দক্ষিণ পূর্ব

জামায়াত আমিরের সঙ্গে ইইউ প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ

মনির ফয়সাল
মনির ফয়সাল
প্রকাশ : ৭ জানুয়ারী ২০২৬
পঠিত :
জামায়াত আমিরের সঙ্গে ইইউ প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ
দক্ষিণপূর্ব ডেস্ক 

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) সংশ্লিষ্ট ইউরোপীয় এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের পরিচালক পাওলা পাম্পালোনি। 

বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় জামায়াত আমিরের বসুন্ধরাস্থ কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ করতে আসেন তিনি। এ সময় তাকে স্বাগত জানান ডা. শফিকুর রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহমুদুল হাসান ও জামায়াতে ইসলামীর শূরা সদস্য অ্যাডভোকেট শিশির মনির। 

বৈঠকে অংশ নিয়েছেন জামায়াতের নায়েবে আমীর সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বৈঠকে অংশ নেন। 

সাক্ষাৎ শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, আলোচনার মূল বিষয় ছিল আগামী জাতীয় নির্বাচন। এই নির্বাচনে তাদের পর্যবেক্ষক পাঠানো এবং রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ ও ইইউয়ের মধ্যে চুক্তির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। আমরা বলেছি, বাংলাদেশে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অত্যন্ত জরুরি। বিগত ৫৫ বছরে দেশের সৃষ্ট সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল সুষ্ঠু ও সঠিক নির্বাচনের অভাব। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন খুব জরুরি। আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ না হলে সংকট আরও বাড়বে।

তিনি বলেন, গত কয়েক সপ্তাহে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকাণ্ডে দেখা যাচ্ছে, প্রশাসন যেভাবে একটি দলের প্রতি আনুগত্য ও ঝুঁকে পড়েছে, তাতে আগামী নির্বাচন পাতানো হওয়ার নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আমরা মনে করি, অতীতের মতো পাতানো নির্বাচন বাংলাদেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবে। আমরা সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই তারা যেন এখনই নিরপেক্ষ হয়ে বাংলাদেশকে রক্ষার জন্য ভূমিকা পালন করে।

ডা. তাহের বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিনিধি দল বলেছে, তারা এই নির্বাচনে সর্বোচ্চ সংখ্যক পর্যবেক্ষক পাঠাবে। কারণ এর আগের নির্বাচনগুলো সেভাবে অংশগ্রহণমূলক ছিল না। তারা রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কথা বলেছে। আমরা বলেছি, আমরা যদি ক্ষমতায় যাই, তাহলে আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে পরামর্শ করে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে ভূমিকা পালন করব। আগামী নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়ার ব্যাপারে তারা আশাবাদী এবং আমাদের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে যে, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে জামায়াতের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব কিছু করা হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে রাজনৈতিক দলগুলোর সমঝোতা দরকার। তা না হলে শুধু নির্বাচন কমিশন আর সরকার দিয়ে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। সেক্ষেত্রে আমরা সবার সঙ্গে মতবিনিময়ের পক্ষে।

তিনি বলেন, তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় জামায়াত আমির বলেছেন, আগামীতে যারাই ক্ষমতায় আসুক, বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সবার মধ্যে একটি কমন বোঝাপড়া থাকা উচিত। এক্ষেত্রে আমরা বলেছি, আমরা যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাই তাহলে শক্তিশালী একটি বিরোধীদলও থাকবে। আর আমাদের সঙ্গে জোটে যারা নির্বাচন করছে তারা সবাই সরকারে থাকবে। তাই সেটাও কোনো দলীয় সরকার হবে না।

আরেক প্রশ্নের জবাবে একটি দলের প্রধানের নিরাপত্তা নিয়ে সমালোচনা করে ডা. তাহের বলেন, নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হলে আমাকে দুজন পুলিশ দিলে আরেকজনকেও দিতে হবে। আমাকে তিন দিনে ভোটার বানালে আরেকজনকে চার দিনের সুযোগ দেওয়া উচিত। কিন্তু তা হচ্ছে না। এটা সবাই দেখছে। আমরা আশাকরি সরকার এবং নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

এমএইচএফ 

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।