দক্ষিণ পূর্ব

জামায়াতের 'দেখাদেখি' এবার খাল খননে চট্টগ্রাম বিএনপি

sathi
sathi
প্রকাশ : ২ মে ২০২৫
পঠিত :
জামায়াতের 'দেখাদেখি' এবার খাল খননে চট্টগ্রাম বিএনপি
নিজস্ব প্রতিবেদক 

জামায়াত ইসলামীর পর এবার চট্টগ্রাম নগরে খাল খনন কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপি। নিজস্ব অর্থায়নে ও স্বেচ্ছাশ্রমে দলটির নেতাকর্মীরা দুইটি খাল খনন ও পরিষ্কার করার পরিকল্পনা নিয়েছে।

আজ শুক্রবার (২ মে) সকালে নগরের কাট্টলী কর্নেলহাটে নাজির খাল ও কালির ছড়া খাল খনন কাজ উদ্বোধন করেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ড বিএনপির অর্থায়নে এই কর্মসূচী হাতে নেওয়া হয়।।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী  বলেন, খাল খনন মানে শুধু পানি নিষ্কাশন না, একটি শহরের পানির যে স্রোত এটা নিশ্চিত করতে হবে। খালের আশেপাশে একটি ভিন্ন অর্থনীতি গড়ে তোলা যাবে। স্থানীয় মানুষদের জন্য একটা বিনোদনের জায়গা করে দেওয়া যেতে পারে, তাদের হাঁটার জন্য ওয়াকওয়ে করে দেওয়া যেতে পারে।

আমীর খসরু আরও বলেন, শহরের মধ্যে প্রতিটি খাল যখন আমরা এভাবে প্রতিস্থাপন করতে পারবো এবং সেই প্রক্রিয়ায় নিয়ে যেতে পারবো তখনই খালের একটি অগ্রগতি হবে। এছাড়াও, খালের পানি নিষ্কাশনের মাধ্যমে কৃষির যে কাজগুলো আছে, সেগুলো অনেক সহজ হয়ে যাবে। তবে পানিগুলো পরিষ্কার রাখতে হবে। 

তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতি, স্লোগান আর বক্তৃতা নয় শুধু, এটা শহীদ জিয়ার রাজনীতি, উন্নয়নের রাজনীতি, উৎপাদনের রাজনীতি। তাই আমাদের এ সমস্ত কাজে সম্পৃক্ত হতে হবে৷ আন্দোলন সংগ্রাম শেষ, এখন দেশ গড়ার সময়৷ দেশ গড়তে হবে এটার জন্যই বিএনপির সৃষ্টি। দেশ গড়ার যত ফর্মুলা আছে এখন সেগুলোকে সামনে আনতে হবে।

চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম শহরে একসময় ৭১ টি গুরুত্বপূর্ণ খাল ছিল। এসব খাল ভরাট হয়ে যাওয়াই নগরীর জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ। এসব খাল খননের দায়িত্ব চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের হওয়ার কথা থাকলেও কিছু অসাধু ব্যক্তির চক্রান্তে নিয়মবহির্ভূতভাবে এই কাজ সিডিএ’র হাতে চলে যায়।সিডিএ ৫৭টি খাল চিহ্নিত করলেও মাত্র ৩৬টি খাল খননের কাজ করছে। অন্যদিকে, সিটি করপোরেশন মাত্র একটি খাল খনন করছে। ফলে অন্তত ২০টি অতি গুরুত্বপূর্ণ খাল খননের আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছে, যার ফলে নগরবাসী এখনও জলাবদ্ধতার ভয়াবহতা থেকে মুক্তি পাচ্ছে না।

তিনি বলেন, খাল খননে পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও সিডিএ প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব নেয়। বারবার মেয়াদ ও ব্যয় বাড়িয়েও তারা প্রকল্পটি শেষ করতে পারেনি, বরং এর মাধ্যমে মেগা দুর্নীতির অভিযোগও উঠেছে।

তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারের সময়ে সিডিএ ও চসিকের প্রধানরা খাল ও নালার ওপর মার্কেট, ভবন ও বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ করেছে। আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর  এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছি। কোনো বাণিজ্যিক স্থাপনা খাল বা নালার ওপর থাকতে পারে না।

নগর বিএনপির আহবায়ক আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমান দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার জন্য খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। তিনি নিজে খাল খনন করে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করে অর্থনৈতিক উন্নয়ন করেছেন। খাদ্য উৎপাদন দিগুণ করে বিদেশে রপ্তানি করেছেন। তারেক রহমান রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা ঘোষণা করেছেন। বিএনপির ৩১ দফার মধ্যে খাল খনন বিষয়ে একটি দফা আছে। বিএনপির ৩১ দফা হচ্ছে আমাদের মুক্তির সনদ।

আবুল হাশেম বক্কর বলেন, গত ১৬ বছরে উন্নয়নের নামে চট্টগ্রাম নগরকে জলাবদ্ধতার নগরীতে পরিণত করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের অবহেলার কারণে জলাবদ্ধতা এখন চট্টগ্রাম নগরের অন্যতম বড় সমস্যা। এই সমস্যা দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত উন্নয়ন কার্যক্রমের ফলে সৃষ্টি হয়েছে। জলাবদ্ধতা চট্টগ্রাম নগরবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তির কারণ। তাই জলাবদ্ধতা নিরসনে দলমত নির্বিশেষে একযোগে কাজ করতে হবে।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সচিব আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা কমান্ডার ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এস এম সাইফুল আলম, কাজী বেলাল উদ্দিন, শাহ আলম, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, মঞ্জুর আলম চৌধুরী মন্জু, মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন দিপ্তী। উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সদস্য আবুল হাশেম, জাফর আহমেদ, বিএনপি নেতা আব্বাস র‌শিদ, আবদুস সাত্তার সে‌লিম, মঈন উ‌দ্দিন চৌধুরী মাঈনু, রেহান উদ্দিন প্রধান, আলী আজম চৌধুরী, আইয়ুব খান, শামছুল আলম সে‌ক্রেটারী, শ ম জামাল উ‌দ্দিন, জ‌মির আহমদ, সাইফুল আলম, হা‌বিবুর রহমান চৌধুরী, কুতুব উ‌দ্দিন চৌধুরী, স‌কিনা বেগম, মো. সে‌লিম, মো. আলাউ‌দ্দিন, মো. শফি প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, এর আগে কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া বির্জাখাল খনন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগর শাখা। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে গত ১৯ এপ্রিল  এ কাজের উদ্বোধন করা হয়। জামায়াত নেতারা বলছেন, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে জনসাধারণের দুর্ভোগ দ্রুত লাঘব করতে তারা এ উদ্যোগ নিয়েছেন। এজন্য দলটি কমপক্ষে এক কোটি টাকা ব্যয় করবে। জামায়াতের সেই উদ্যোগ বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে নগরবাসীর। 

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।