দক্ষিণ পূর্ব

জুলাই শহীদ পরিবারের স্বজনদের সঙ্গে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সাক্ষাৎ

Jalal Rumi
Jalal Rumi
প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০২৬
পঠিত :
জুলাই শহীদ পরিবারের স্বজনদের সঙ্গে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সাক্ষাৎ

সংগৃহীত

কেউ হারিয়েছেন স্বামী, কেউ সন্তান, কেউবা ভাই। আবার কোনো কোনো পরিবার হারিয়েছে একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে স্বজন হারানো এসব পরিবারের অনেকেই এখন আর্থিক সংকট, নিরাপত্তাহীনতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাঁদের দুঃখ-দুর্দশা, অভাব-অভিযোগ ও প্রত্যাশার কথা শুনেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

 

শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এই সাক্ষাৎ শুধু আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ ছিল না। জেলা প্রশাসক প্রত্যেক পরিবারের সদস্যের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেন। তাঁদের সংসার কীভাবে চলছে, সন্তানদের পড়াশোনা কেমন এগোচ্ছে এবং পরিবার কোনো সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে কি না—এসব বিষয়ে খোঁজ নেন তিনি। পাশাপাশি প্রয়োজন হলে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।

 

দুপুর ১২টায় শুরু হওয়া এ আয়োজন চলে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত। এ সময় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহীদ পরিবারের সদস্যদের হাতে উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।

 

তবে দিনের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি হয় শহীদ ওয়াসিম আকরামের পরিবারের সদস্যকে ঘিরে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অন্যরা উপস্থিত হলেও চট্টগ্রামের প্রথম এবং দেশের দ্বিতীয় জুলাই শহীদ হিসেবে পরিচিত ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরামের বোন সাবরিনা ইয়াসমিন সোমা প্রায় এক ঘণ্টা দেরিতে পৌঁছান। ততক্ষণে মূল আয়োজন শেষ হয়ে যায়।

 

এরপরও জেলা প্রশাসক কার্যালয় ত্যাগ করেননি। তিনি নিজ কার্যালয়ে অপেক্ষা করেন ওয়াসিমের পরিবারের সদস্যের জন্য। সাবরিনা ইয়াসমিন পৌঁছালে তাঁকে কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জেলা প্রশাসক তাঁকে স্বাগত জানিয়ে পরিবারের সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

 

সাবরিনা ইয়াসমিন সোমা বলেন, “আমি অনুষ্ঠানের নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে পৌঁছেছিলাম। কিন্তু ডিসি স্যার আমার জন্য অপেক্ষা করেছেন। পরে তাঁর কার্যালয়ে গেলে তিনি হাসিমুখে আমার কথা শুনেছেন। আমাদের পরিবারের সবার খোঁজখবর নিয়েছেন এবং যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।”

 

সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ঈদগাহ বউবাজার এলাকার শহীদ আলমের স্ত্রী । জেলা প্রশাসক তাঁর সংসারের বর্তমান অবস্থা, সন্তানদের লেখাপড়া এবং পরিবারের প্রয়োজনীয় বিষয়ে খোঁজ নেন।

 

ঈদগাহ ঝরনাপাড়া এলাকার শহীদ ইউসুফের স্ত্রী সাজেদা আক্তারের সঙ্গেও কথা বলেন জেলা প্রশাসক। স্বামীকে হারানোর পর সংসার পরিচালনা, সন্তানদের পড়াশোনা এবং পরিবারটি কোনো সংকটে রয়েছে কি না—এসব বিষয়ে জানতে চান তিনি।

 

সাজেদা আক্তার বলেন, “ডিসি স্যার জানতে চেয়েছেন আমরা কেমন আছি, সন্তানদের অবস্থা কেমন এবং আমাদের কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না। কোনো সমস্যায় পড়লে তাঁর কাছে যেতে বলেছেন। আমাদের পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়েছেন।”

 

লোহাগাড়ার আমিরাবাদ এলাকার শহীদ ইশমামুল হকের ভাই মুহিবুল হক পরিবারের নিরাপত্তাহীনতাসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা জেলা প্রশাসকের কাছে তুলে ধরেন।

 

মুহিবুল হক বলেন, “শহীদ পরিবারের সদস্য হিসেবে আমরা প্রাণ খুলে ডিসি স্যারের সঙ্গে কথা বলতে পেরেছি। নিরাপত্তাহীনতাসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা তিনি মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং সেগুলো সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।”

 

চকবাজার-বাকলিয়া এলাকার শহীদ শহীদুল ইসলামের স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগমও পরিবারের নানা সংকটের কথা তুলে ধরেন।

 

তিনি বলেন, “ডিসি স্যার আমাদের সব দুঃখ-দুর্দশার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। যেকোনো বিপদে আমাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।”

 

এ ছাড়া সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন শহীদ ওমর বিন নুরুল আবছারের মা রুবি আক্তার, শহীদ মাহামদুর রহমান সৈকতের চাচা আমজাদ হোসেন, শহীদ জামালের স্ত্রী তসলিমা বেগম এবং শহীদ মাহিনের মা রহিমা। তাঁরা আর্থিক অসচ্ছলতা, নিরাপত্তা, সন্তানদের ভবিষ্যৎ এবং দৈনন্দিন জীবনের নানা সংকটের কথা জেলা প্রশাসকের কাছে তুলে ধরেন।

 

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা প্রত্যেকের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন। তিনি বলেন, শহীদ পরিবারগুলো একা নয়। জেলা প্রশাসন তাঁদের পাশে থাকবে। কোনো সমস্যা বা জরুরি প্রয়োজন দেখা দিলে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বানও জানান তিনি।

 

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।