দক্ষিণপূর্ব ডেস্ক
দেশ ও জাতির বহুল প্রতীক্ষিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এবার বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ও বিএনপি ঘনিষ্ঠ আইনজীবী আবদুস সালাম মামুন। তিনি অভিযোগ করেছেন, কতিপয় ছোট দলের বড় নেতা ‘এক-এগারোর’ মতো অগণতান্ত্রিক পরিস্থিতি তৈরি করে নির্বাচন বিলম্বিত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন।
শনিবার (৫ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের একটি রেস্টুরেন্টে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
বিচারপতি মামুন বলেন, ‘ছোট দলের একজন বড় নেতা বাঁকা পথে রাষ্ট্রপতি হওয়ার খায়েশে নির্বাচনী প্রক্রিয়া ব্যাহত করার চক্রান্ত করছেন। জাতিকে এ ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সজাগ থাকতে হবে। জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এসব কূটকৌশল রুখে দিতে হবে।’
অলি আহমদের প্রতি ইঙ্গিত?
এসময় সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি সরাসরি নাম না নিলেও ইঙ্গিত দেন চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদের দিকেই। তিনি বলেন, ‘যাদের দল ছোট, কিন্তু নিজেদের বড় নেতা ভাবেন, আমি তাদের কথাই বলছি।’
সাবেক বিচারপতি মামুন আরও বলেন, ‘চন্দনাইশে বর্তমানে ওই দলের নাম ব্যবহার করে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি চলছে। কিন্তু দলের নেতারা এর বিচার তো করেনই না, বরং উৎসাহই দিচ্ছেন বলে মনে হয়। বিএনপির কেউ এসব অপকর্মে জড়িত নয়।’
ভবিষ্যৎ নির্বাচনে অংশগ্রহণের ইচ্ছা
আগামী সংসদ নির্বাচনে চন্দনাইশ থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ইচ্ছার কথাও জানান বিচারপতি মামুন। তিনি বলেন, ‘দল চাইলে ইনশাআল্লাহ ধানের শীষ প্রতীকে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে চন্দনাইশ আসন পুনরুদ্ধার করবো।’
ইতিহাস ও দলীয় ভূমিকা
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা বিচারপতি আবদুস সালাম মামুন জানান, তিনি ১৯৭৯ সাল থেকে চন্দনাইশে বিএনপির হয়ে কাজ করছেন। ২০০১ সালে দলীয় মনোনয়ন না পেলেও ২০০৮ সালে মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত ছিলেন না। তবু মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং এখনো আছেন।
তিনি বলেন, ‘এখন চন্দনাইশে বহু ‘সুসময়ের কোকিল’ বিএনপিতে উঁকি দিচ্ছে, যাদের নাম এলাকার মানুষ আগে কখনো শোনেনি। চন্দনাইশের জনগণ গণতান্ত্রিক মনোভাবাপন্ন, তারা এসব চক্রান্তকারীকে প্রত্যাখ্যান করবে।’
জাতীয় নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ
জাতীয় নির্বাচন ঘিরে ষড়যন্ত্রের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হলে শুধু দেশের ক্ষতি নয়, আমাদের একমাত্র নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূসের আন্তর্জাতিক মর্যাদাও ক্ষুণ্ণ হবে। এক-এগারোর দিকে জাতিকে ঠেলে দেওয়া হলে বাংলাদেশ বিশ্ব পরিমণ্ডলে অনেক পিছিয়ে পড়বে।’
এসএস