ডিবি পরিচয়ে প্রবাসীর কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ ছিনতাইয়ের ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) ডিবি দক্ষিণ বিভাগ। তাদের কাছ থেকে ৫ ভরি ১৫ আনা স্বর্ণালংকার এবং স্বর্ণ বিক্রির নগদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে ডিবি দক্ষিণের উপ-কমিশনার শেখ শরীফুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন— মো. সোহেল ওরফে সোহেল রানা (৪০) ও উত্তম চৌধুরী ওরফে রবি চৌধুরী (৪০)।
পুলিশ জানায়, মামলার বাদী শফিউল আলম গত ১৪ ফেব্রুয়ারি সকালে দুবাই থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ পৌঁছান। পরে সকাল পৌনে ১০টার দিকে ভাড়া করা গাড়িতে নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকার বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সকাল সোয়া ১০টার দিকে ওয়াসিম আকরাম এক্সপ্রেসওয়ে এলাকায় পৌঁছালে একটি নোহা গাড়ি তার গাড়ির গতিরোধ করে।
এ সময় চার ব্যক্তি নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে তার কাছে থাকা প্রায় ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার—৪টি নেকলেস, ১০টি আংটি, ২টি বালা ও ৩টি চেইন—ছিনিয়ে নেয়। এ ছাড়া একাধিক মোবাইল ফোন, একটি ল্যাপটপ, নগদ অর্থ ও বৈদেশিক মুদ্রাও নিয়ে যায় তারা। পরে এ ঘটনায় খুলশী থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী।
ডিবি সূত্র জানায়, ঘটনার তদন্তে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) নগরের কাজীর দেউড়ি এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হাটহাজারীর ইছাপুর বাজারের আমিন মার্কেটের একটি জুয়েলার্স প্রতিষ্ঠান থেকে স্বর্ণ কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত উত্তম চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে ছিনতাইকৃত স্বর্ণ বিক্রির নগদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।
পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হাটহাজারী বাজারের একটি শপিং সেন্টারের জুয়েলার্স দোকান থেকে ৬৯ দশমিক ৩৯ গ্রাম ছিনতাইকৃত স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল রানা পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনি সহযোগীদের নিয়ে বিদেশফেরত প্রবাসীদের টার্গেট করে ডিবি পরিচয়ে ছিনতাই করতেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ছিনতাইসহ একাধিক মামলা রয়েছে।ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আরএইচ