের পর থেকে শনিবার দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ছাত্রশিবিরের কোনো প্রতিনিধি বা জিসানের পরিবারের সদস্যদের তার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। তিনি জানান, জিসান এখনও পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। ফলে নিখোঁজ বা অপহরণ সংক্রান্ত ঘটনার বিষয়ে তার সরাসরি বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
ফরহাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ মুহূর্তে নিখোঁজের ঘটনায় তাদের কাছে পুলিশের বক্তব্য ছাড়া অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র নেই।
পোস্টে আরও বলা হয়, জিসানের বিরুদ্ধে মামলা করা বিধবা নারী লিজা আক্তার-এর বড় বোনের দাবি অনুযায়ী, গতকাল বিকেলে ১৫ থেকে ২০ জন পুলিশ বা প্রশাসনের সদস্য তাদের বাড়ি থেকে লিজাকে নিয়ে যান। এ সময় পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে যেতে দেওয়া হয়নি।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, লিজা ও তার বাবাকে এখনও পুলিশের হেফাজতে পৃথক অবস্থায় রাখা হয়েছে এবং তাদের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের যোগাযোগ সম্ভব হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।
লিজার বড় বোন সাবিকুন্নাহার জানান, বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়ার পর থানায় নেওয়া, মামলা দায়ের কিংবা বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত জানেন না। কারণ, পরিবারের কেউই লিজা ও তার বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি।
তবে তিনি জিসান ও লিজার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে আগে থেকেই জানতেন বলে উল্লেখ করেছেন।
এস এম ফরহাদ বলেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ না থাকায় ঘটনাটির প্রকৃত রহস্য বা বাস্তবতা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে জিসান ও লিজার মধ্যে প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়ায় সাংগঠনিক বিধি অনুযায়ী জিসান প্রধানকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে কোনো ধরনের অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে ভুক্তভোগীকে সব ধরনের আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।
আর এইচ