টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার সারতৈল এলাকায় রডবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন। সোমবার (২৫ মে) ভোর ৫টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের যমুনা সেতু সংযোগ সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে ১৩ জনের বাড়ি নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার ভারশো ইউনিয়নের রাজেন্দ্রবাটি ও চিকলাভোলা এলাকায়। বাকি দুজনের বাড়ি রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। নিহত ও আহতরা সবাই শ্রমিক শ্রেণির যাত্রী ছিলেন এবং রডবোঝাই ট্রাকে করে উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিলেন।
নিহতদের মধ্যে পরিচয় শনাক্ত হওয়া কয়েকজন হলেন— সাগর মিয়া (২০), রবিউল ইসলাম (২৫), ইসমাইল হোসেন (১৯), নজরুল (৬০), মামুন (৪৫) ও সারিকুল (২৫)। এছাড়া আরও নয়জনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন বাবু (৩৫), আব্দুল রহমান (৩৫), তুহিন, আলমগীর (৪০), সিদ্দিক আলী (৪০), খোরশেদ (২৬), সমেজ ও নয়ন বিশ্বাস (৩২)। আহতদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সংবাদ পেয়ে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ, যমুনা সেতু পূর্ব থানা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও এলেঙ্গা ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়। পরে রেকারের সহায়তায় দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি উদ্ধার করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফৌজিয়া হাবিব জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা রডবোঝাই ট্রাকটি যাত্রী নিয়ে উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিল। কালিহাতীর সারতৈল এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্রাকটি মহাসড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ১৫ জন নিহত হন।
এদিকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম দুর্ঘটনার জন্য চালকের অসাবধানতাকেই দায়ী করেছেন। সোমবার রাজধানীর ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী চালকের ভুলের কারণেই এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। সড়ক ব্যবস্থাপনায় কোনো ত্রুটি ছিল না।”
মন্ত্রী আরও বলেন, ঈদযাত্রাকে সামনে রেখে আগামী দুদিনে দেড় কোটির বেশি মানুষ ঢাকা ছাড়বেন। তিনি যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্ধারিত পরিবহনে ভ্রমণের আহ্বান জানান এবং ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন।যমুনা সেতু পূর্ব থানার পুলিশ নিহতদের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতসহ পরিচয় শনাক্তের কাজ করছে।
আরএইচ