দক্ষিণ পূর্ব

জুলাই ঐক্যে ফাটল, জনপ্রিয়তায় ধস এনসিপির

sathi
sathi
প্রকাশ : ৫ জুন ২০২৫
পঠিত :
জুলাই ঐক্যে ফাটল, জনপ্রিয়তায় ধস এনসিপির
সাইফুল ইসলাম 

স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের পতনের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা। স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনে তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে দল-মত নির্বিশেষে দেশের আপামর জনতা ঝাঁপিয়ে পড়ে। ছিনিয়ে আনে বাংলাদেশের 'নতুন স্বাধীনতা।' যেটা 'জুলাই অভ্যুত্থান' হিসবে পরিচিত হয় বাংলাদেশের মানুষের কাছে। সেই আন্দোলন ঘিরে স্বৈরাচার বিরোধী জাতীয়তবাদী, ইসলামী ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলগুলো একই প্লাটফর্মে এসে গড়ে উঠে জুলাই ঐক্য। হাসিনা সরকারের পতন পরাবর্তী সময়ে দেশের সকল রাজনৈতিক দল ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের মতামতের ভিত্তিতে নোবেলজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্ব গঠন করা হয় অন্তবর্তীকালীন সরকার। সেই সরকারে ছাত্রদের তিনজন প্রতিনিধি যোগ দেয়। তাদের মধ্য ছিলেন নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া, মাহফুজ আলম। দেশের মানুষ স্বপ্ন দেখতে শুরু করে বৈষম্যহীন একটি রাষ্ট্র গঠনের। 

পরে অবশ্য নাহিদ ইসলাম পদত্যাগ করে বৈষম্যবিরোধীদের একটি পক্ষকে নিয়ে রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গঠন করে। তারপর থেকে শুরু হয় হয় বিভাজনের রাজনীতি। দল গঠনের সময় আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া প্রথম সাড়ির কিছু নেতাকে শিবির বলে দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যাল শিক্ষার্থীদের কমিটিতে মূল্যায়ন না করায়, তা নিয়ে তৈরি হয় দ্বন্দ্বে। এই দ্বন্দ্বের কারণে প্রেসার গ্রুপ হিসেবে ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ) নামে আরেকটি দল আত্মপ্রকাশ করে। 


এইসব দ্বন্দে এনসিপির জনপ্রিয়তায় কিছুটা ধ্বংস নামে। এতে দেশের মানুষের স্বপ্ন ভেঙে যায়। আর জুলাই বিপ্লবের ঐক্যের মাঝে তৈরি করে দেয় বিভাজন। আন্দোলনর ক্রেডিট নিয়ে শুরু হয় টানাটানি। বিভাজনের শুরুর জন্য অনেকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের বেফাঁস মন্তব্যেকে দায়ী করে। কখনও তিনি আলেমদেরকে হেয় প্রতিপন্ন করে কথা বলেন, আবার কখনও আন্দোলনে প্রথম সারিতে নেতৃত্ব দেওয়া একটি দলকে নানা ট্যাগ দিয়ে কথা বলার কারণে সেই বিভক্ত আরও চরমে পৌঁছে। 

সম্প্রতি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে গিয়ে এক মন্তব্যের জেরে শিক্ষার্থীদোর রোষানলে পড়েন মাহফুজ। তার দিকে বোতল নিক্ষেপ করা হয়। এছাড়া ফেসবুকে জামাত-শিবিরকে হুমকি দিয়ে পোস্ট করে মাহফুজ আলম বিপাকে পড়েন। তার বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়। সমালোচনায় শুরু হয় নানা মহলে। এতে করে জলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া এনসিপির জনপ্রিয়তায় কিছুটা ধস নামে। এই ধস নামার পিছনে জন্য দলের কিছু নেতার অনিয়ম-দুর্নীতিকেও দায়ী করছেন অনেকে। 

এক টেলিভিশন টকশোতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক সাদিক কায়ুইম মাহফুজ আলমকে ইঙ্গিত করে বলেন, 'শহীদদের রক্তের উপর দিয়ে বসে আপনি উপদেষ্টা হয়েছেন। আবার আচরণ করবেন আপনি হাসিনার মত? আপনি যদি বলেন হাসিনা, তাহলে হাসিনার মতো আপনাকে ডিল করবো। হাসিনাকে যেভাবে ভারত পাঠায় দিসি, আপনার সাথেও সেভাবে ডিল করবো।'

পরে অবশ্য মাহফুজ আলম তার মন্তব্যের জন্য ঐক্য নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় ফেসবুক পোস্ট করে সকলের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। এছাড়া জুলাই ঐক্য বিনষ্টের মূলে ভারতের ষড়যন্ত্রকে দায়ী করেছেন গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৮০টি সংগঠনের ঐকবদ্ধ প্লাটফর্ম 'জুলাই ঐক্য'। গত ২২ মে জুলাইয়ের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক শক্তির মধ্যে ফাটল তৈরি ও ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ র‍্যালি ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে তারা। 

সমাবেশে অংশ নেওয়া সংগঠনগুলোর নেতারা বলেন, 'যে ঐক্য নিয়ে আমরা জুলাই গণঅভ্যুত্থান করেছিলাম সে ঐক্য ভাঙতে দেশি বিদেশি ষড়যন্ত্র হচ্ছে। যারা ষড়যন্ত্র করে জুলাই ঐক্যকে বিনষ্ট করতে চাইবে জুলাইয়ের ছাত্র-জনতা তাদেরকে আবারও দিল্লিতে পাঠিয়ে দেবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে আমরা লড়ে যাব। ভারতীয়, মার্কিন আগ্রাসনে ও দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জুলাইয়ের ছাত্র-জনতা বুক পেতে আবার রাজপথে নেমে আসবে। আমরা আবারও বুকের তাজা রক্ত দেব তবুও বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব নষ্ট হতে দেব না। 

এ সময় বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সচিবালয়ে ফ্যাসিবাদের অনেক দোসর বসে আছে। ৩১ মে এর মধ্যে সচিবালয় থেকে ফ্যাসিবাদের সকল দোসর অপসারণ না করলে সচিবালয় ঘেরাও হবে। জুলাই ঐক্যের আপ বাংলাদেশের প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল মিনহাজ বলেন, অন্তর্র্বতীকালীন সরকারে যে সকল ভারতীদের পুনর্বাসন করা হয়েছে তাদের চিহ্নিত করে অতি দ্রুত অপসারণ করতে হবে। জুলাই ঐক্যের অন্যতম সংগঠক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, 'জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের সুচিকিৎসার না দিয়ে উপদেষ্টারা ক্ষমতা উদযাপন শুরু করেছে। অন্তর্বর্তকালীন সরকারে ভারতীয় আধিপত্যবাদের দোসররা আবারও দেশকে ভারতের কাছে তুলে দিতে চায়। উপদেষ্টা পরিষদে ভারতীয় কোনো দালাল থাকতে পারবে না। জুলাই যোদ্ধারা বেঁচে থাকতে তা সফল হবে না। এবার রাজপথে নামতে হলে আপনাদের উৎখাত করে দেশ ছাড়া করা হবে। যারা জুলাই ঐক্যের ফাটল ধরানোর চেষ্টা করছে তাদের চিহ্নিত করে শাস্তির ব্যবস্থা করুন। এছাড়াও জুলাই স্পিরিট ধরে রেখে নতুন বাংলাদেশ গড়তে সকল ভেদাভেদ ভুলে সকল রাজনৈতিক ও সমাজিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

লেখক :গণমাধ্যম কর্মী

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।