চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় অস্ত্রের মুখে এক প্রবাসীর পরিবারের কাছ থেকে জোরপূর্বক ব্যাংকের চেকে স্বাক্ষর নেওয়ার পর সেই চেক ব্যবহার করে প্রবাসী ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে পৃথক চেক ডিজঅনার মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীরা এ ঘটনাকে পরিকল্পিত হয়রানি বলে দাবি করেছেন।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) চট্টগ্রাম আদালতে মামলার হাজিরা দিতে এসে ভুক্তভোগী শিরু আক্তার এসব অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে নগরের অক্সিজেন শহীদনগর এলাকার ‘স্বপ্ন সিঁড়ি’ নামের একটি ভবনে অবস্থিত তার বাসায় শাহনেওয়াজ রিয়াদ (৫০) চারজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে প্রবেশ করেন। বাসায় ঢুকেই তারা অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন এবং ছুরি প্রদর্শন করে তাকে ও তার মেয়েকে হত্যার ভয় দেখান।
শিরু আক্তারের অভিযোগ, প্রাণনাশের ভয়ে তার মেয়ে আইভী সুলতানা ঝুমুর আইএফআইসি ব্যাংকের মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ৪০ হাজার টাকা তুলে অভিযুক্তদের দেন। সেসময় বাসার আলমারি ভেঙে মালামালসহ ভয়ভীতি দেখিয়ে কয়েকটি ব্যাংক চেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করিয়ে নেয়।
তিনি বলেন, ঘটনার সময় তার মেয়ে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ শুরু করলে এবং আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর বায়েজিদ বোস্তামী থানায় অভিযোগ করতে গেলে পুলিশ আদালতের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেয় বলে জানান শিরু আক্তার। পরে তিনি চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দণ্ডবিধির ৪৪৮, ৩৮৬ ও ৫০৬(২) ধারায় একটি সি.আর. মামলা (নং-৮৮/২০২৫) দায়ের করেন।
ভুক্তভোগীর দাবি, ওই মামলার পর অভিযুক্তরা তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক নেওয়া চেক ব্যবহার করে তার প্রবাসী স্বামী আহমুদুল হক এবং তার বিরুদ্ধে পৃথক দুটি চেক ডিজঅনার মামলা দায়ের করেছে।
শিরু আক্তার বলেন, “আমার স্বামী একজন প্রবাসী ও রেমিট্যান্স যোদ্ধা। তিনি দেশে না থাকায় এসব মিথ্যা মামলা মোকাবিলা করা আমাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। আমাদের ঘর থেকে জোর করে নেওয়া চেক দিয়েই এখন আমাদের আসামি করা হয়েছে। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।”
মুঠোফোনে প্রবাসী আহমুদুল হক বলেন, “বাসা থেকে জোরপূর্বক নেওয়া চেক ব্যবহার করে আমার ও আমার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা করা হয়েছে। এসব মামলা থেকে প্রতিকার, পরিবারের নিরাপত্তা এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাইফুদ্দীন বলেন, “এটি একটি পরিকল্পিত হয়রানিমূলক মামলা। ভুক্তভোগীদের বাসা থেকে অস্ত্রের মুখে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া চেক ব্যবহার করে পরবর্তীতে চেক ডিজঅনার মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে আমরা আদালতে জানিয়েছি। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হলে নির্দোষ প্রবাসী ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর অসারতা প্রমাণিত হবে।”
বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন (বিএইচআরএফ)-এর চট্টগ্রাম জেলা সভাপতি ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জিয়া হাবীব আহসান বলেন, “ব্যাংকের চেক ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো অবস্থাতেই চেকের অপব্যবহারের সুযোগ দেওয়া যাবে না। প্রতারণার মাধ্যমে চেক নিয়ে হয়রানি করলে ভুক্তভোগীরা আইনের আশ্রয় নিতে পারেন। এ ধরনের প্রতারকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে এবং বিচার নিশ্চিত হবে।”
এ বিষয়ে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত শাহনেওয়াজ রিয়াদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।