দক্ষিণ পূর্ব

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসির প্রস্তুতি শতভাগ, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ভোটের সম্ভাবনা

shakhawat sohan
shakhawat sohan
প্রকাশ : ৩০ অক্টোবর ২০২৫
পঠিত :
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসির প্রস্তুতি শতভাগ, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ভোটের সম্ভাবনা
দক্ষিণপূর্ব ডেস্ক 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন এখন সরগরম। অংশগ্রহণমূলক, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে।

ইসির সূত্রে জানা গেছে, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ভোট আয়োজনের প্রাথমিক সময়সূচি নির্ধারিত রয়েছে। ইতোমধ্যে ভোটার তালিকা হালনাগাদ, আসন সীমানা পুনর্বিন্যাস, নির্বাচনী কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ এবং আচরণবিধি সংশোধনসহ বেশিরভাগ প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, আমরা একটি উৎসবমুখর, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাই। প্রশাসনিক, প্রযুক্তিগত বা আইনগত প্রস্তুতির কোনো ঘাটতি থাকবে না।

তিনি জানান, ২৫ লাখ নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নারী ভোটার ৫২ শতাংশ। সর্বশেষ হিসাবে দেশে মোট ১২ কোটি ৬৩ লাখ ৭ হাজার ৫০৪ জন ভোটার রয়েছে—পুরুষ ৬ কোটি ৪১ লাখ, নারী ৬ কোটি ২২ লাখ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১,২৩০ জন।

দেশজুড়ে ভোট গ্রহণের জন্য ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্র ও ২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৯টি ভোটকক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছে।

ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, আমাদের প্রস্তুতি ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ শেষ। রাজনৈতিক দল ও পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন চূড়ান্ত হলেই শতভাগ প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে।

তিনি জানান, ১৮টি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে—যেখানে নিরাপত্তা, লজিস্টিক, আইটি ও প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন দিক তদারকি হচ্ছে।

সংশোধিত আরপিও-২০২৫ অনুযায়ী, এবার ‘না ভোট’ পুনর্বহাল, ইভিএম বাধ্যবাধকতা বাতিল এবং প্রার্থীর সম্পদ, আয় ও কর তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্বাচনী জামানতও ২০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে।

ইসি সচিব বলেন, ভোট শুধু সংখ্যার হিসাব নয়, এটি আস্থার বিষয়। সেই আস্থা ফিরিয়ে আনাই এখন আমাদের লক্ষ্য।

ভোটের আগে তিন দিন, ভোটের দিন এবং ভোটের পর চার দিনসহ মোট আট দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে থাকবে। এতে দেড় লাখ পুলিশ, এক লাখ সেনাসদস্য এবং আনসার-ভিডিপির সাড়ে পাঁচ লাখ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রথমবারের মতো ‘মিসইনফরমেশন মনিটরিং সেল’ গঠন করা হয়েছে, যা ভুয়া তথ্য ও এআই-নির্ভর বিভ্রান্তিকর প্রচারণা পর্যবেক্ষণ করবে। এ বিষয়ে এনটিএমসি, বিটিআরসি, বুয়েট ও আইসিটি বিভাগের সঙ্গে যৌথভাবে একটি ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড তৈরি হচ্ছে।

প্রবাসী ভোটারদের জন্য ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপ চালু হচ্ছে, যার মাধ্যমে ১১টি দেশে বসবাসরত প্রবাসীরা ডাকে ভোট দিতে পারবেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহিতুল হক বলেন, নির্বাচনের আগে কমিশনের স্বচ্ছতা ও দৃঢ় মনোভাবই জনগণের আস্থা ফেরানোর প্রথম ধাপ। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারলে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্ভব।

গ্রামীণ পর্যায়ে পোস্টার, ব্যানার, রেডিও ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভোটার সচেতনতামূলক প্রচারণা শুরু হয়েছে। এতে নারী ও তরুণ ভোটারদের বিশেষভাবে টার্গেট করা হয়েছে।

আমরা চাই, ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণরা সক্রিয়ভাবে ভোটে অংশ নিক। তাদের অংশগ্রহণেই নির্বাচনে প্রাণ ফিরবে।

নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, এই নির্বাচন বাংলাদেশের গণতন্ত্রের আরেকটি মাইলফলক হবে। জনগণই এবার প্রকৃত বিজয়ী হবে।

সূত্র: বাসস 

এসএস 

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।