নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা না দেওয়ার সুস্পষ্ট সরকারি ঘোষণা সহ চার দফা দাবিতে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট স্থগিত হচ্ছে না। আন্দোলনরত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বন্দর কর্তৃপক্ষের নেওয়া একাধিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থাকে এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে পরিষদ।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর ও মো. ইব্রাহিম খোকনের সই করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ মোট পাঁচ ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—পাঁচজন কর্মচারীকে গ্রেপ্তার ও মিথ্যা মামলা, বন্দর, ডবলমুরিং ও আকবর শাহ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি), শাস্তিমূলক বদলি, দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) চিঠি দেওয়া, বরাদ্দকৃত বাসা বাতিল এবং ১৪ জন কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা। এসব পদক্ষেপকে ‘স্বৈরাচারী ও হয়রানিমূলক’ আখ্যা দিয়ে তা অবিলম্বে বাতিল ও বন্ধের দাবি জানানো হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৫ ফেব্রুয়ারির আলোচনার প্রসঙ্গে মাননীয় উপদেষ্টা ও বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে, বর্তমান সরকারের মেয়াদে এনসিটি চুক্তি আর এগোনো হবে না এবং ডিপি ওয়ার্ল্ড এ বিষয়ে সময় চেয়েছে। এ প্রসঙ্গে পরিষদের বক্তব্য—ডিপি ওয়ার্ল্ড এবং সরকার যেন এই চুক্তি থেকে পুরোপুরি সরে আসে।
বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ জানায়, দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য নির্বিঘ্ন রাখতে, পাশাপাশি রমজান ও জাতীয় নির্বাচনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ধর্মঘটের কর্মসূচি স্থগিত করার বিষয়ে তারা চিন্তাভাবনা করেছিল। তবে কর্তৃপক্ষের স্বৈরাচারী মনোভাব ও দমনমূলক পদক্ষেপই কর্মসূচি স্থগিতের প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে দাবি করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকার ও কর্তৃপক্ষ যত দ্রুত সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নেবে, কর্মসূচি স্থগিতের বিষয়টি তত দ্রুত পুনর্বিবেচনা করা সম্ভব হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়।
উল্লেখ্য, রোববার সকাল আটটা থেকে চার দফা দাবিতে চট্টগ্রাম বন্দরের জেটি, ইয়ার্ড, টার্মিনাল ও বহির্নোঙরে অনির্দিষ্টকালের শ্রমিক ধর্মঘট শুরু করে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা না দেওয়ার ঘোষণা, বর্তমান বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানকে প্রত্যাহার, পূর্ববর্তী আন্দোলনের ঘটনায় শাস্তিমূলক বদলি, চার্জশিট, সাময়িক বরখাস্ত ও পদাবনতিসহ সব ব্যবস্থা বাতিল করে কর্মচারীদের নিজ নিজ পদে পুনর্বহাল।
এই কর্মসূচিতে সমর্থন জানিয়েছে শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (স্কপ)। অন্যদিকে বিজিএমইএসহ শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন ও বন্দর ব্যবহারকারীরা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এদিন দুপুরে বন্দর ভবনের সামনে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান।
আরএইচ