দক্ষিণ পূর্ব

জুলাই পদযাত্রা: কি পেল এনসিপি

RAFIQ HYDER
RAFIQ HYDER
প্রকাশ : ৪ আগস্ট ২০২৫
পঠিত :
জুলাই পদযাত্রা: কি পেল এনসিপি
নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন নাহিদ, হাসনাত, সারিজসরা। তাদের ডাকে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল গোটা জাতি। তাদের ডাকেই মানুষ ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকার হটাতে এক কাতারে এসেছিল। এই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দলবল নিয়ে ভারতে পালিয়ে যায়। এর কিছুদিন পর ‘সেকেন্ড রিপাবলিক প্রতিষ্ঠা’, ‘জনগণের অধিকারভিত্তিক রাষ্ট্র পুনর্গঠন’, ‘নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত’- ধারণাকে সামনে রেখে বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে অভ্যুত্থান ঘটানো ‘বিপ্লবীদের দল’ জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। 

ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের এই বিপ্লবীরা দল গঠনের ঘোষণা দিয়েই নেমে পড়েন রাজনীতির জটিল মাঠে। এ মাঠে প্রথমার্ধের খেলায় দলটির তরুণ নেতারা দেখিয়েছেন মুন্সিয়ানা। একের পর এক নজরকাঁড়া কর্মসূচি দিয়ে চলেছেন তারা। পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলানোর ডাক দিয়ে তারা জুলাই মাসে দেশব্যাপী করেছেন পদযাত্রা। বিপ্লবীদের দলের এই কর্মসূচি ঘিরে ছিল আলোচনা। ছিল বিতর্ক, সমালোচনাও। এমনকি বিভিন্ন জেলায় হামলার শিকারও হয়েছেন তারা। আত্মপ্রকাশের পর থেকেই এনসিপি নানা ধরনের মন্তব্য, সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছে।

রাজনৈতিক সচেতন মহল বলছেন, ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তিনটি রাজনৈতিক ইস্যু সামাল দিয়েছে এনসিপি। একদিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তি উদ্যাপন, অন্যদিকে ‘টিএসসিকেন্দ্রিক দল, ঢাকাকেন্দ্রিক রাজনৈতিক দল’র তকমা ঘুঁচতে পেরেছে এনসিপি। এছাড়া প্রান্তিক মানুষের কাছে নিজেদের উপস্থাপনের সুযোগও নিয়েছে তারা এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে। এনসিপি’র এই কর্মসূচি তাদের দলকে জনগণের কাছেও ভিন্ন আঙিকে ফোকাস করেছে। তাদের কারও কারও বক্তব্য বিতর্কিত হলেও আয়োজনটি হয়েছে সফল। হাসনাত আব্দুল্লাহ’র ‘গরম’ বক্তব্য দৃষ্টি কেঁড়েছে গণমাধ্যমের, ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও। আবার এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্য ঘিরে জমেছে সমালোচনা। তাসনীম জারা, তাজনূভা জাবীনের মতো সেলিব্রেটি ও পেশাজীবী রাজনীতিকদের বক্তব্য আগ্রহভরে শুনেছে রাজনীতি নিয়ে আগ্রহী জনতা। 

সারাদেশে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালিত হলেও গত ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগের হামলার শিকার হন তারা। সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে আওয়ামী লীগের সংঘর্ষে কয়েকজন নিহত হন। সেনাবাহিনীর সহায়তায় এনসিপি নেতারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। ওই ঘটনার তিন দিনের মাথায় ১৯ জুলাই কক্সবাজারে দলটির কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হয়। মঞ্চ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমানের নামের সাথে মিলিয়ে কক্সবাজারের সমাবেশে বিএনপির এক নেতাকে নিয়ে বক্তৃতা দেন এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ওই সমাবেশে ‘গরম’ বক্তব্যের পরই কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। বিএনপি নেতাকর্মীরা চকরিয়ায় এনসিপির পথসভার মঞ্চটা ভেঙে দেয়। পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় এনসিপি নেতাদের গাড়িবহর সেনাবাহিনী নিরাপত্তা দিয়ে বান্দরবানে নিয়ে যায়। পরে রাঙ্গামাটি থেকে জুলাই পদযাত্রা শেষ করে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে জমায়েত করে এনসিপি নেতারা। 

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।