দক্ষিণ পূর্ব

ডিসেম্বরেই তিন টার্মিনালকে বিদেশিদের কাছে তুলে ধরা হবে: বিডা চেয়ারম্যান

RAFIQ HYDER
RAFIQ HYDER
প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২৫
পঠিত :
ডিসেম্বরেই তিন টার্মিনালকে বিদেশিদের কাছে তুলে ধরা হবে: বিডা চেয়ারম্যান
নিজস্ব প্রতিবেদক:

এ বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই চট্টগ্রাম বন্দরের তিন টার্মিনাল লালদিয়া, বে টার্মিনাল ও এনসিটি কে বিদেশিদের কাছে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে চাই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এর নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। 

 রবিবার (১০ আগস্ট) বিকেল ৪ টায় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি বন্দরের ৪ নং গেট সংলগ্ন এলাকায় শিপিং এন্ড লজিস্টিক এজেন্ট ডেস্ক উদ্বোধন করেন।

বিডা চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক বলেন, গত বছরের জুলাই মাসে লঝিস্টিক্যাল ভাঙ্গনের কারণে একটা বড় ধরনের ব্যাকলগ তৈরি হয়েছিল, তখন ব্যবসায়ীরা বুঝতেছিল না যে কি করবে, এই ব্যাকলগ কিভাবে উত্তোরন হবে। চট্টগ্রাম বন্দর কিভাবে পরিচালিত হবে, কিভাবে উন্নয়ন হবে, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি সেটা নিয়ে আমাদের একটা কনসার্ন ছিল। ইনভেস্টমেন্ট সামিট থেকে শুরু করে আমরা বারবার বলে আসছি যে বাংলাদেশের জনশক্তি কে কিভাবে কাজে লাগানো যায় সেজন্য বাংলাদেশের বন্দরগুলোকে গ্লোবাল ফ্যাক্টরিতে রূপান্তর করতে হবে। গ্লোবাল ফ্যাক্টরি হতে গেলে চট্টগ্রাম বন্দরকে একদম চুড়ান্ত পর্যায়ে পারফর্ম করতে হবে। তার সক্ষমতাকে ১০০% - ১৫০ %  এ উন্নীত করতে হবে। আর সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর হলো বাংলাদেশের অর্থনীতির মুল চালিকাশক্তি। এটা যদি ঠিকঠাক মতো কাজ না করে তাহলে বাংলাদেশের অন্যান্য অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান গুলো চলবে না, তাহলে আমরা বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে আটকে যাবো। একটা খুশির খবর হলো গতকাল একটা পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চিটাগং ড্রাইডক দায়িত্ব নেয়ার পর শতকরা ৩০ শতাংশ কন্টেইনার হ্যান্ডলিং বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেকেই আশংকা প্রকাশ করেছিলেন যে একটা অপারেটর থেকে নিয়ে আরেকটা অপারেটরকে দিলে দেশের কি হবে, হঠাৎ ৭ দিনের জন্য থেমে গেলে কি হবে, সেজন্য আমরা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, সিডিডিএল ও বাংলাদেশ নেভির  সাথে কাজ করে ট্রানজেকশন করিয়েছি। সেজন্য ৩০ শতাংশ ভলিউম বেড়েছে আর সময় কমেছে ১৩ শতাংশ যেগুলো সব সুখবর আমাদের জন্য। 

তিনি আরো বলেন, আমরা সবসময় বলে এসেছি যে বাংলাদেশের বন্দর গুলো গ্লোবাল  র‍্যাংকিংটা এক নম্বরে থাকতে হবে আমাদের নিজেদের স্বার্থের কারণে। এর আগে আমরা একটা সফটওয়্যার সিস্টেম উদ্বোধন করেছি যেটা সবকিছু অটোমেটিক হয়ে যাবে। অটোমেটিক হলে ২টি সুবিধা, প্রথম সুবিধা হলো যে কাজটি করতে ২-৭ দিন সময় লাগতো সেটা ঘরে বসে মুহুর্তের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন করা যাবে। আরেকটা হলো দুর্নীতি রোধে এটা কাজ করবে। কার্যক্রম যত অটোমেটিক করা যাবে ততই আমরা ভালো ফলাফল পাবো। টেকনোলজি কে আমাদের জীবনে কাজে লাগাতে হবে।

আশিক চৌধুরী বলেন, বন্দর নিয়ে আমাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছিল। ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের টোটাল পোর্ট ক্যাপাসিটি ৪-৫ গুন বৃদ্ধি পাবে। বাংলাদেশের আমদানি- রপ্তানিতে কম সময়ে আদান-প্রদান করা যাবে। পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে আর বাংলাদেশ পিছিয়ে যাচ্ছে। কারণ হলো বাংলাদেশে ৫ বছরের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয় ১৫ বছরে। যার কারণে  দেশ বিশ্ব থেকে পিছিয়ে যাচ্ছে। তাই আমরা দ্রুত এগোতে চাই। ডিসেম্বরের মধ্যে আমরা আমাদের বড় যে পোর্টগুলো আছে সেগুলোকে খুব মাইলস্টোন করে দিয়ে যেতে চাই, কিছু এগ্রিমেন্ট করে যেতে চাই।

এ সময় চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মুনিরুজ্জামান, বন্দর সচিব মোহাম্মদ ওমর ফারুক এবং বিডা ও নৌ-পরিবহন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এরপর বিডা চেয়ারম্যান বিকেলে  KEPZ গ্রীন চ্যানেল পরিদর্শন (F Shed) করেন, এরপর সিপিএআর গেইটে ভেহিক্যাল ও কন্টেইনার ডিজিটাল ডেস্ক উদ্বোধন করেন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।