দক্ষিণ পূর্ব

চট্টগ্রামে ট্রেনের ধাক্কায় দুমড়ে মুচড়ে গেছে সিএনজি অটোরিকশা-মাইক্রোবাস

mainulislam
mainulislam
প্রকাশ : ৫ জুন ২০২৫
পঠিত :
চট্টগ্রামে ট্রেনের ধাক্কায় দুমড়ে মুচড়ে গেছে সিএনজি অটোরিকশা-মাইক্রোবাস
নিজস্ব প্রতিবেদক:

চট্টগ্রামের কালুরঘাট ব্রিজে কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা পর্যটন এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় একটি সিএনজি অটোরিকশা, একটি মাইক্রোবাসসহ বেশ কয়েকটি যানবাহন দুমড়ে মুচড়ে গেছে। এতে সিএনজি অটোরিকশার চালক, একটি শিশুসহ অন্তত ৪-৫ নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। তবে নিহতের সংখ্যা কোন সূত্র থেকে তাৎক্ষণিক নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ট্রেনটির প্রায় হাজার খানেক নারী-পুরুষ, শিশু যাত্রী ভেতরে আটকা পড়েছেন। খবর পেয়ে রেলওয়ের উদ্ধার টীম ঘটনাস্থলে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। 

বৃহস্পতিবার (৫ জুন) রাত ১০টা ১৫ মিনিটে চট্টগ্রামের কালুরঘাট ব্রিজের উপর মর্মান্তিক এ দূর্ঘটনা ঘটে। 

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রাত ১০টা ১৫ মিনিটে পর্যটক এক্সপ্রেস কালুরঘাট ব্রিজ অতিক্রমকালে এজটি সিএনজি অটোরিকশা, একটি মাইক্রোবাসসহ কয়েকটি যানবাহনকে ধাক্কা দেয়। এতে একটি সিএনজি অটোরিকশা ট্রেনটির সামনে দুমড়ে মুচড়ে যায়। একইসাথে একটি মাইক্রোবাসসহ আরও কয়েকটি যানবাহন দুমড়ে মুচড়ে গেছে বলে জানা যায়।  এতে ঘটনাস্থলেই কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। 

সূত্রে জানা যায়, সিএনজি অটোরিকশাটি প্রথমে সিগন্যাল অমান্য করে রেলক্রসিংয়ে ওঠে যায়। ট্রেনটির একজন যাত্রী বলেন, আমরা এই মুহুর্তে ট্রেনে আটকে আছি। ট্রেনটির অর্ধেক রেলক্রসিংয়ের উপর বাকি অর্ধেক ব্রিজের উপর। এজন্য কেউ ট্রেন থেকে নামার সুযোগ পাচ্ছেন না। সবাই এক ধরণের আতঙ্কে আছেন। সামনে কি হয়েছে তাও অনেকের অজানা। তবে দূর্ঘটনার আহাজারি, একাধিক মৃত্যু খবর শুনাতে শিশু ও নারীরা উদ্বেগ প্রকাশ করছে। 

জানা যায়, সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসে পর্যটক এক্সপ্রেস। এরপর রাত দশটা ১৫ মিনিটের দিকে কালুরঘাট ব্রিজ অতিক্রমকালে সেখানের কালুরঘাট রেলক্রসিংয়ে সিএনজি অটোরিকশা, মাইক্রোবাসসহ কয়েকটি যানবাহনকে ধাক্কা দেয় ট্রেনটি। তবে কেন কিংবা কার অবহেলায় এ দূর্ঘটনা ঘটেছে তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনটি থেমে আছে। সামনে একটি সিএনজি অটোরিকশা ট্রেনের নিচে দুমড়ে মুচড়ে গেছে। পাশে আরও একটি মোটরসাইকেলও ট্রেনের তলায় বিধ্বস্ত অবস্থায় রয়েছে।  স্থানীয়রা সেখান থেকে আহত-নিহতদের উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে। একটি শিশুকে নিয়ে একজন পুরুষ এদিক ওদিক ছোটাছুটি করছে। ভিডিও'র পোস্টে লেখা হয়েছে, শিশুটির মৃত্যু হয়েছে কিন্তুু তার মা ট্রেনের নিচে চাপা পড়েছে। তবে তারা কোন যানবাহনের যাত্রী তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। 

কালুরঘাট ফায়ার স্টেশনের ফায়ার ফাইটার আমিনুল ইসলাম জানান, রাত পৌনে ১১টার দিকে তারা দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়েছেন। তাদের স্টেশন থেকে অ্যাম্বুলেন্সসহ দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। হতাহতদের উদ্ধার কাজ চলমান রয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের পরিমাণ জানা নেই।

চমেক পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক আলাউদ্দিন তালুকদার জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে আহত পাঁচজনকে হাসপাতালের ক্যাজুয়ালিটি ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মনিরুজ্জামানকে কল করা হলে তিনি এ বিষয়ে জানেন না বলে জানিয়ে দেন। পরে রেলওয়ে থানার ওসি শহিদুল ইসলামকে কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

এম

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।