নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত তারুণ্যের সমাবেশে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা ও সাংবাদিকদের হেনস্তা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ ওঠেছে। শুধু তাই নয় মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকদের মোবাইল সাংবাদিক বলেও কটাক্ষ করা হয়েছে।
শনিবার (১০) পলোগ্রাউন্ড মাঠে তারুণ্যের সমাবেশ চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। এতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা নিন্দা জানিয়েছেন।
জানা যায়, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বক্তব্য দেওয়ার সময় কয়েকজন সাংবাদিক ছবি তুলতে গেলে তাদেরকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ওয়াকিটকি হাতে এক ব্যক্তি তাদেরকে কটাক্ষ করেন এবং অশোভন আচরণ করেন বলে সাংবাদিকদের অভিযোগ।
সিনিয়র নেতারা দাঁড়িয়ে শুনলেন বক্তৃতা।সমাবেশের মঞ্চের সামনে চট্টগ্রাম বিভাগের বিএনপি ও সিনিয়র নেতাদের জন্য নির্ধারিত আসন ছিল। তবে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মিছিলকারীরা মঞ্চের সামনে ভিড় করে বসার জায়গা দখল করে নেয়, ফলে চেয়ার সরিয়ে ফেলতে হয়। এতে সিনিয়র নেতাদের দাঁড়িয়ে থেকে বক্তব্য শুনতে হয়। কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মহিলা দলের অনেক নেত্রীও নিরাপত্তাহীনতায় পড়ে মাঝপথেই অনুষ্ঠান ত্যাগ করেন।
সমাবেশে সাংবাদিকদের সঙ্গে ঘটে অপ্রীতিকর ঘটনা। ফটো সাংবাদিকদের মধ্যে দেশ রূপান্তর, খবরের কাগজ, বাংলানিউজ২৪, কালবেলা–সহ একাধিক গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের মঞ্চে ছবি তুলতে বাধা দেওয়া হয়। এমনকি কয়েকজন ফটো সাংবাদিককে ধাক্কা দিয়ে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দিতেও দেখা যায়।
মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকদের মধ্যেও আজকের পত্রিকা, সিএইচডি, কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ টাইমস, দৈনিক জনবানী, যায়যায়দিন, সিটিজি নিউজ–সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। অনেককে ‘অনলাইন সাংবাদিক’ বা ‘মোবাইল সাংবাদিক’ বলে তাচ্ছিল্য করা হয় এবং হেনস্তার শিকার হতে হয়। পরে ব্যারিষ্টার মীর হেলালের হস্তক্ষেপে বিষয়টি মিটামাট হয়।
এদিকে সাংবাদিকদের সাথে এ ধরনের আচরণে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলছেন, “এটা শুধু পেশাগত দায়িত্বে বাধা নয়, বরং সাংবাদিকতার প্রতি অশ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ।” যেখানে পুরো বিশ্বে মোবাইল জার্নালিজমের যুগ চলছে। সেখানে এভাবে মোবাইল বলে কটাক্ষ করা কোনভাবেই কাম্য নয়। যারা এসব শব্দ উল্লেখ করেন তারাও সারাক্ষণ মোবাইলে ক্রল করে পুরো পৃথিবীর খবর জানার চেষ্টা করেন। আগামীর দুনিয়ারটা মোবাইল সাংবাদিকতার। মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকরাই সবার আগে সব খবর পৌঁছে দেয়।
জানা গেছে, দেশের প্রথম সারির পত্রিকা ও অনলাইন মাল্টিমিডিয়ার ফটো ও মোবাইল সাংবাদিকদের ছবি ও ভিডিও সংগ্রহে বাধা দেওয়া হয়েছে সমাবেশে। মঞ্চে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা মোবাইল ফোনে ফুটেজ নিতে বাধা দেন এবং ‘মোবাইল সাংবাদিক’ বলে কটাক্ষ করেন।চট্টগ্রামের স্থানীয় সাংবাদিকরা বিষয়টি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জাতীয় রাজনীতির এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সমাবেশে সাংবাদিকদের প্রতি এমন আচরণ দুঃখজনক এবং অগ্রহণযোগ্য। তাছাড়া সাংবাদিকদের বসার কিংবা ফুটেজ ধারণের ভালো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। যা বারবার করা হয়ে থাকে।
অপরদিকে তারুণ্যের সমাবেশে নারীদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠেছে। উপস্থিতির সংখ্যায় বেশি পুরুষ হলেও নারীদের জন্য নেওয়া হয়েছে তুচ্ছ ব্যবস্থা। ফলে কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালীসহ দূরদূরান্ত থেকে আসা নারী নেতাকর্মীরা নিরাপত্তার, সুব্যবস্থার অভাবে প্রধান অতিথি আসার আগেই সমাবেশস্থল ত্যাগ করেন। তারা ক্ষোভ করে বলেন, যেখানে নারীদের বসার জন্য চেয়ার দেওয়া হয়েছে সেখানে পুরুষরা বসে গেছেন।
এম